শাহিরা ইউসুফ
শাহিরা ইউসুফ

শাহিরা ইউসুফ: ব্রিটেনের প্রথম হিজাবধারী মডেল

বিবিসি বাংলা

শাহিরা ইউসুফের বয়স ২০ বছর। কিন্তু তাকে দেখলে আপনি মনেই করতে পারবেন না যে তিনি হতে যাচ্ছেন ফ্যাশন দুনিয়ার পরবর্তী তারকা।

কিন্তু লন্ডনে জন্ম-নেয়া শাহিরা যেমন ফ্যাশন শোয়ের রানওয়েতে নতুন, তেমনি তিনিই প্রথম ব্রিটিশ ফ্যাশন ক্যাটওয়াক মডেল যিনি মাথায় হিজাব পরেন।

"আমার বয়স যখন ১৭ তখনই আমাকে মডেলিং-এর প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল। কিন্তু আমি রাজি হইনি," বলছিলেন তিনি, "আপনার বয়স যখন কম থাকবে, তখন বাস্তব জ্ঞানও কম থাকবে। তাই আপনাকে বড়ো হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। নাহলে এই শিল্প আপনাকে গিলে খেতে পারে।"

মৃদুভাষী শাহিরা ইউসুফ জানালেন, মডেলিং পেশায় আসার সময় তিনি নিজে কিছু সীমানা বেঁধে দিয়েছেন। এই সীমানা তিনি কাউকে অতিক্রম করতে দেবেন না।

তার টেস্ট শট-এর ছবির সবগুলিতে তাকে সর্বাঙ্গ ঢাকা দেখা গেছে।

শাহিরার জন্ম লন্ডনে হলেও তার মা-বাবা এসেছেন সোমালিয়া থেকে।

"আমি যে একজন মুসলমান এবং আমি হিজাব পরি, এটা নিয়ে আমার নিজের কোন মাথাব্যথা নেই।"

কিন্তু তিনি বলেন, "তাই বলে কেউ যেন আমাকে অপাত্র বলে বিবেচনা না করেন। আমি চাই ফ্যাশন দুনিয়ার বাইরে সমাজ যেভাবে বদলে যাচ্ছে, ফ্যাশন দুনিয়ার ভেতরের সংস্কৃতিতেও একদিন পরিবর্তন আসবে।"

শাহিরা ইউসুফ বিশ্বাস করেন যে একদিন তার মতো আরও মুসলমান মেয়ে ফ্যাশন মডেলিং-এ আসবে।

শাহিরার এজেন্ট বিলি মেহমেট তার কোম্পানি 'স্টর্ম'-এর হয়ে আরও ৫০ জন নবাগত ফ্যাশন মডেলের দেখাশোনা করেন।

তিনি জানালেন, ফ্যাশন দুনিয়াও এখন বদলে যাচ্ছে। তাদের ক্লায়েন্টরা এখন শুধু রূপসীদের চান না, তারা চান রূপের পাশাপাশি থাকবে মেধা। তারা চান মডেলরা হবে শিল্পী কিংবা সমাজকর্মী।

"শাহিরার কারণে আরও হিজাবধারী মুসলমান মেয়ে চিন্তা করবে যে আমরা কেন ফ্যাশন মডেল হতে পারবো না?", বলছেন তিনি, "সত্যি তো, হিজাব পরেও কেন তারা ক্যাটওয়াকে হাঁটতে পারবেন না?"

তবে এই প্রথা ভাঙার কাজে শাহিরা একা নন। তার মতো আরও ব্রিটিশ মুসলিম তরুণী, যারা হিজাব পরিধান করেন, তারা ফ্যাশন সম্পর্কে নানা ধরনের বক্তব্য দিচ্ছেন। টুইটার কিংবা ইন্সটাগ্রামে বিউটি ব্লগার হিসেবে নিয়মিত পোস্ট দিচ্ছেন।

হিজাব: ফ্যাশন ও বাণিজ্য
এক হিসেব অনুযায়ী, মুসলমানদের পরিধান, যেমন হিজাব কিংবা আবায়ার মতো পোশাক ইত্যাদির বাজারের আকার ২০২১ সাল নাগাদ দাঁড়াবে ৩০ হাজার কোটি ডলারেরও বেশি।

আর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোও এখন সেই বাজারকে ধরতে তৈরি হচ্ছে। স্পোর্টস সামগ্রী বিক্রেতা নাইকি এবছরের গোড়াতে তার প্রথম স্পোর্টস হিজাব বাজারে ছড়েছে।

