বজ্রপাত
বজ্রপাত

এক বজ্রপাতে ১৬ জনের মৃত্যু, আহত দেড় শ'

নয়া দিগন্ত অনলাইন

রুয়ান্ডার গির্জায় একটি মাত্র বজ্রপাতে ১৬ জন মারা গেছেন। আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন কমপক্ষে দেড় শ' মানুষ।

শনিবার রুয়ান্ডার দক্ষিণে পাহাড়ি শহর নিয়ারুগুরুর সেভেন্থ-ডে অ্যাডভেন্টিস্ট চার্চে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো বলছে, ওই গির্জায় বজ্রপাত প্রতিরোধ করার মতো প্রয়োজনীয় যন্ত্র বা ডিভাইস, যেমন বজ্রপাত নিরোধক দণ্ড নেই। এ কারণেই ভয়াবহ এই প্রাণহানির ঘটেছে।

স্থানীয় প্রায় সব গির্জা একই পরিস্থিতিতে রয়েছে।

দুই সপ্তাহের কম সময়ের মধ্যে রুয়ান্ডায় ভবন নির্মাণ নীতিমালা এবং শব্দ দূষণ প্রতিরোধে ব্যর্থ হওয়ার দায়ে সাত শ'র বেশি গির্জা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ বলছে, বিষয়টি নিয়ে সচেতনতাও অনেক কম রয়েছে।

এছাড়া রুয়ান্ডার দক্ষিণাঞ্চলীয় পাহাড়ি শহর নিয়ারুগুরু জায়গাটি বজ্রপাতসহ নানা ধরণের দুযোর্গ প্রবণ এলাকা।

স্থানীয় মেয়র হাবিটেগেকো জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই ঘটনাস্থলে মারা গেছেন। দু'জন মারা গেছেন পরে হাসপাতালে।

এর আগে শুক্রবারেও বজ্রপাত সেখানে একজন ছাত্র মারা গিয়েছিলেন।

বার্তা সংস্থা এএফপিকে মেয়র জানিয়েছেন, চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

তিনি আরো বলেন, শুক্রবারে ১৮ জন শিক্ষার্থী একসাথে থাকার সময় যে বজ্রপাতের ঘটে, তাতে তিনজনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে।

 

ভারতের ৩৫ হাজার কৃষকের ১৮০ কিলোমিটার পদযাত্রা

এনডিটিভি

ভারতে কৃষিনীতিতে পরিবর্তন ও ঋণ মওকুফের দাবিতে আন্দোলনরত মহারাষ্ট্রের ৩৫ হাজার কৃষক ১৮০ কিলোমিটার পথ হেঁটে মুম্বাইয়ে পৌঁছেছেন। আজ ১২ মার্চ মুম্বাইয়ের বিধানসভা ভবনের সামনে বিােভ করার কথা রয়েছে ওই কৃষকদের।

ঋণ মওকুফের স্কিম চললেও সুবিধার সে উত্তাপ লাগেনি মহারাষ্ট্রের কৃষকদের গায়ে। বাধ্য হয়ে বহু কৃষক বেছে নিয়েছেন আত্মহত্যার পথ। নিখিল ভারতীয় কৃষক সভা দলের নেতৃত্বে আত্মহত্যাকারী কৃষকদের পরিবারসহ প্রায় ৩৫ হাজার কৃষক তাই এবার যথাযথ ঋণসুবিধার জন্য মুম্বাইয়ের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছে। সর্বশেষ পাওয়া তথ্যমতে, আজ তারা রাজ্যসভা ঘেরাও করবে। সেখানে যাবতীয় ঋণ থেকে অব্যাহতি পাওয়ার পাশাপাশি আদিবাসী ভূমি কৃষকদের হাতে ফিরিয়ে দেয়ার দাবি জানানো হবে। বহু সংখ্যক আদিবাসী কৃষক অংশ নিয়েছেন ওই লংমার্চে। তারা বলেছেন, জমি তাদের কাছে জীবন-মরণ প্রশ্ন।

ভারতীয় কৃষক সভার প্রেসিডেন্ট অশোক ঢালি জানিয়েছেন, রোববার কৃষিমন্ত্রী গিরিশ মহাজনের সাথে তাদের কথা হয়েছে। অশোক ঢালি জানিয়েছেন, কৃষিমন্ত্রী কৃষকদের কথা শুনবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। তার দাবি, ২৫ হাজার কৃষক নিয়ে শুরু হওয়া লংমার্চটি এখন ৫০ হাজার কৃষকের সমাবেশে রূপান্তরিত হয়েছে। সমাবেশ শান্তিপূর্ণ হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

