শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক দিনেশ চান্ডিমাল
শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক দিনেশ চান্ডিমাল

'নিষিদ্ধ' লঙ্কান অধিনায়ক, খেলা হচ্ছে না বাংলাদেশের বিপক্ষে

নয়া দিগন্ত অনলাইন

স্লো ওভার রেটের কারণে দুই ম্যাচ নিষিদ্ধ হলেন শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক দিনেশ চান্ডিমাল। পাশাপাশি শ্রীলঙ্কার দলের প্রত্যক খেলোয়াড়কে ম্যাচ ফি’র ৬০ শতাংশ জরিমানাও গুণতে হবে। জরিমানা কবল থেকে নিস্তার পায়নি বাংলাদেশও। অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদকে ২০ শতাংশ এবং দলের অন্যান্য সতীর্থদের ১০ শতাংশ জরিমানা করেছে ক্রিকেটের প্রধান সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। আইসিসির এলিট প্যানেলের ম্যাচ রেফারি ক্রিস ব্রড এ শাস্তি দেন।

শনিবার বাংলাদেশের বিপক্ষে লিগ পর্বের তৃতীয় ম্যাচে ফিল্ডিং চলাকালীন নির্ধারিত সময়ের চেয়ে চার ওভার বেশি সময় ব্যয় করেছে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দল। তাই দলের প্রত্যককে ম্যাচ ফি’র ৬০ শতাংশ জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি দুই ম্যাচ নিষেধাজ্ঞাও পেলেন চান্ডিমাল। কারণ আইসিসি কোড অব কন্ডাক্টের ২.৫.২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দুই ওভারের বেশি সময় নষ্ট হলে সেটি গুরুতর অপরাধ হিসেবে ধরা হবে। তাই দুটি নিষেধাজ্ঞা পয়েন্টও পান চান্ডিমাল। ফলে নিয়নুযায়ী দুটি নিষেধাজ্ঞা পয়েন্টের জন্য একটি টেস্ট, দুটি ওয়ানডে ও দুটি টি-২০ ম্যাচ নিষিদ্ধ হবেন খেলোয়াড়রা।

সেই সুবাদে চলমান নিদাহাস ট্রফিতে লিগ পর্বে শ্রীলঙ্কার শেষ দুটি ম্যচে খেলতে পারবেন না চান্ডিমাল। তাই শ্রীলঙ্কা দলকে নেতৃত্ব দিবেন অলরাউন্ডার থিসারা পেরেরা।

অন্যদিকে, এক ওভার বেশি সময় ব্যয় করায় ম্যাচ ফি’র ২০ শতাংশ বাংলাদেশ অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহকে এবং দলের অন্যান্য সতীর্থদের ১০ শতাংশ জরিমানা করে আইসিসি। আগামী ১২ মাসের মধ্যে অধিনায়ক হিসেবে আবারো স্লো ওভার রেট করলে নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পড়বেন মাহমুদুল্লাহ।

 

ইতিহাস গড়ে জয় : ভয় কি কেটেছে বাংলাদেশের?

শেষ পর্যন্ত পরাজয়ের বৃত্ত ভেঙে টি-২০তে নিজেদের সর্বোচ্চ রানের লক্ষ্য তাড়া করে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। টি-টোয়েন্টিতে টাইগারদের সর্বশেষ জয় ছিল প্রায় এক বছর আগে এবং সেটিও ছিল শ্রীলঙ্কাতেই।

এরপর দীর্ঘসময় ধরে টি-টোয়েন্টি ছিল বাংলাদেশের জন্য শুধুই আক্ষেপের নাম, কারণ পরাজয়ের বৃত্ত থেকে কোনোভাবেই বের হতে পারছিল না বাংলাদেশ।

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশ শুধু নিজেদেরই সর্বোচ্চ নয় বরং শনিবার রাতের ম্যাচটি জিতে নিতে টি-টোয়েন্টির ইতিহাসের চতুর্থ সর্বোচ্চ রান করেছে।

এবার প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার ২১৪ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে ৫ উইকেট হাতে রেখেই জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে বাংলাদেশ।

