তাহিরপুরে শাহ-আরেফিন সেতু নির্মাণে উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে

বহু প্রত্যাশিত শাহ-আরেফিন সেতু নামে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী যাদুকাটা নদীর উপর দেশের বৃহত্তর সেতুর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন হচ্ছে ১৫ মার্চ। এমন সংবাদ এলাকায় প্রকাশের পর আনন্দিত তাহিরপুর উপজেলাবাসী। এলজিইডির নির্মানাধীন ৭৫০মিটার দৈর্ঘ্যরে এ ব্রীজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করবেন ভিডিও কনফারেন্সে মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভিত্তি প্রস্তর উদ্ভোধনী অনুষ্টানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশারফ হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগন। সেতুটি বাস্থবায়িত হলে এখানকার পর্যটনস্পট গুলোতে আগত পর্যটক ও প্রকৃতি প্রেমীদের মিলন মেলায় পরিনত হবে। সেই সাথে এলাকার সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা সহ আর্থ-সামাজিক ও ব্যবসা বানিজ্যের উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মুচিত হবে।
জানাযায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তর(এলজিইডি)এর বাস্থবায়নে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ও অন্যান্য সেতুর মধ্যে সবচেয়ে বড়,দৃষ্টি নন্দন,আকর্শনীয় সীমান্ত এলাকা ও উপজেলাবাসীর স্বপ্নের সেতু হবে শাহ-আরেফিন সেতু। এই সেতুর মাঝ অংশে একটি ওয়াচ টাওয়ার নির্মান করা হওয়ার কথা রয়েছে। যদি নির্মিত হয় তাহলে এই ওয়াচ টাওয়ারে দাড়িয়ে মেঘালয় পাহাড়,যাদুকাটা নদীর ও বারেক টিলার অপরুপ সৌন্দর্য অবলোকন করতে পারে সহজে প্রকৃতি প্রেমীরা। সেতুটি নির্মিত হলে তাহিরপুর উপজেলাসহ ৩টি উপজেলার(ধর্মপাশা,বিশ্বম্বরপুর)ও মধ্যনগড় থানা ও রাজধানী ঢাকার সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক পরির্বতন হবে। সাথে সাথে সীমান্ত এলাকা লাউড়েরগড় হয়ে যাদুকাটা নদী,শিমুল বাগান,বারেকটিলা,ট্যাকেঘাট সীমান্ত লেক,বড়ছড়া,চারাগাঁও,বাগলী জিরো পয়েন্ট,টাংগুয়ার হাওর,মেঘালয় পাহাড়ের নয়ানাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান গুলো আরো আকর্শনীয় হবে। এছাড়াও এ সেতুটি বাস্থবায়ন হলে সড়ক পথের মাধ্যমে বাগলী,চারাগাওঁ ও বড়ছরা শুল্কষ্ঠেশন থেকে হয়ে লাউড়েরগড়-সুনামগঞ্জ জেলা দিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ সমগ্র বাংলাদেশে চুনাপাথর ও কয়লা এবং এখানকার উৎপাদিক বিভিন্ন পন্য দেশের নানান প্রান্তে পরিবহনে সহজ হবে। এবং বাগলী থেকে,মধ্যনগর,মহেশখলা,ধর্মপাশা,মোহনগঞ্জ হয়ে রাজধানী ঢাকার সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক পরির্বতন হবে। এই এলাকার জনগনের সার্বিক পরিবর্তন হবে। সুনামগঞ্জ স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তর (এলজিইডি) সুত্রে জানাযায়,জেলাবাসীর দীর্ঘ দিনের দাবীর প্রেক্ষিতে জেলার ১২টি সেতুর মধ্যে ৮টি সেতু গত ১০ই জানুয়ারী মাসে অনুমোদন হয়। এর মধ্যে যাদুকাটা নদীর উপর শাহ আরেফিন সেতু একটি। এর পর গত বছরের ৪জুলাই এ সেতুটি ৭৮কোটি টাকা ব্যয়ে ৭৫০মিটার দৈর্ঘ্য এ সেতুটি দরপত্র আহবান করা হয়। এছাড়াও সেতুর দু-পাশের সড়ক সংযোগ সহ সার্বিক বরাদ্ধ প্রায় ১৩২কোটি টাকা। সেতুটি ডাবল লেনের হবে। এক সাথে বাস-ট্রাক বা অন্য কোন যানবাহন চলাচল করবে। সেতুটি বাদাঘাট ইউনিয়নের গড়কাটির ইসকন মন্দির ও বিন্নাকুলী বাজারের দক্ষিন দিকে বাস্থবায়নে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সেতু হবে। বাদাঘাট বাজারের ব্যবসায়ী রাশিদ ভূঁইয়া,সুমন হায়দার,ইউসুফ,এমদাদ,শাহীন,আক্কাছ বেপারী,সোহাগ মিয়া,সাদেক আলীসহ সবাই বলেন,যাদুকাটা নদীতে সেতু নির্মান হলে সীমান্ত এলাকা সহ সবাই উপকৃত হব। সেতুটি নির্মান সম্পন্ন হলে আমাদেরও মালামাল পরিবহনে অনেক সুবিধা হবে। এই সেতু কাজ সঠিক ভাবে দ্রুত শুরু করে শেষ ও করার দাবী জানাই। বাদাঘাট ইউপি সাবেক চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন জানান,বহু প্রতিক্ষিত যাদুকাটা নদীর উপর সেতু উদ্ভোধন করে নির্মান কাজ শুরু করে স্বপ্নে সেতুটির বাস্থবায়ন হলে এলাকাবাসীর দূঃখ গোছবে। আর শুধু মাত্র সুনামগঞ্জ ১আসনের এমপি ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জোম হোসেন রতন সাহেবের চেষ্টায় তা হচ্ছে। উপজেলা আ,লীগ নেতা,বাদাঘাট বাজার বনিক সমিতির সভাপতি সেলিম হায়দার ও উত্তর বড়দল ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি ও বাদাঘাট বাজার বনিক সমিতির সাধারন সম্পাদক মাসুক মিয়া বলেন,যাদুকাটা নদীর উপর সেতুটির নির্মান কাজের উদ্ভোধন করা হবে তাই আমরা আনন্দিত। সেতুটি নির্মান হলে এজেলার তাহিরপুর,ধর্মপাশা,বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা ও মধ্যনগড় থানার দশ লক্ষাধিক জনসাধারনের স্বপ্ন ও ব্যবসায়ীদের ব্যবসা-বানিজ্যের দাড় উন্মোচিন হবে। তাহিরপুর উপজেলা আ,লীগের সাধারন সম্পাদক অমল কান্তি কর জানান,তাহিরপুর উপজেলা একটি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন উপজেলার। যাদুকাটা নদীর উপর সেতু নির্মিত হলে সীমান্ত এলাকা যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও পর্যটন স্পট গুলো আরো আকর্শনীয় হবে। এই এলাকার পন্য সমাগ্রী দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে যাবে। সুনামগঞ্জ ১আসনের এমপি ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জোম হোসেন রতন বলেন,প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় সুনামগঞ্জের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্যই যাদুকাটা নদীর উপর শাহ আরেফিন সেতু নির্মানের অনুমোদন করেন। সেতুর নির্মান কাজ ১৫মার্চ উদ্ভোধন করা হবে। সেতুটি বাস্থবায়ন হলে এই এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা,ব্যবসা-বানিজ্যসহ সার্বিক উন্নয়নের বিপ্লব ঘটবে।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.