এক শিক্ষিকার কাণ্ড
এক শিক্ষিকার কাণ্ড

এক শিক্ষিকার কাণ্ড

এএসএম জসিম, পাথরঘাটা (বরগুনা)

বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কাকচিড়া ইউনিয়নের জালিয়াঘাটা এসইএসডিপি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের সেই বিতর্কিত শিক্ষিকা মোসা. দুলি আক্তারের বিরুদ্ধে লাখ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগের প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি।

২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের মধ্যে উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয় থেকে টেস্ট পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করে একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য পরীক্ষার্থীরা জালিয়াঘাটা এসইএসডিপি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ফরম পূরণ করেও পরীক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়। পরে ওই সকল অকৃতকার্য পরীক্ষার্থীর মধ্যে উপজেলার একাধিক মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ৪৭ জন পরীক্ষার্থীকে জালিয়াঘাটা এসইএসডিপি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা মোসা. দুলি আক্তার তাদের বিদ্যালয় থেকে অকৃতকার্য পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ভালো ফলাফলের প্রলোভন দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জন প্রতি ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিয়ে পরীক্ষার ফরম পূরণ ফি-শিক্ষা বোর্ডে জমা না দিয়ে সকল টাকা আত্মসাৎ করে ব্যাক্তিগত কাজে ব্যয় করেন। যার ফলে দুলি আক্তারের কাছে ফরম ফি-বাবদ টাকা জমা দেয়া ৪৭ পরীক্ষার্থী ২০১৬-২০১৭ শিক্ষাবর্ষের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেনি।

বিষয়টি নিয়ে গত ৪ ফেব্রুয়ারি দৈনিক নয়াদিগন্ত পত্রিকায় “পাথরঘাটায় প্রবেশপত্র পায়নি অর্ধশত পরীক্ষর্থী” এই শিরোনামে খবর প্রকাশ হওয়ার পর পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হুমায়ুন কবির একটি তদন্ত কমিটি করে ৩ মার্চ সরেজমিন বিদ্যালয় গিয়ে পরীক্ষা থেকে বঞ্চিত ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকদের সাথে কথা বলাসহ লিখিত স্বাক্ষর গ্রহণ করে দুলি আক্তারের বিরুদ্ধে পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়াসহ বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগের প্রমাণ পান।

অভিযুক্ত দুলি আক্তারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি সকলের টাকা ফেরত দিয়ে দিব।

এব্যাপারে তদন্ত কমিটির প্রধান পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হুমায়ুন কবির বলেন, বিষয়টির ব্যাপারে সরেজমিনে গিয়ে তদন্ত করা হয়েছে এবং শিক্ষিকা দুলি আক্তারের বিরুদ্ধে পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা গ্রহণ করার অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে। কর্তৃপক্ষ বরাবর প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

পাথরঘাটা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তফা আলম বলেন, এ ঘটনায় দুলি আক্তারের দুর্নীতির সত্যতা পাওয়া গেছে। আমরা কর্তৃপক্ষ কাছে প্রতিবেদন পাঠাচ্ছি।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.