কৃষকদের অভিযোগ, রাজ্য সরকার যে কৃষিনীতি প্রণয়ন করেছে তা কৃষকবিরোধী। এ ছাড়া বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে জমির ক্ষতি হলেও সরকার ঠিকমতো তিপূরণ দিচ্ছে না। এতে কমপক্ষে দুই কোটি ৯৩ লাখ কৃষক প্রত্য ও পরোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। মহারাষ্ট্র সরকারের কাছে অবিলম্বে ক্ষতিপূরণ বাবদ ঋণের টাকা মওকুফ করার দাবি তাদের। সেই সাথে জমিতে ব্যবহৃত সেচযন্ত্রের বিদ্যুৎ বিলও মওকুফের ঘোষণা দিতে হবে বলে দাবি করা হয়েছে।

আন্দোলনরত কৃষকেরা জানিয়েছেন, আজ সোমবার তারা রাজ্যসভা ঘেরাও করবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা সেখানে অবস্থান ধরে রাখতে চান। নিখিল ভারতীয় কৃষক সভা দলের সেক্রেটারি অজিত নাওয়ালে জানান, রাজ্য সরকার কৃষকদের জন্য যে ঋণসুবিধা দিয়েছে তা কোনো কাজে আসেনি। ফলে এক হাজার ৭৫৩ জন কৃষক ঋণ শোধ করতে না পেরে আত্মহত্যা করেছে। এ কারণে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে। তিনি জানান, দুর্যোগ ও খরার কারণে কৃষকদের যে তি হয়েছে তাতে সরকার এখনো তাদের কোনো ত্রাণ বা তিপূরণ দেয়নি। এ সময় তিনি সরকারকে ত্রাণ ও তিপূরণ হিসেবে ৪০ হাজার কোটি রুপি দেয়ার দাবি জানান।

মহারাষ্ট্রের নাসিক থেকে ৬ মার্চ যখন কৃষকদের যাত্রা শুরু হয়েছিল, তখনই মিছিলে চাষিদের সংখ্যা ছিল ২০ হাজার। এখন তা ৩৫ হাজারে ছাড়িয়ে গিয়েছে। সবার কাঁধেই হাজার হাজার কাস্তে-হাতুড়ি আঁকা লাল ঝাণ্ডা উড়ছিল।

ত্রিপুরার দুর্গে ধস নামার পরে বামপন্থীরা যখন কোণঠাসা, তখন বিজেপি শাসিত মহারাষ্ট্রেই সিপিএমের কৃষক সভা এ আন্দোলন শুরু করেছে। এতে টনক নড়েছে মহারাষ্ট্র সরকারের। তাই সোমবার মুম্বাইতে আজাদ ময়দানের কাছেই কৃষকদের পদযাত্রা আটকে দেয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে রাজ্য প্রশাসন। কিন্তু যেভাবে চাষিরা কৃষক সভার ঝাণ্ডা হাতে রাস্তায় নেমেছে, তাতে উদ্বিগ্ন বিজেপি নেতৃত্ব।

বুলেট-ট্রেন-সুপার হাইওয়ের মতো প্রকল্প করে বিজেপি সরকার চমক দিতে চাইছিল। সেই প্রকল্পের নামেই জমি অধিগ্রহণের বিরোধিতায় চাষিরা পথে নেমেছেন। মহারাষ্ট্রে দেবেন্দ্র ফডনবিসের সরকার আগেই ৩৬ হাজার কোটি রুপির ঋণ মওকুফের কথা ঘোষণা করে দিয়েছিল। কিন্তু কৃষক সভার যুগ্ম সম্পাদক বিজু কৃষ্ণনের যুক্তি, ‘সরকার এমন সব শর্ত রেখেছে যে ঋণের খুব সামান্য রুপিই মওকুফ হবে। প্রধানমন্ত্রী ঘটা করে ফসল বীমা যোজনা ঘোষণা করেছেন। কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসল নষ্ট হলেও তিপূরণ মিলছে না। বুলেট ট্রেন-সুপার হাইওয়ের নামে আদিবাসীদের জমি কেড়ে নেয়া হচ্ছে।’ কৃষক সভার সাধারণ সম্পাদক হান্নান মোল্লা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন, তাদের উদ্যোগে রাজস্থান ও মধ্যপ্রদেশে আন্দোলনে সাফল্য মিলেছে। এবার মহারাষ্ট্রে আন্দোলনকে সমর্থন করতে বাধ্য হয়েছে বিরোধী দলগুলো।

কিন্তু এ আন্দোলন থেকে সিপিএম ভোটে ফায়দা তুলতে পারবে কি না এ প্রশ্নের জবাবে বিজু কৃষ্ণন বলেন, ‘আমরা ভালো ফল করব কি না জানি না। কিন্তু বিজেপির পরাজয়ের পথ যে মসৃণ করা যাবে, তা নিশ্চিত।’

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.