রিমান্ডে স্বামী

ঈশ্বরগঞ্জে সালমা হত্যার প্রমাণ মিললো ময়নাতদন্তে

মো: আব্দুল আউয়াল, ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ)

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে বিয়ের দেড় মাসের মাথায় রহস্যজনকভাবে স্বামীর গৃহে মৃত্যু হয় নববধূ সালমার। মৃত্যুর পর আত্মহত্যা করেছে বলে প্রচারণা চালালেও ময়নাতদন্তে বেরিয়ে এসেছে আত্মহত্যা নয়, সালমাকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের এমন রিপোর্ট পাওয়ার পর সালমার স্বামীকে গ্রেফতার করে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

জানা যায়, কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার চরকাটিহারী গ্রামের খোকন মৃধার মেয়ে সালমা আক্তার (২০)। সালমার সাথে প্রায় পাঁচ বছর ধরে প্রেম চলে ঈশ্বরগঞ্জের রাজীবপুর ইউনিয়নের ভাটিরচর নওপাড়া গ্রামের হেলাল উদ্দিনের ছেলে অনিক মিয়ার।

দীর্ঘদিন প্রেমের পর বিষয়টি পরিবারকে জানিয়ে বিয়ের ব্যবস্থা করতে বলে সালমা। কিন্তু বিয়েতে অনিকের পরিবার রাজী থাকলেও সালমার পরিবার রাজী হয়নি।

ওই অবস্থায় পরিবারের অমতেই সালমা বাবার বাড়ি ছেড়ে অনিকের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়।

এর পর সালমার পরিবার বিয়ে মেনে নিলেও ১ লাখ টাকার জন্য চাপ শুরু হয় সালমার ওপর। এর মধ্যে টাকা চাইতে অস্বীকার করায় বিয়ের দেড় মাসের মাথায় গত ২০১৭ সালের ১৩ অক্টোবর রাতে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করা হয় সালমাকে। এর পর সালমার লাশ ঘরের আড়ার সাথে ঝুঁলিয়ে আত্মহত্যার প্রচারণা চালানো হয়।

বিষয়টি নিয়ে সালমার শ্বশুর হেলাল উদ্দিন বাদি হয়ে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করেছিলেন। কিন্তু বিয়ের দেড় মাসের মাথায় সালমা আত্মহত্যা নয়, তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছিল নিহতের পরিবারের লোকজন।

এদিকে পুলিশ নিহত গৃহবধূ সালমার লাশটি উদ্ধার করে ময়মনসিংহ হাসপাতালে মর্গে ময়মনাতদন্তের জন্য পাঠায়। বেশ কিছু দিন পর গত বুধবার পুলিশের হাতে আসে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন। এতে বেরিয়ে আসে আত্মহত্যা নয়, শ্বাসরুধে হত্যা করা হয়েছিলো সালমাকে। ওই অবস্থায় পুলিশ নিহতের বাবাকে খবর পাঠিয়ে থানায় নিয়ে আসে।

নিহতের বাবা খোকন মৃধা বাদি হয়ে থানায় সালমার স্বামী অনিক মিয়া ও তার বাবা-মা সহ ৪ জনকে আসামি করে বুধবার রাতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় পুলিশ রাতেই অনিক মিয়াকে গ্রেফতার করে। পরে বৃহস্পতিবার বিকেলে ময়মনসিংহ আদালতে ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে হাজির করা হলে বিচারক তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। স্বামী অনিক কে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

নিহতের বাবা খোকন মৃধা জানান, মেয়ে সালমার সিদ্ধান্ত প্রথমে মানতে না চাইলেও পরে মানতে বাধ্য হন। কিন্তু লোভী স্বামী ও তার পরিবার তাদের কাছে মোটা অংকের টাকা দাবি করে। টাকা না পেয়ে বিয়ের দেড় মাসের মাথায় সালমাকে হত্যা করে আত্মহত্যার প্রচারণা চালানো হয়।

ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি মো: বদরুল আলম খান জানান, সালমার মৃত্যুর পর আত্মহত্যা করে বলে প্রচারণা চালালে অপমৃত্যু মামলা হয়। কিন্তু ময়নাতদন্তে সালমাকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রমাণ মেলে। আত্মহত্যার আলামত পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে। সালমার স্বামীকে আটক করা হয়েছে। তাকে ৩ দিনের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.