আর এটির মডেল হয়েছেন জাহ্‌রা লারি, প্রথম হিজাবধারী ফিগার স্কেটার।

 

ইরানে হিজাব খুলে ফেলায় এক নারীর ২ বছরের জেল

ইরানে বাধ্যতামূলক হিজাব আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে প্রকাশ্যে হিজাব খুলে ফেলার জন্য এক নারীকে দু বছরের কারাদন্ড দেয়া হয়েছে।

কৌঁসুলি আব্বাস জাফারি-দোলাতাবাদী বলছেন, ওই নারীকে 'নৈতিক দূষণ উৎসাহিত করার দায়ে' দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।

দন্ডিত নারীর নাম প্রকাশ করা হয় নি।

কৌঁসুলি বলেন, ওই দন্ডের মধ্যে তিন মাস তাকে প্যারোল ছাড়া কারাভোগ করতে হবে। দন্ডের বাকী ২১ মাস সময়কাল স্থগিত রাখা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ওই নারীর দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন, এবং তাকে একজন মনোচিকিৎসককে দেখাতে হবে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরানে বেশ কিছু মহিলাকে এ ধরণের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে।

মেয়েদের প্রকাশ্যে হিজাব পরার আইন লংঘনের দায়ে আটক করা নারীদের বেশির ভ।গকেই কোন অভিযোগ ছাড়াই মুক্তি দেয়া হয়েছে।

ডিসেম্বর মাসে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলার সময় একজন তরুণীর প্রকাশ্যে হিজাব খুলে ফেলে একটি লাঠির মাথায় উঁচিয়ে ধরারি ছবি ব্যাপক প্রচার পায়। তাকে আটক করা হলেও পরে ছেড়ে দেয়া হয়।

তেহরানের একটি ফোন বুথের ওপর দাঁড়ানো তরুণীর ছবি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক ভাবে শেয়ার হয়। ইরানে মেয়েদের পোশাকের ব্যাপারে কড়াকড়ির প্রতিবাদ জানাতে এক বুধবার সাদা হিজাব পরেন সেদেশের নারীরা। সে উপলক্ষেই ওই ছবিটি প্রথম প্রচার পায়।

১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামী বিপ্লবের পর থেকেই সেদেশে নারীদের ইসলামী আইন অনুযায়ী চুল-ঢাকা পোশাক পরতে বাধ্য করা হয়।

 

হিজাব খোলার দায়ে আমেরিকায় ৬০,০০০ ডলার ক্ষতিপূরণ

জোর করে হিজাব খুলে ফেলার এক মামলায় নিউইয়র্ক শহরের কর্তৃপক্ষ তিনজন মহিলার সাথে এক আইনি সমঝোতায় পৌঁছেছে এবং তাদের প্রত্যেককে ৬০,০০০ মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি হয়েছে।

মামলার বাদী তিনজন তরুণী অভিযোগ করেছিলেন যে নিউইয়র্ক পুলিশের কর্মকর্তারা সবার সামনে তাদের হিজাব খুলে ফেলতে বাধ্য করেছিলেন এবং ছবি তুলেছিলেন।

মামলাটির শুরু ২০১২ সালের। এক তরুণীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলায় পুলিশ তাকে আটক করে।

ব্রুকলিন পুলিশ প্রিসিংক্টে জনসমক্ষে তাকে হিজাব খুলতে বাধ্য করা হয় এবং ছবি তোলা হয়।

ঐ নারীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলাটি আগেই খারিজ হয়ে গিয়েছিল।

কিন্তু হিজাব খোলার ব্যাপারে একই ধরনের বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটার পর এ নিয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয় এবং এতদিন ধরে মামলাটি চলছিল।

অবশ্য এরই মাঝে ২০১৫ সালে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ থেকে কর্মকর্তাদের প্রতি নতুন নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

এতে ধর্মীয় প্রয়োজনে যারা মাথা ঢেকে রাখেন, সেটা খুলে ফেলার ব্যাপারে নিয়মাবলী জারি করা হয়।

এই মামলার বাদী পক্ষের উকিল তাহানি আবুশি বিবিসিকে বলেন, মামলাটি শুধু মুসলমানদের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ ছিল না, অন্য যেসব ধর্মে মাথা ঢেকে রাখার রেওয়াজ আছে, তাদের জন্য এই মামলার রায় তাৎপর্যপূর্ণ।

 

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.