কে এই 'আতুর' সোহাগ?
কে এই 'আতুর' সোহাগ?

কে এই 'আতুর' সোহাগ?

গোলাম কিবরিয়া, বরগুনা সংবাদদাতা ও এএসএম জসিম, পাথরঘাটা সংবাদদাতা

বরগুনার পাথরঘাটায় পৌর ছাত্রলীগের সহ-সাধারণ সম্পাদক সোহাগ ওরফে আতুর সোহাগ ও তার সহযোগীদের হামলায় গুরুতর আহত পাথরঘাটা পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. আসাদুল্লাহ (২৩) চৌদ্দদিন পরে মারা গেছেন। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

এদিকে বরগুনার পাথরঘাটায় দিনে দিনে তৈরি হয়েছে ভারাটে সন্ত্রাসী। যার সব চেয়ে বড় পরিচয় নাম আতুর সোহাগ। সাথে সব সময় হাতুরি নিয়ে চলাফেরা তার, কোথাও কারো জমি দখল, ঘর দখল ও প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে ভাড়াটে সন্ত্রাসী হিসেবে কাজ করে এই সোহাগ। এমন কি সরকারি কর্মকর্তাও আতুর সোহাগের হাত থেকে রেহাই পাননি। আতুর সোহাগ ছাত্রলীগের পৌর সহ-সম্পাদক।
তবে সোহাগের নানা অপকর্ম প্রকাশ হওয়ার পর উপজেলা ও পৌর ছাত্রলীগের সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে বলে দাবি করছেন ছাত্রলীগের নেতারা।

উপজেলা ও পৌর ছাত্রলীগের একাধিক নেতাকর্মী সূত্রে জানা গেছে, সোহাগ ওরফে আতুর সোহাগ বিভিন্ন জায়গায় ভাড়ায় গিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে। এসব কারণে সে এলাকায় আতুর সোহাগ নামেই পরিচিতি হয়। তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলার ওয়ারেন্টসহ ৪ থেকে ৫টি মামলা রয়েছে থানায়। এ কারণে ছাত্রলীগের কমিটি থেকে সোহাগকে বাদ দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। কিন্তু কমিটি থেকে বাদ দেয়ার কোনো নথিপত্র পাওয়া যায়নি। গত কয়েক বছর আগে মো. বেলায়েত হোসেন নামে এক বন কর্মকর্তাকে প্রকাশ্যে হাতুরি দিয়ে পিটিয়ে ও ছুরি দিয়ে গুরুতর আহত করে। অনেকে আবার দাবি করছেন, আতুর সোহাগ পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি এনামুল হোসেন বেলালের সহযোগী।

এদিকে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে পৌর ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক আতুর সোহাগ ও তার সহযোগী রুবেল কুটিয়াল প্রকাশ্যে ধারালো ছুরি দিয়ে পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য মৃত্যু আ. গণি হাওলাদারের বাড়ির সামনে কুপিয়ে ফুসফুস, কিডনি ও হৃৎপিণ্ডে মারাত্মকভাবে জখম এবং ডান পায়ের রগ কেটে দেয় আসাদুল্লাহর।
আসাদুল্লাহ পাথরঘাটা পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ও একই এলাকার মো. আলাউদ্দিন হাওলাদারের ছেলে। ১৪ দিন জীবনের সাথে যুদ্ধ করেও বাঁচতে পারেনি আসাদুল্লাহ। গত শুক্রবার ৯ মার্চ সকাল দশটার সময় আসাদুল্লাহকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

আতুর সোহাগকে গ্রেফতার করার ব্যাপারে পাথরঘাটা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা মো. খবীর আহম্মেদ নয়াদিগন্তকে বলেন, ঘটনার পরই সন্ত্রাসী আতুর সোহাগের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে রামদা, ৪টি বিদেশী মদের বোতলসহ দেশীয় লোহার পাইপ উদ্ধার করা হলেও সোহাগকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তবে জোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার রাতে গুরুতর আহত আসাদুল্লাহর বাবা মো. আলাউদ্দিন হাওলাদার ৫ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন। সোহাগের সহযোগী রুবেলের বাবা ওই মামলার ৩ নম্বর আসামি মো. জাহাঙ্গীর খানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারের জন্য জোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

সোহাগ ওরফে আতুর সোহাগ পৌর ছাত্রলীগের কমিটিতে নেই বলে দাবি করেছেন পাথরঘাটা পৌরছাত্রলীগের সভাপতি এনামুল হোসেন বেলাল ও পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন মধু।

উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হাফিজুর রহমান সোহাগ নয়াদিগন্তকে বলেন, সোহাগ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর কারণে সম্প্রতি পৌর কমিটি থেকে বাদ দেয়ার জন্য বলে দিয়েছি।

এব্যাপারে পাথরঘাটা উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাবির হোসেন নয়াদিগন্তকে বলেন, এ ঘটনা তার একান্ত ব্যাক্তিগত। তবে আতুর সোহাগ ছাত্রলীগের কর্মী হওয়াতে দলের ভাবমুর্তি কিছুটা ক্ষুন্ন হয়েছে।

অভিযুক্ত সোহাগ পলাতক থাকায় এ ব্যাপারে তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

এদিকে হামলায় ছাত্রদলের এ নেতা মারা যাওয়ায় তার লাশ জাতীয় ও দলীয় পতাকা দিয়ে সম্মান জানানো হয়। তার মৃত্যুতে গভীর শোকপ্রকাশ ও শোকার্ত পরিবারের প্রতি সমেবেদনা জানান কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার মাহবুব হোসেন, কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক ফিরোজ উজ্জামান মামুন মোল্লা, সুপ্রিমকোর্ট জাতীয়তাবাদী আইনজীবি ফোরামের যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক ও জেলা বিএনপি নেতা অ্যাড. ছগির হোসেন লিওন, জেলা বিএনপি সভাপতি নজরুল ইসলাম মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক আবদুল হালিম, পাথরঘাটা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী মো: ফারুক প্রমুখ।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.