ইয়াবার অবৈধ ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছে নানা শ্রেণী-পেশার মানুষ

আবু সালেহ আকন
ইয়াবার অবৈধ ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ। এমনকি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদেরও এ কাজে জড়িয়ে পড়ার প্রমাণ মিলেছে। নামী-দামি অনেক ব্যবসায়ীও নিজের সম্মানের ব্যবসায় ছেড়ে ইয়াবা বিকিকিনির অবৈধ কাজে জড়িয়ে পড়ছেন। অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ কাজে স্বল্প সময়ে অনেক টাকা আয় করা যায়। যে কারণে অনেকেই লোভে পড়ে যান। নামী-দামি অনেক মানুষও এ লোভ সংবরণ করতে পারেন না। 
নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার এএসআই সোহরাওয়ার্দী রুবেলের কাছ থেকে বুধবার রাতে ৫০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। নিজের হেফাজতে থাকা পাঁচ হাজার ও বাসায় তল্লশি করে আরো ৪৫ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তার স্বজনেরাও মাদক কারবারের সাথে সম্পৃক্ত বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি বিভিন্ন লোককে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসিয়ে বিপুল অঙ্কের টাকা আদায় করতেন বলে তথ্য রয়েছে। 
নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি কামরুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, রুবেল অনেক দিন থেকেই এ কাজে জড়িত। এর আগেও পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে ইয়াবা দিয়ে মানুষকে ফাঁসিয়ে দেয়ার। গত ফেব্রুয়ারি মাসে শাহ আলী থানার এএসআই হুমায়উনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে এক যুবককে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসিয়ে দেয়ার চেষ্টার। ওই যুবক রাতে আশ্রয়ের জন্য শাহ আলী মাজারে গেলে এএসআই হুমায়উন তাকে এক পিস ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করেন। বিষয়টি নিয়ে পত্র-পত্রিকায় সংবাদ ছাপা হয়। কিন্তু তার এক ভাই এক মন্ত্রীর কাছের লোক হওয়ায় হুমায়উনের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয়নি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এভাবে অনেক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধেই অভিযোগ রয়েছে ইয়াবা দিয়ে সাধারণ মানুষকে ফাঁসিয়ে দেয়ার।
এ দিকে গত রোববার রাজধানীর শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণী, সেগুনবাগিচা, কোনাপাড়া, কমলাপুর ও উত্তরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২৮ হাজার ৮০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর (ডিএনসি)। এ ঘটনায় সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়। তারা হলোÑ এনামুল্লাহ (৩১), মাহমুদুল হক (৫১), আসাদুজ্জামান বাবুল (৪১) ও আবু হানিফ ওরফে হানিফ মেম্বার (৪৪)। মাহমুদুল কক্সবাজারের মেরিন হোটেলের মালিক। জানা গেছে ওই হোটেল দিয়ে লাখ লাখ টাকা উপার্জন হলেও পাশাপাশি অধিক টাকা উপার্জনের জন্য তিনি ইয়াবা কারবারে জড়িয়ে পড়েন। তার সাথে হানিফ মেম্বার কক্সবাজার এলাকারই একজন নির্বাচিত ইউপি সদস্য। ঢাকার উত্তরার ১৪ নম্বর সেক্টরের ১৩ নম্বর রোডে তার বাড়ি রয়েছে। জানা গেছে এই মেম্বার দীর্ঘ দিন ধরে ইয়াবা কারবারে জড়িত। ওই দিন আশরাফুল আলম প্রিন্স নামের আরেকজন গ্রেফতার হন, যিনি একজন আইনজীবী।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক কর্মকর্তা বলেছেন, ইয়াবা কারবারের সাথে এখন অনেকেই জড়িয়ে পড়ছে। এমন এমন লোক জড়াচ্ছে যা কল্পনাও করা যায় না। তাদের মধ্যে অনেকে আছেন যারা ইয়াবা সেবন করতে গিয়ে জড়িয়ে গেছেন ব্যবসায়। আবার অনেকে অনেক টাকার লোভে এই ব্যবসায় জড়িয়েছে। এই ব্যবসার সাথে অনেক নামী-দামি মানুষও জড়িয়েছে বলে কর্মকর্তাদের কেউ কেউ উল্লেখ করেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেলের ডিসি মাসুদুর রহমান বলেন, যারা এই ব্যবসার সাথে জড়িত তারা সবাই অপরাধী। সেই দৃষ্টিতেই সবাইকে দেখতে হবে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.