মুসলিমবিদ্বেষী এক সেনাপ্রধান
মুসলিমবিদ্বেষী এক সেনাপ্রধান

মুসলিমবিদ্বেষী এক সেনাপ্রধান

আসাদ পারভেজ

খ্রিষ্টান আর মুসলমানদের মধ্যে জেরুসালেমকেন্দ্রিক ধর্মযুদ্ধ ঐতিহাসিক নিরিখে ষোড়শ শতাব্দীতে শেষ হলেও চলমান ছিল বিভিন্ন আঙ্গিকে। প্রথম এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইহুদিরা যোগ দিয়েছে খ্রিষ্টানদের সাথে মুসলমানদের বিরুদ্ধে ক্রুসেডে। আর বর্তমান পৃথিবীতে ইভেনজেনিকাল খ্রিষ্টান ও ইহুদিদের সাথে বার্মিজ সেনাপ্রধান মিং অং হ্লাইয়াং ও বার্মিজ রাষ্ট্রের প্রধান উপদেষ্টা সু চির বৌদ্ধ আক্রোশ এবং ভারতীয় আরএসএস নিয়ন্ত্রিত বিজেপির হিন্দুত্ববাদী সাম্রাজ্য বিস্তারের মনোবাসনা সম্মিলিতভাবে নব্য ক্রুসেডের জন্ম দিয়েছে। এক দিকে জুডিও ক্রিশ্চিয়ান, উগ্র বৌদ্ধ ও হিন্দুত্ববাদী চক্র অপর দিকে সমগ্র মুসলিম বিশ্ব। ইউরোপের ক্রিশ্চিয়ান, মধ্যপ্রাচ্যের ইহুদি আর এশিয়ার বৌদ্ধইজম ও কট্টর হিন্দুত্ববাদী আচরণ মুসলিম বিশ্বকে সর্বদিক থেকে অস্থির করে তুলেছে।

নব্য ক্রুসেডের এমন সময়ে মিয়ানমারের আরাকান অঞ্চলের অত্যাচারিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ঢল নামে বাংলাদেশে। রোহিঙ্গাদের ঢল সামাল দেয়ার আগেই কট্টর উগ্রবাদী হিন্দু সংগঠন আরএসএস নিয়ন্ত্রিত ভারতের বিজেপি সরকার আসামের মুসলমানদের নিয়ে তামাশা খেলার ছকে বাংলাদেশকে ঘায়েল করতে চায়।
গত ৯ বছর বাংলাদেশ সরকারের সবচেয়ে বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র ভারত। সেই ভারত রোহিঙ্গা প্রশ্নে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের পক্ষে নেই। বর্তমানে তারা আসামের মুসলমানদের অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা করছে। তাদের এই নব ধর্মযুদ্ধ আরএসএস আগেই পরিকল্পনা করে রেখেছিল।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে, নরেন্দ্র মোদির উগ্র দল বিজেপি ২০১৭ সালে আসামে সরকার গঠন করে মুসলমানদের ‘অবৈধ’ আখ্যা দিয়ে ব্যবস্থা নেয়ার শপথের কথা জনসমক্ষে প্রকাশ করে। এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি একটি আদমশুমারি করা হলো। ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর আসাম রাজ্য সরকার ন্যাশনাল সিটিজেন রেজিস্ট্রার নামে রাজ্যের নাগরিকদের নামের একটি তালিকার প্রথম খসড়া প্রকাশ করেছে। সেই তালিকায় যুগ যুগ ধরে আসামে বসবাসরত এক কোটি ৪০ লাখেরও বেশি মানুষের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়নি। তাদের বেশির ভাগই মুসলমান।

ভারতের বিজেপি সরকার বিপুলসংখ্যক বাংলা ভাষাভাষী মুসলমানকে দেশ থেকে বের করে দিতে চায়। তারা এতটাই মুসলিমবিদ্বেষী আচরণ করছে যে, বিধানসভা ও লোকসভায় দীর্ঘ দিন থেকে নির্বাচিত আইন প্রণেতাদেরও অবৈধ বলে নাগরিকত্বের তালিকা থেকে বাদ দেয়। এর মধ্যে বদরুদ্দিন আজমল অন্যতম। তিনি আসামের অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট (এআইইউডিএফ)-এর নেতা এবং ৯ বছর ধরে লোকসভার সদস্য। এমনই ঝুঁকিপূর্ণ সময় কথিত গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ ভারত রাষ্ট্রের সেনাপ্রধানের রাজনীতি নিয়ে কথা না বলে বরং নিরপেক্ষ থাকার কথা, কিন্তু আমরা তা দেখছি না।

