রসুনের ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না খানসামার কৃষকেরা
রসুনের ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না খানসামার কৃষকেরা

রসুনের ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না খানসামার কৃষকেরা

তারিকুল ইসলাম চৌধুরী খানসামা (দিনাজপুর)

রসুন চাষে কৃষকেরা আগ্রহী হলেও এ বছর রসুনের ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না দিনাজপুরের খানসামার কৃষকেরা। রসুনকে হোয়াইট গোল্ড নামে অনেকেই অভিহিত করলেও এবারে হয়েছে উল্টো। ভালো ফলন হওয়ার পরও তারা দাম পাচ্ছেন না। এ অঞ্চলের মাটি রসুন চাষের উপযুক্ত হওয়ায় এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বাম্পার ফলন ও দেশের বিভিন্ন স্থানে রসুনের চাহিদা থাকায় দিন দিন রসুন চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন উপজেলার কৃষকেরা। এরই ধারাবাহিকতায় গত বছরের মতো এ বছরও ব্যাপক রসুন চাষ করেছেন চাষিরা।

উপজেলা কৃষি অধিদফতরের তথ্য মতে, এ বছর রসুন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল তিন হাজার ২৮০ হেক্টর জমিতে। কিন্তু লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে চাষ হয়েছে চার হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে। এ উপজেলার রসুনের গুণগত মান ভালো হওয়ায় বেশিরভাগ রফতানিকারকের নজর এখানকার রসুনের দিকে। রসুনের গুণ ও মান অত্যন্ত ভালো হওয়ায় প্রতি বছর বিপুল রসুন বিদেশে রফতানি হয়ে থাকে।

এ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে রফতানিকারকদের প্রতিনিধি ছাড়াও ফড়িয়ারা কৃষকের বাড়ি বাড়ি বা হাটে হাটে গিয়ে রসুন সংগ্রহ করছেন। তারা এ উপজেলার রসুন ৩০ কেজির প্যাকেট করে সেগুলো দেশ-বিদেশে রফতানি করছেন।

এ দিকে রসুনের ব্যাপক চাহিদা থাকলেও ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কৃষকেরা। উপজেলার রসুনের বড় হাট কাচিনিয়া ও পাকেরহাটে গিয়ে দেখা গেছে কাটা রসুন সর্বোচ্চ ২২ টাকা থেকে সর্বনি¤œ ১৩ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এতে খরচের টাকাও অনেক সময় তুলতে পারছেন না কৃষকেরা। ফলে কৃষকদের বোরো ধান, করলা, ভুট্টাসহ বিভিন্ন আবাদ অর্থাভাবে হিমসিম খাচ্ছে। রসুনের ন্যায্য দাম না পেয়ে মাথায় হাত পড়েছে কৃষকের। তারা ঋণ বা সুদ কারবারিদের হাতে বন্দী হয়ে পড়ছেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বাজার নিয়ন্ত্রণকারী ও মধ্যস্বত্বভোগীরা বীজ, সার, কীটনাশক, ডিজেলসহ বিভিন্ন কৃষি উপকরণ কৃষকদের কাছে চড়া দামে বিক্রি করে মুনাফা লুটে নিচ্ছেন। ফলে কৃষকেরা যেমন এক দিকে উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না, অপর দিকে ঋণের বোঝাও টানতে পারছেন না।

কায়েমপুর গ্রামে কৃষকের বাড়িতে রসুন কিনতে আসা সাইফুল ইসলাম জানান, তারা কয়েকজন পাড়ায় পাড়ায় কাঁচা ও শুকনো রসুন কিনে বাইরের বড় ব্যবসায়ীদের সরবরাহ করেন। ওই ব্যবসায়ীরা তাদেরকে দিনে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা দেন। বড় ব্যবসায়ীরা চড়া দামে দেশের বিভিন্ন জেলায় ও বিদেশে এসব রসুন পাঠান।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফজাল হোসেন বলেন, এ উপজেলার মাটি রসুন চাষের উপযুক্ত। রসুন চাষে কৃষকেরা আগ্রহী হয়ে উঠছেন। তবে শুনেছি এবার কৃষক ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না। এ উপজেলায় রসুন সংরক্ষণ করার মতো কোনো সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নেই। সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকলে কৃষকেরা সঠিক দাম পেতেন ও আরো বেশি রসুন চাষে আগ্রহী হয়ে উঠতেন।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.