বোধ : গল্প

ইসলাম তরিক

বিস্ময় ভরা চোখে বেশ কয়েকটি বান্ডিলের দিকে তাকিয়ে আছে করিম মিয়া। কাগজে ছাপানো কিছু নোট। অথচ কত দাম তার! যার পকেটে থাকে সে-ই এক এক রাজ্যের অধিপতি! ঘড়ির কাঁটাটি রাত ১২টা ছুঁই ছুঁই। তন্দ্রাচ্ছন্ন চোখে করিম মিয়া তাকিয়ে আছে বান্ডিল ছড়ানো টেবিলের দিকে। এত টাকা একসাথে সে কোনো দিন ছুঁয়ে দেখেনি। বড় স্যারের নির্দেশে সে এত রাত পর্যন্ত অফিস করছে। স্যার আগেই ইঙ্গিত দিয়েছেন, আজ বড় কারবার আছে।
বেশ কয়েকটি তদবির হবে। সাত-আটজন লোক এসেছেন ব্যাগভর্তি টাকা নিয়ে। স্যার তাদের সমস্যা সমাধানের আশ্বস্ত করলেন, তারা চলে যান। স্যার হাসি মুখে, নিজ হাতেই টাকাগুলো ব্যাগে তুলে গাড়িতে রাখলেন। স্যার যাওয়ার সময় করিম মিয়ার দিকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ নোটের একটি বান্ডিল ছুড়ে দিলেন। ঠোঁটের কোণাটা কিঞ্চিৎ বাঁকা করে ভেংচিমারা একটি হাসি দিয়ে তাকে বলে গেলেন, রেখে দে করিম মিয়া; জীবনটাকে সাইন করিস।
বান্ডিলটা ধরার ন্যূনতম চেষ্টা করেনি করিম মিয়া। তাই পড়ে গেল মাটিতে। মৃদু আলোয় সে তাকিয়ে থাকে বান্ডিলটার দিকে। হৃদয়ে ঘৃণার রক্ত রণ। সারা জীবনের সম্বল আজ যেন হারাতে বসেছে। সারা জীবন কোনো অন্যায় সে করেনি। অন্যের টাকা-পয়সায় চোখ রাখেনি। চতুর্থ শ্রেণীর এই চাকরি করে, পরিবারকে তেমন সুখে রাখতে পারেনি। তবু অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয়নি কোনো দিন। কিন্তু আজ? কী করবে সে? খানিকণ চোখ বন্ধ করে, ভাবনার অন্তঃপুরে হারিয়ে গেল করিম মিয়া। শরীরটা তরতর করে ঘেমে যাচ্ছে। বুকের ভেতর প্রচণ্ড কাঁপুনি। পা দুটো যেন অবশ হয়ে আসছে। ধীরে ধীরে চোখ খুলল সে। ডান পায়ে কিছুটা শক্তি সঞ্চার করে, টাকার বান্ডিলটাতে ফুটবলের মতো একটি কিক মেরে, অফিস থেকে বের হলো করিম মিয়া। ঘামার্ত শরীরে মাতালের মতো টলতে টলতে পা বাড়াল বাড়ির উদ্দেশে...।
সান্তাহার, বগুড়া

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.