বিশাল ভারতের জেনারেল হবেন দূরদর্শী, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ভারতের বর্তমান সেনাপ্রধান বিপিন রাওয়াত একজন অতি জ্ঞানী জেনারেল, যার আপত্তিকর ও উসকানিমূলক কথা বলার বদাভ্যাস রয়েছে। উগ্র হিন্দুত্ববাদী এজেন্ডা বাস্তবায়নকারী সেনাপ্রধান বিপিন রাওয়াতকে দায়মুক্তি দেয়ার চেষ্টা করা হবে আত্মঘাতের শামিল। আগেও তিনি দায়িত্ব-জ্ঞানহীন ও সংবিধান লঙ্ঘনের মতো অনেক কথা বলেছেন। বিজেপির হিন্দুত্ববাদী আমলে সংবিধান লঙ্ঘনকারী একজন সেনাকর্তার সামরিক পোশাকে এখতিয়ারবহির্ভূতভাবে ভারতের মতো দেশের সেনাপ্রধান হয়ে থাকতে পারেন, বিপিন রাওয়াত তার উদাহরণ।

সেনাপ্রধান এবার আলোচনায় এসেছেন, আসামে অনুপ্রবেশ নিয়ে কথা বলে। ২১ ফেব্র“য়ারি জেনারেল রাওয়াত রাজধানী নয়াদিল্লিতে ‘নর্থ ইস্ট রিজিয়ন অব ইন্ডিয়া-ব্রিজিং গ্যাপ অ্যান্ড সিকিউরিং বর্ডার্স’ শীর্ষক এক সেমিনারে আসামের মুসলমানদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের চরম বিতণ্ডার জন্ম দেন। তার এমন আচরণে ভারতীয় নিরাপত্তা এস্ট্যাবলিশমেন্টের সিনিয়র ব্যক্তিদের এক অংশ বিস্ময় প্রকাশ করলেও, অন্য অংশ তারই পক্ষ অবলম্বন করে। এ সময় জেনারেল রাওয়াত বলেন, আসামকে অস্থির করে রাখা পশ্চিম দিকের পড়শি দেশের (পাকিস্তান) চক্রান্ত। এবং তাতে সমর্থন জোগাচ্ছে উত্তর সীমান্তের দেশটি (চীন)। এটা তাদের কাছে একটা ‘ছায়াযুদ্ধ’। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে (আসামে) পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশ থেকে মুসলমানদের তারা পাঠিয়ে দিচ্ছে। রাওয়াত অভিযোগ তুলেছেন, চীনের মদদে একটি ছায়াযুদ্ধের অংশ হিসেবে আসাম অঞ্চলকে অস্থির করে তুলছে পাকিস্তান। এ জন্য বাংলাদেশ থেকে মুসলমানদের পাকিস্তান অনুপ্রবেশ করাচ্ছে আসামে।
তিনি আরো বলেন, পশ্চিমা প্রতিবেশী (পাকিস্তান) সব সময় আসামসহ উত্তর-পূর্ব ভারত দখলে নিতে চেষ্টা করবে এবং সেটা নিশ্চিত করতে চাইবে। তাই বাংলাদেশ থেকে মুসলমানদের নিয়ে গিয়ে এরা (পাকিস্তান) আসামের জেলাগুলো ভরে ফেলছে। এর প্রমাণ হিসেবে এআইইউডিএফের উত্থানের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। বলেন, এআইইউডিএফ বলে একটা দল আছে। খেয়াল করে দেখুন, বিজেপি বছরের পর বছর যে গতিতে বেড়েছে, ওরা আসামে তার চেয়েও দ্রুত বেড়েছে।

রাওয়াত একজন সেনাপ্রধান। তিনি পরিকল্পনা ছাড়া এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ মন্তব্য করেননি। রাওয়াতের এটাই প্রথম বিতর্ক মন্তব্য নয়। এর আগে তিনি ‘আড়াই ফ্রন্টে’ যুদ্ধের কথা বলেছিলেন। চীন ও পাকিস্তান হচ্ছে দু’টি ফ্রন্ট আর অর্ধেক ফ্রন্ট হলো কাশ্মির। তিনি বলেছিলেন, দেশের মুসলমান অধ্যুষিত সীমান্ত এলাকা ভারতের জন্য নিরাপত্তার পক্ষে ঝুঁকিপূর্ণ ও বিপজ্জনক।
২০১৮ সালের জানুয়ারিতে তিনি জম্মু ও কাশ্মিরের শিক্ষানীতি সংস্কারের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থাকে সরকারের নিয়ন্ত্রণে আনা প্রয়োজন। পিডিপি ও বিজেপি জোটের একটি নির্বাচিত রাজ্য সরকার বিদ্যমান থাকার পরও তার কথায় মনে হয়, সেখানে রাষ্ট্রীয়ভাবে জরুরি অবস্থা বিদ্যমান। ২০১৭ সালের শুরুতে তিনি কাশ্মিরের সব আন্দোলনকারীকে ‘সন্ত্রাসীদের মাঠপর্যায়ের কর্মী’ বলে বিতর্ক ছড়িয়েছিলেন।

