চিলমারীর মেধাবী কল্যাণ সংস্থা

রশিদ আনছারী চিলমারী

মানুষ মানুষের জন্য। তাই অপরের কল্যাণে যাদের আত্মতৃপ্তি, তাদেরই অক্লান্ত পরিশ্রমে যাত্রা শুরু কুড়িগ্রাম জেলার ব্রহ্মপুত্র নদীবিধৌত চিলমারীর উপজেলার মেধাবী কল্যাণ নামক সংগঠনটির। এ সংগঠনটি কাজ করে যাচ্ছে আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া মেধাবীদের কল্যাণে, যা চিলমারীর বড় ধরনের ঐতিহ্য। মানব সেবাই বড় ধর্ম। এ কারণে ২০১২ সাল থেকে দু’জন অসচ্ছল মেধাবীকে নিয়ে নাহিদ আক্তার স্বপনের সহযোগিতায় সংগঠনটির আত্মপ্রকাশ ঘটান মো: নুরুল আলম; যিনি সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। ২০১৭ সালের শেষে এসে মেধাবী কল্যাণ সংস্থা থেকে এ পর্যন্ত প্রাপ্ত সুবিধাভোগীর সংখ্যা ৩৭৩ জন। একেবারেই অবাক করার মতো হলেও সত্য যে প্রতি বছরে সুবিধাবঞ্চিত প্রায় ৬০ জন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীকে মেধাবী কল্যাণের অফিস কক্ষে উন্নত ও আধুনিক পদ্ধতিতে শিক্ষাদান করা হয়। এ ছাড়া প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ, বিনোদনের ব্যবস্থা রয়েছে। অনেক দরিদ্র মেধাবীই এখন ভালো ছাত্রছাত্রী হওয়ার পাশাপাশি প্রকৃত মানুষ হওয়ার আশাবাদী। এ ছাড়াও প্রতি বছর চিলমারী উজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় পড়া অবহেলিত দরিদ্র মেধাবীদের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে নির্বাচন করে তাদের উৎসাহমূলক মাসিক শিক্ষাবৃত্তি, প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ দেয়া হয়। সংস্থার মাধ্যমে পুরস্কারের ব্যবস্থা ও বিনোদনের মধ্য দিয়ে মানসিক প্রশান্তির জন্য কালচারাল প্রোগ্রাম এবং বার্ষিক শিক্ষা সফরের নিয়মিত আয়োজন করে আসছে । শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভাকে বিকশিত করার লক্ষ্যে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে তাদেরকে মেলে ধরার চেষ্টা করে যাচ্ছে। মেধাবী কল্যাণ সংস্থার শুরু থেকে সহায়তা প্রাপ্ত অনেকের মধ্যে বর্তমানে কুড়িগ্রাম সরকারি মহিলা কলেজের মেধাবী শিক্ষার্থী ফারজানা জয়নব মিম ও তারই ছোট বোন জাহানারা আক্তার মুন। চিলমারী উপজেলার রমনা ইউনিয়নের বাঁধের রাস্তার মোড়ের দোকানি মিন্টু মিয়ার দুই মেয়ে মিম ও মুন উভয়েই চিলমারী উপজেলার বজরা দিয়ার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণীর সমাপনী পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ ৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। চিলমারী উচ্চবিদ্যালয় থেকে অষ্টম শ্রেণীর জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষায় দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অংশ নিয়ে গোল্ডেন জিপিএ ৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়ে বর্তমানে কুড়িগ্রাম সরকারি মহিলা কলেজে অধ্যয়ন করছে। মেধাবী কল্যাণ সংস্থাই তাদের উচ্চশিক্ষার পথ খুলে দিয়েছে; কারণ মেধাবী কল্যাণের শিক্ষকেরাই ওদের দু’জনকে বিনা টাকায় পড়িয়েছেন দীর্ঘ দিন। শুরু থেকে সহায়তাপ্রাপ্ত আরেক সুবিধাভোগী বজরার প্রতিবন্ধী নাজমিন। সে পায়ের সাহায্যে লিখে আজ উলিপুর উপজেলার বজরা সবুজ বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্রী। তার সাথে কথা হলে জানা যায়, মেধাবী কল্যাণ সংস্থার স্পষ্ট ধারণা। নাজমিন জানায়, ২০১৩ সালে ষষ্ঠ শ্রেণী থেকে সংগঠটির আর্থিকসহ সব সুবিধা পেয়ে আসছে। সংগঠনটির অন্যতম সফলতা ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের দু’জন সুবিধাভোগী ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় এবং তার আগেও একজন অন্য পাবলিক বিশ^বিদ্যালয়ে অধ্যয়নের সুযোগ পান। ব্যতিক্রমধর্মী অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের ব্যয়ভার মেটানো হয় সংগঠনটির সদস্যদের নিয়মিত চাঁদা দেয়ার মাধ্যমে এবং হাতেগোনা তিনজন দাতা সদস্যের মাধ্যমে। সংগঠনটির বর্তমানে ৩৫ জন সদস্যের অনুদান, মেধা, শ্রম ও পরোপকারিতার মানসিকতায় অনেক প্রতিকূলতাকেও তারা হার মানাচ্ছেন। এতে সুবিধাবঞ্চিত মেধাবীদের স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে যাচ্ছে অদম্য গতিতে। যে তিনজন দাতার কারণে সংগঠনটি আলোর মুখ দেখছে তারা হলেন কবি শেখ রেজাউল করিম বকুল (উপদেষ্টা) কবি ও সাহ্যিতিক ডা: হুমাযুন কবির এবং আমেরিকা প্রবাসী এ কে এম বিপুল। যাদের উৎসাহ, প্রেরণা ও সঠিক দিকনির্দেশনায় একঝাঁক তরুণ অন্যের কল্যাণে নিজেদের উজাড় করে দিচ্ছেন, তারা হলেন চিলমারীর কৃতী সন্তান সৈয়দপুর উপজেলার ইউএনও বজলুর রশিদ বাবলু (প্রধান পৃষ্ঠপোষক) এবং আমেরিকা প্রবাসী নাসের সামাদ ইকবাল লাবু (প্রধান উপদেষ্টা)। এলাকার সচেতন মানুষের সাথে কথা বলে জানা যায়, মেধাবী কল্যাণ সংস্থাটি এবারের সার্বিক উন্নয়নে অসামান্য অবদান রেখে চলেছে। অনেক পরিবার তাদের সন্তানদের জন্য যা করতে পারছে না, সেই অভাব পূরণ করে দায়ভার অনেকটা হালকা করেছে এই মেধাবী কল্যাণ সংস্থাটি। অনেকে সংস্থাটির দীর্ঘায়ুর পাশাপাশি ধনাঢ্য ব্যক্তিদের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.