এর আগে সর্বোচ্চ ১৬৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে জেতার সাফল্য ছিল বাংলাদেশের।

শনিবার রাতে কলম্বোতে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে রেকর্ড জয়ের আগে ১৪ ম্যাচে বাংলাদেশের জয় ছিল মাত্র একটিতে।

কলম্বোতে খেলার মাঠে ছিলেন ক্রীড়া সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম।

তিনি বলছেন, এ ধরনের কমপ্লিট ব্যাটিং টি-টোয়েন্টিতে আগে বাংলাদেশের কমই হয়েছে।

"বাংলাদেশ খেলোয়াড়দের যে শরীরী ভাষা এবং আত্মবিশ্বাসের দরকার ছিল এ ম্যাচে সেটি দেখা গেছে।"

মাশরাফির অবসরের পর এটাই প্রথম বাংলাদেশের জয়।

আবার ইনজুরির কারণে টিমে ছিলেন না সাকিব আল হাসান।

আরিফুল ইসলামের মতে, মাঠে বাংলাদেশ যেভাবে জিতেছে সেটি তাদের নিঃসন্দেহে আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে।

খেলার পর ওপেনার তামিম ইকবালও সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন একটি জয় বাংলাদেশের বড় দরকার ছিল। তিনি এও বলেছেন যে, জয়টি খেলোয়াড়দের দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করে তুলেছে এবং এর মাধ্যমেই টি-২০তে বাংলাদেশের নতুন পথ চলা শুরু হবে বলেও মনে করছেন তিনি।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের গেম ডেভেলপমেন্ট বিভাগের কোচ নাজমুল আবেদীন ফাহিম বিবিসি বাংলা'কে বলছেন, টি-২০তে একটা বাধা ছিল, সেই বাধা ভেঙে দিয়েছে খেলোয়াড়রা।

"এখন তারা নিজেরাই বুঝতে পারছে যে ১৮০/১৯০ রানের টার্গেট অতিক্রম করার সক্ষমতা তাদের আছে এবং এ জয়টি তাদের মানসিক সীমাবদ্ধতা ভেঙে দিয়েছে"।

বাংলাদেশের অনেক তারকা ক্রিকেটারের শিক্ষক হিসেবে সুপরিচিত নাজমুল আবেদীন মনে করেন বাংলাদেশ হয়তো প্রতি ম্যাচে জিতবে না, কিন্তু যে কোন ম্যাচ জিততে পারে এই বিশ্বাস এখন তৈরি হয়েছে আর সেটিই বাংলাদেশকে টি-টোয়েন্টিতে ভালো ফল এনে দেবে।

তার মতে, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরেই টি-২০তে কোনঠাসা অবস্থায় ছিল, তাই এ ধরনের একটি বড় জয় খুবই দরকার ছিল।

"এতো বড় স্কোর তাড়া করে জেতাটা বাংলাদেশকে কোণঠাসা অবস্থা থেকে বের করে নিয়ে এসেছে।"

তিনি বলেন, এ জয় বাংলাদেশর মানসিকতা সম্পূর্ণ বদলে দেবে এবং খেলোয়াড়দের বিশ্বাস ও খেলার ধরনেই পরিবর্তন নিয়ে আসবে।

সাবেক অধিনায়ক শফিকুল হক হীরার মতে, এ ম্যাচে দুটি বিষয় খেলোয়াড়দের মাথা থেকে সরে গেছে -একটি হলো হাথুরুসিংহ আর অন্যটি হলো সাকিব আল হাসান।

তার মতে, সাকিবকে ছাড়াও ম্যাচ জেতা সম্ভব- এ বিশ্বাসটা অন্য খেলোয়াড়দের মধ্যে এসেছে এ ম্যাচ জয়ের মধ্য দিয়েছে।

তিনি বলেন, বোলার ব্যাটসম্যান মিলে দলের সেরা পাঁচজন ভালো করলেই যে টি-২০তে বাংলাদেশ ভালো করে এ ম্যাচটিই তার প্রমাণ। আর এ জয়টিতে পাওয়া বিশ্বাসই সামনে দলটিকে সাফল্য এনে দেবে বলে মনে করেন তিনি।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.