বরগুনায় স্ত্রীকে পিটিয়ে হাত ভাঙলেন স্বামী
বরগুনায় স্ত্রীকে পিটিয়ে হাত ভাঙলেন স্বামী

বরগুনায় স্ত্রীকে পিটিয়ে হাত ভাঙলেন স্বামী

গোলাম কিবরিয়া, বরগুনা

পরকীয়ার প্রতিবাদ করায় দু’সন্তানের জননী আনোয়ারা বেগমকে (৩০) পিটিয়ে হাত ভেঙে দিয়েছেন স্বামী হেলাল তালুকদার। আমতলী উপজেলার সেকান্দারখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত আনোয়ারা বেগমকে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

পারিবারিক সূত্রে জানাগেছে, বরগুনার আমতলীর ছুরিকাটা গ্রামের লাল মিয়া হাওলাদারের মেয়ে আনোয়ারা বেগমের সাথে ২০০২ সালে সেকান্দারখালী গ্রামের চাঁন মিয়া তালুকদারের ছেলে হেলাল তালুকদারের বিয়ে হয়। এরপর তাদের সংসারে আসে দুটি সন্তান। দাম্পত্য জীবন তাদের ভালোই কাটছিল। কিন্তু তিন বছর আগে হেলাল তালুকদার পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো। গত মঙ্গলবার সকালে স্ত্রী আনোয়ারা বেগম ছোট ছেলেকে নিয়ে স্কুলে যান। সেখান থেকে ফিরে এসে স্বামী হেলাল তালুকদারকে মোবাইল ফোনে এক মেয়ের সাথে কথা বলতে দেখেন। এ সময় আনোয়ারা বেগম প্রতিবাদ করলে ক্ষিপ্ত হয়ে হেলাল তালুকদার স্ত্রীকে ঘরের মধ্যে আটকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। স্ত্রীর ডাক চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ছুটে আসে কিন্তু স্বামী হেলাল তালুকদার ঘরের দরজা জানালা বন্ধ করে নির্যাতন করতে থাকে। এক পর্যায় স্ত্রী আনোয়ারা বেগম জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। এ অবস্থায় আহত স্ত্রীকে ঘরের মধ্যে রেখে তালা দিয়ে স্বামী হেলাল তালুকদার অন্যত্র চলে যায়। আনোয়ারাকে মারধরের খবর প্রতিবেশীরা তার বাবার বাড়িতে জানালে স্বজনেরা স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

শুক্রবার সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা গেছে, আনোয়ারা বেগম যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন। বাম হাতে ব্যান্ডেজ। এ ছাড়া শরীরের স্পর্শকাতর স্থানেও আঘাত রয়েছে বলে জানান আনোয়ারা।

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার মিঠুন সরকার জানান, আনোয়ারা বেগমের বাম হাতের কনুইয়ের নিচে ভাঙা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

আনোয়ারা বেগম বলেন, তিন বছর ধরে স্বামী হেলাল তালুকদার পরকীয়ায় জড়িত। এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় ঘরের মধ্যে আমাকে আটকে রেখে স্পর্শকাতর স্থানসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে বেধড়ক মারধর করে বাম হাত ভেঙে দিয়েছে। তিনি আরো বলেন, গত বছর ডিসেম্বর মাসেও পরকীয়ায় বাঁধা দেয়ায় মেরে আমার হাত ভেঙে দিয়েছিল। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।

তবে হেলাল তালুকদার পরকীয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, পারিবারিক কলহের কারণে স্ত্রীকে মারধর করেছি।

আমতলী থানার ওসি মো. সহিদ উল্যাহ বলেন, অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.