আসামের রাজ্যসভায় গত তিনটি নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যায়, কংগ্রেস, বিজেপি, এআইইউডিএফ ও এজিপিসহ প্রত্যেকটি দলেরই আসন ও ভোট ওঠা-নামা করেছে। ২০০৬, ২০১১ ও ২০১৬ সালের নির্বাচনে কংগ্রেস পেয়েছিল যথাক্রমে ৩১, ৩৯ ও ৩১ শতাংশ ভোট; বিজেপি পেয়েছিল যথাক্রমে ৯, ১২ ও ২৯.৫০ শতাংশ ভোট; এআইইউডিএফ পেয়েছিল যথাক্রমে ৯, ১২.৬ ও ১৩ শতাংশ ভোট এবং এজিপি পেয়েছিল যথাক্রমে ২০, ১৬ ও ৮ শতাংশ ভোট। এ দিকে, কমিউনিস্ট পার্টির অস্তিত্বই বিলীন হতে চলেছে।

তিনি এআইইউডিএফ-এর উত্থানে উষ্মা প্রকাশ করেছেন। এটা বুঝতে চান না যে, ১৯৪৭ পরবর্তী ভারতের ৭০ বছরের মধ্যে প্রায় পঞ্চাশ বছরের অধিক কংগ্রেস দেশটি চালালেও আজ তারা বিরোধী দল হিসেবেও বেশি শক্তিশালী নয়। তিনি বুঝতে রাজি নন, যে দলটি (ভারতীয় জনসঙ্ঘ বর্তমানে বিজেপি) ১৯৮৪ সালে মাত্র দু’টি আসন পেয়েছিল আসামে, সে দলটি আজ ভারত চালাচ্ছে। তিনি শুধু দেখেন ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এআইইউডিএফ-এর আসামে উত্থান। এ দলটিকে সাম্প্রদায়িক বলা যেতে পারে না। কেননা এই দল থেকেই ২০১৪ সালে ভারতের লোকসভা নির্বাচনে ১৪টি আসনের মধ্যে একটি (এআইইউডিএফ জিতেছিল তিনটি আসনে) জিতে অন্যতম আইন প্রণেতা হন রাধেশ্যাম বিশ্বাস।

রাওয়াত সাম্প্রদায়িকতা ও বিদ্বেষী অসুখে আক্রান্ত। না হলে তিনি আদালতের নির্দেশিত, অপেক্ষমাণ কাজের প্রসঙ্গে অন্যায় কথা বলবেন কেন? ভারতীয় আদালত জুন ২০১৮-এর মধ্যে আসামের জাতীয় নাগরিক নিবন্ধন তালিকা চূড়ান্ত করে প্রকাশ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। তা ছাড়া, নিবন্ধন তালিকার অন্তর্ভুক্ত হওয়ার একমাত্র শর্ত ভারতীয় নাগরিক, এতে হিন্দু ও মুসলিম পরিচিতি কোনো বিষয় প্রযোজ্য নয়।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি এ বিষয়ে বলেছেন, আসামে কোনো অবৈধ বাংলাদেশী নেই। ভারত সরকার ১৯৭১ সালের আগে আসামে বসত গড়ে তোলা সবাইকে নিজের নাগরিক বলে মেনে নেয়। কিন্তু দুর্ভাগ্য বিশ্ব সভ্যতা ও মানবতার। আশির দশকে ‘বঙ্গাল খেদাও’ আন্দোলনে নামে আসাম গণপরিষদ। তাদের হাতে নিহত হয় অসংখ্য বাঙালি মুসলমান। এর কোনোটিরই বিচার হয়নি। আসাম-বাংলাদেশ সীমান্ত ২৬২ কি.মি। এর মধ্যে ২০০ কি.মি-এর বেশি কাঁটাতারের বেড়া। বাকি অংশ বর্ডার গার্ড দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। তার পরও রাওয়াত বলছেন, ‘পরিকল্পিত মাইগ্রেশন ও ছায়াযুদ্ধ।’ তফসিলি সম্প্রদায় প্রায় ৬০ কোটি, সনাতনী ৩৭ কোটি, মুসলমান ২৫-২৭ কোটি, শিখ ও অন্যান্য সম্প্রদায় মিলে ভারত ১২৫ কোটি মানুষের দেশ।

