চাল
চাল

১০ টাকা কেজি চালের কার্ড পেতে ১০০ টাকা ঘুষ

রংপুর অফিস

রংপুরের পীরগঞ্জে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ১০ টাকা দরের চালের কার্ড নিতে গিয়ে ১০০ টাকা করে ঘুষ দিতে হচ্ছে চেয়ারম্যানকে। আর চেয়ারম্যান ঘুষের ১০০ টাকাকে রশিদবিহীনভাবে চৌকিদারের জন্য ট্যাক্স বলে আদায় করছেন। শুধু তাই নয়, অসচ্ছলদের জন্য এই চালের তালিকায় সচ্ছলরাই বেশি।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিস সূত্র জানায়, আজ সোমবার থেকে উপজেলার ১৫ ইউনিয়নে ৪৩ জন ডিলারের মাধ্যমে ২৪ হাজার ৩৬ জন উপকারভোগীকে ১০ টাকা কেজি মূল্যে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় চাল দেয়ার কার্যক্রম শুরু হবে। গত দুই দিনে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে উপজেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্টরা উপকারভোগীর তালিকা তৈরি করেছেন।


সরেজমিন দেখা গেছে, ওই কর্মসূচির অধীনে উপজেলার টুকুরিয়া ইউনিয়নে তিনজন ডিলারের মাধ্যমে এক হাজার ৬৪৬ জনের চাল বিক্রি করা হবে। গত শুক্রবার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান-মেম্বাররা কার্ডধারীদের কার্ড নবায়নের জন্য ১০০ টাকা হারে আদায় করেন। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হলে তিনি তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়ে কয়েকজনের টাকা ফেরতও দেন। এ সময় টাকা নেয়ার সাথে জড়িতরা কৌশলে সটকে পড়েন।

এদিকে গত শনিবার উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সাইয়েদুর রহমান ওই ঘটনার জন্য তদন্ত শেষে সাংবাদিকদের জানান, কার্ড নবায়নের নামে তাদের কাছে কোনো ধরনের রশিদ ছাড়াই ১০০ টাকা করে নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, শুনেছি চেয়ারম্যান চৌকিদারি ট্যাক্স আদায় করেছেন। দরিদ্রদের জন্য চৌকিদারি ট্যাক্স দেয়ার বিধান আছে কি না এ প্রশ্নের কোনো উত্তর দেননি তিনি।


এই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আতোয়ার রহমান মণ্ডল জানান, আমি চৌকিদারি ট্যাক্স আদায় করেছি। তাহলে টাকা নেয়ার সময় ট্যাক্স রশিদ না দেয়ার বিষয়ে তিনি কিছু বলতে রাজি হননি।


এদিকে উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, ওই কর্মসূচির আওতায় দরিদ্র পরিবারের পরিবর্তে শত শত দলীয় সচ্ছল পরিবার এমনকি শিক্ষক ও ব্যবসায়ীরাও তালিকাভুক্ত হয়েছেন। পাশাপাশি একই ক্রমিক নম্বরে একাধিক নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তারা তালিকাগুলো যাচাইয়েরও দাবি জানিয়েছেন।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.