টটেনহ্যামকে বড় জয় উপহার দিলেন সুপার সন

নয়া দিগন্ত অনলাইন

হ্যারি কেনের অনুপস্থিতি কোনভাবেই বুঝতে দেননি প্রিমিয়ার লীগে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড ধরে রাখা এই ইংলিশ তারকার সতীর্থরা। গতকাল গোঁড়ালির ইনজুরির কারণে মাঠ থেকে বেরিয়া যাওয়া কেন বিহীন টটেনহ্যাম হটস্পারকে বড় জয় উপহার দিয়েছেন সন, ডেলে আলীরা। বোর্নমাউথের বিপক্ষে দক্ষিণ কোরিয়ান তারকা স্ট্রাইকার সন হেয়াং-মিনের জোড়া গোলে স্পারসা জিতেছে ৪-১ গোলে। এই নিয়ে চার ম্যাচে সাত গোল করলেন সুপার সন।

ম্যাচ শুরুর সাত মিনিটের মধ্যে জুনিয়র স্টানিসলাসের গোলে ঘরের মাঠ ভিটালিটি স্টেডিয়ামে এগিয়ে গিয়েছিল বোর্নমাউথ। কিন্তু ৩৪ মিনিটে ইনজুরির কারণে কেনের মাঠ ত্যাগের পরের মিনিটেই টটেনহ্যামকে সমতায় ফেরান ডেলে আলী। এরপরপরই ম্যাচের নায়কে পরিণত হন সন। দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝিতে এই দক্ষিণ কোরিয়ান দলকে এগিয়ে দেন ও ৮৭ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে দলের জয় নিশ্চিত করেন। স্টপেজ টাইমে সার্জি অরিয়ারের হেডে বড় জয় নিশ্চিত হয় মরিসিও পোচেত্তিনোর দলের। চ্যাম্পিয়নস লীগে জুভেন্টাসের কাছে পরাজিত হয়ে বিদায় নেয়া টটেনহ্যাম এই জয়ে লিভারপুলকে এক পয়েন্টে পিছনে ফেলে প্রিমিয়ার লীগ টেবিলের তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে।

ম্যাচে জয়ী হলেও গোঁড়ালির ইনজুরির কারণে দলের সুপারস্টার কেনের মাঠত্যাগ পোচেত্তিনোকে ভাবিয়ে তুলেছে। গত মৌসুমে একই কারণে দু’বার কেনকে হারাতে হয়েছিল। আগামী শনিবার এফএ কাপে সোয়ানসি সিটি ভ্রমণে যাবার পরে ১১ এপ্রিল চেলসির বিপক্ষে ম্যাচের আগে স্পারসদের আপাতত আর কোন খেলা নেই। সপ্তাহের মাঝামাঝিতে জুভেন্টাসের কাছে পরাজিত হয়ে ইউরোপীয়ান শীর্ষ লীগ থেকে বিদায় নেবার পরে পোচেত্তিনো দলের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনার ব্যপারে বেশ চিন্তিত ছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোচকে হতাশ হতে হয়নি।

যদিও সফরকারীদের জন্য ম্যাচের শুরুটা মোটেই ভাল হয়নি। চার মিনিটের মধ্যে লুইস কুকের থ্রু বল থেকে লিস মোসেটের বাড়ানো পাসে স্টানিসলাস গোল করতে ব্যর্থ হলেও এতে টটেনহ্যামের রক্ষণভাগের দুর্বলতা দারুনভাবে চোখে পড়েছে। যদিও গোলরক্ষক হুগো লোরিস এগিয়ে আসলে তার মাথার উপর দিয়ে স্টানিসলাসের লফটেড শট বাড়ে লেগে ফেরত আসে। তিন মিনিটের মধ্যে আর শেষ রক্ষা হয়নি। এ্যাডাম স্মিথের ক্রসে স্টানিসলাসই গোল করে স্বাগতিকদের এগিয়ে দেন। ২৯ মিনিটে ক্রিস্টিয়ান এরিকসেনের রাইট উইং ক্রস থেকে কেনের গোল অফ-সাইডের কারণে বাতিল হয়ে যায়। পাঁচ মিনিট পরে তারকা এই স্ট্রাইকার বোর্নমাউথ গোলরক্ষক আসমির বেগোভিচের সাথে ধাক্কা লেগে মাঠ ত্যাগ করলে চিন্তিত হয়ে পড়ে স্পারস শিবির। দলের সর্বোচ্চ গোলদাতাকে হারিয়ে নতুন উদ্দীপনায় যেন ম্যাচে ফিরে আসে স্পারসরা। মিনিট খানেক পরেই কেনের পরিবর্তে মাঠে নামা এরিক লামেলার বাড়ানো বল থেকে অরিয়ারের লা ক্রসে আলী ম্যাচে সমতা ফেরান। এটি ছিল এবারের মৌসুমে আলীর ১০ম গোল।

বিরতির আগ পর্যন্ত নিজেদের ধরে রেখেছিল বোর্নমাউথ। কিন্তু বিরতির পরে পোচেত্তিনোর দলকে মোকাবেলা করার কৌশল জানা ছিলনা স্বাগতিকদের। ৬২ মিনিটে সন মৌসুমের ১৭তম গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। অল্পের জন্য সনের গোলটি অফ-সাইড হয়নি। এই গোলে সনকে সহায়তা করেছে আলী। ৮৭ মিনিটে অনেকটা একক প্রচেষ্টায় সন নিজের দ্বিতীয় গোল করলে টটেনহ্যামের জয় নিশ্চিত হয়। কিয়েরান ট্রিপারের ক্রস থেকে স্টপেজ টাইমে অরিয়ার দলের পক্ষে চতুর্থ গোল করলে বড় জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে সফরকারীরা।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.