ভাড়া করা অ্যাজেন্সি দিয়ে হাজিদের সাথে প্রতারণা
ভাড়া করা অ্যাজেন্সি দিয়ে হাজিদের সাথে প্রতারণা
অনিয়মের কারণে লাইসেন্স বাতিল

ভাড়া করা অ্যাজেন্সি দিয়ে হাজিদের সাথে প্রতারণা

নিজস্ব প্রতিবেদক

হজে অনিয়মের কারণে ২০১৭ সালে বেসরকারি অ্যাজেন্সি ব্রাইট ট্রাভেলসের লাইসেন্স বাতিল করে ধর্মমন্ত্রণালয়। এরপর ব্রাইটের মালিক রেজাউল করিম উজ্জল আরেকটি বেসরকারি হজ অ্যাজেন্সি ‘ঢাকা হজ কাফেলা অ্যান্ড ট্রাভেলস (লাইসেন্স নং ৭৩২)’ ভাড়া করে ও লাইসেন্স ব্যবহার করে মোনাজ্জেম হয়ে হজযাত্রী নিয়ে গত বছরই সৌদি যান। মক্কা হজ অফিস থেকে বারবার তাগিদ দেয়ার পরও তিনি মোয়াল্লেম ফি পরিশোধ না করে বাংলাদেশে চলে আসেন।

একইভাবে রেজাউল করিম উজ্জল মিসফালাহ ট্রাভেলসও ( নং-১০১৮) ভাড়া করে ২২৫ জন হজযাত্রী নিয়ে যান। তাদেরও মোয়াল্লেম ফি পরিশোধ করেননি। এতে হাজীরা ব্যাপক সমস্যায় পড়েন। তাদের হজ কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটে। পরবর্তীতে কাউন্সিলর (হজ) সৌদি কর্তৃপক্ষকে অঙ্গীকার দিয়ে হাজীদের মদিনা যাওয়া ও দেশে ফেরার ব্যবস্থা করেন।
এভাবে হজনীতিমালা ভঙ্গ ও বিদেশে সরকারের ভাবমর্যাদা ক্ষুন্ন করায় ধর্মমন্ত্রণালয় ঢাকা হজ কাফেলা ও মিসফালাহ ট্রাভেলসের লাইসেন্স বাতিল করেছে। একইসাথে ব্রাইট ট্রাভেলস ও মিসফালাহ ট্রাভেলস এর প্রত্যেককে ৫০ লাখ টাকা করে মোট এক কোটি টাকা জরিমানা, ঢাকা হজ কাফেলাকে ২০ লাখ টাকা জরিমানা এবং ব্রাইট ট্রাভেলস এর মালিক রেজাউল করিম উজ্জলকে ২০ লাখ টাকা জরিমানা ও তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা হয়েছে। এছাড়া তাদেরকে মোয়াল্লেম ফি বাবদ এক লাখ ১২ হাজার ৫শ’ সৌদি রিয়াল পরিশোধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

শুধু এ তিনটি এজেন্সিই নয় ২০১৭ সালের হজে সৌদি আরবে মোয়াল্লেম ফি পরিশোধ না করায় ১১টি হজ অ্যাজেন্সির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে ধর্মমন্ত্রণালয়। এর মধ্যে গুলশানে মোহাম্মাদিয়া ট্রাভেলসের লাইসেন্স (নং-৭৯৮) স্থায়ীভাবে বাতিল ও ২০ লাখ টাকা জরিমানা এবং মন্ত্রণালয়কে নয় হাজার রিয়াল ও প্রত্যেক হাজীকে ৫শ’ রিয়াল করে ফেরত দিতে হবে। সানজিদ ট্রাভেলস ইন্টারন্যাশনালের লাইসেন্স (নং-১২৯) স্থায়ীভাবে বাতিল ও ২০ লাখ টাকা জরিমানা এবং মোয়াল্লেম ফি ৭৮ হাজার ৫০০ রিয়াল পরিশোধ করতে হবে। এছাড়া সেন্ট্রাল ট্রাভেলসের লাইসেন্স এক বছরের জন্য স্থগিত ও ১০ লাখ টাকা জরিমানা, সাইনসাইন ইন্টারন্যাশনালের লাইসেন্স দুই বছর স্থগিত ও ২০ লাখ টাকা জরিমানা, এম এস ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলসকে এক বছরের জন্য স্থগিত ও ১০ লাখ টাকা জরিমানা, আলী হজ ট্যুরসকে এক বছরের জন্য স্থগিত ও ১০ লাখ টাকা জরিমানা, হাদি ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস এক বছরের জন্য স্থগিত ও ১০ লাখ টাকা জরিমানা, ট্রাভেল নূরানীর লাইসেন্স দুই বছরের জন্য স্থগিত ও ২০ লাখ টাকা জরিমানা, মাহবুব ইন্টারন্যাশনাল এক বছরের জন্য স্থগিত ও তিন লাখ টাকা জরিমানা এবং ছয় হাজার রিয়াল পরিশোধ করতে হবে।

গত বছরের হজে মোয়াল্লেম ফি পরিশোধ না করায় এসব অ্যাজেন্সির বিরুদ্ধে অভিযোগ করে সৌদি কর্তৃপক্ষ। এর প্রেক্ষিতে ধর্মমন্ত্রণালয় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটি সম্প্রতি রিপোর্ট পেশ করে। এ রিপোর্টের ভিত্তিতে গত ৮ মার্চ ধর্মমন্ত্রণালয় অভিযুক্ত ব্যক্তি ও অ্যাজেন্সির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। অভিযুক্ত এজেন্সিকে জরিমানার অর্থ আগামী ১৫ মার্চের মধ্যে পরিশোধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.