ভারতের মিডিয়াতে সিপিএমের পলিট বুরে‌্যা সদস্য বৃন্দা কারাত বলেন, জেনারেল রাওয়াত অসঙ্গত কথা বলেছেন। সত্যিকার অর্থে রাওয়াত কথাগুলো বলেছেন আরএসএস তথা বিজেপির হিন্দুত্ববাদী এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে। বিজেপির রাজনৈতিক দর্শনটাই হলো সাম্প্রদায়িক। রাওয়াতের দীর্ঘ দিনের পরিকল্পনা মুসলিম সমাজকে অস্থির করে তোলা এবং বাংলাদেশকে মনস্তাত্ত্বিক চাপে রাখা। অন্য দিকে, ভারতের সাথে চীন-পাকিস্তানের ছায়াযুদ্ধ সফল করতে মাইগ্রেশনে মুসলমানেরা যদি বাংলাদেশ থেকে গিয়ে থাকে, তাহলে বলতে হয়, বর্তমান সরকারের সাথে ভারতের বিজেপি সরকারের ভালো সম্পর্ক থাকার কথা নয়। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় এর বিপরীত চিত্র। নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা বলছেন, ভারত সরকার এর আগে বর্তমান বাংলাদেশ সরকারের চেয়ে ভালো আর কোনো প্রতিবেশী রাষ্ট্র ও সরকার পায়নি। রাওয়াতের আপত্তি মুসলিম জনসংখ্যা বেড়ে যাওয়া। তিনি একমাত্র মুসলমানদেরকেই ভারতের নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর হিসেবে চিহ্নিত করার পক্ষবাদী। সহজ অর্থ, তিনি চরম মুসলিমবিদ্বেষী তথা উগ্র সাম্প্রদায়িক।

সেনাপ্রধান রাওয়াত কিংবা ভারত সরকার কারো হাতে এমন কোনো প্রমাণ নেই, যা দিয়ে বলা যায়, পাকিস্তান ও চীন বাংলাদেশ থেকে আসামে মুসলমানদের মাইগ্রেশনের মাধ্যমে প্রবেশ করাচ্ছে। অথচ আসামের শাসকদল বিজেপির দাবি এক কোটি ৪০ লাখ অনুপ্রবেশকারীর মধ্যে বাংলাদেশ থেকে এসেছে এমন অবৈধ অভিবাসীর সংখ্যা ৩০ লাখ।

ভারতের সেনাবাহিনী সচরাচর দেশের রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে কোনো মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকে। কিন্তু বর্তমান সেনাপ্রধান রাওয়াত ও বিজেপি সরকার প্রধান মোদির আচরণে গোটা ভারতীয় মুসলিম সমাজ থেকে তফসিলি সম্প্রদায় পর্যন্ত আতঙ্কিত। সামনের দিনগুলোতে আমরা আরো ভয়ানক কথা ও কর্ম শুনতে ও দেখতে পাবো।

ভারতে মোদির নেতৃত্বে বিজেপি সরকার গঠন করার পর থেকেই বিজেপি ও আরএসএসের বহু নেতা ভারতকে হিন্দুত্ববাদী রাষ্ট্র বানানোর চক্রান্তে ব্যস্ত। কোনো রাজ্যে মুসলিম কিংবা অহিন্দু কোনো ধর্মের লোক বেড়ে যাওয়াতে রাওয়াত ও বিজেপি সরকারের আচরণে হিংসা প্রকাশ পাচ্ছে।
ভারত সাংবিধানিকভাবে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হলেও, সত্যিকার অর্থে তার কার্যক্রম গণতন্ত্রের নামে হিন্দুত্ববাদী সাম্প্রদায়িকতায় ভরা। ভারত রাষ্ট্রের ঊষালগ্নে বি আর আম্বেদকরের রচিত সংবিধান গঙ্গার পানি দিয়ে পবিত্র করার পর গান্ধী স্পর্শ করেছিলেন। কেননা ড. আম্বেদকর ছিলেন তফসিলি সম্প্রদায়ের লোক। ব্রাহ্মণ্যবাদের ওপর রাগ করে পরবর্তী সময়ে তিনি হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করেন। আরএসএসের নিয়ন্ত্রিত বিজেপি সরকার মোদি ও রাওয়াতের হাত দিয়ে সংবিধানকে পরিবর্তন করে হিন্দুত্ববাদী বানিয়ে নেয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যায় না।

অহিংস আন্দোলন আর সশস্ত্র জঙ্গিদেরকে এক করে দেখা ২১ শতকের নব্য ক্রুসেডের এক নব চক্রান্ত। বর্তমান সরকারকে মনে রাখতে হবে, রাওয়াত তথা কোনো সেনাপ্রধানকে যদি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারেন, তাহলে নিকট ভবিষ্যতে ভারতে হয়তো সেনাশাসন শুরু হবে।

লেখক : গবেষক, গ্রন্থকার

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.