‘পৃথিবী যতদিন থাকবে ততদিন মশাও থাকবে’

এবার মশার কামড়ে চিকুনগুনিয়া ও ডেঙ্গুর আশঙ্কা নেই : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

বিশেষ সংবাদদাতা
স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, এবার মশার কামড় থেকে চিকুনগুনিয়া ও ডেঙ্গু রোগ হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই। গত বছর এ সময় দেশে চিকুনগুনিয়া ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে তিনি মনে করেন, মশাকে পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব নয়। পৃথিবী যতদিন থাকবে, ততদিনই মশার যন্ত্রণা থাকবে।
গতকাল সচিবালয়ে চিকুনগুনিয়া ও ডেঙ্গু রোগের প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধের গৃহীত ব্যবস্থা ও রোগ দমনে ভবিষ্যৎ করণীয় সম্পর্কিত এক সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন। 
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো: সিরাজুল হক খান, স্বাস্থ্য শিা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব ফয়েজ আহমেদ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ভিসি অধ্যাপক ডা: কামরুল হাসান খান, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা: আবুল কালাম আজাদ, স্বাস্থ্য অধিদফতরের সংক্রামক ব্যাধি নিয়ন্ত্রণ (সিডিসি) শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা: সানিয়া তাহমিনা, ঢাকা দণি সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শেখ সালাহউদ্দিন, ঢাকা দণি সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মো: বেলালসহ অন্য কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এবার মহামারী তো দূরের কথা কোনো আশঙ্কাই নেই ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার। আমি স্যাটিসফাইড যে আমাদের জরিপটা ভালো হচ্ছে ও প্রস্তুতি ভালো আছে। দুই সিটি করপোরেশনেরও প্রস্তুতি আছে। 
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাজ হচ্ছে মশার কামড়ে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে সঠিকভাবে চিকিৎসা দেয়া। আর তখনই আমাদের কাজ শুরু হয়। মশা নিধনের কাজ হচ্ছে সিটি করপোরেশনগুলোর। অর্থাৎ সিটি করপোরেশন মশা মারবে। আর বাড়ির ভেতরে মশা নিধনের দায়িত্ব হচ্ছে বাড়ির মালিকের। বাড়ির ভেতরে ও আশপাশে যেখানে যেখানে মশা জন্মায় বাড়ির মালিককে তা পরিষ্কার রাখতে হবে।
সিটি করপোরেশনের মশা মারার কার্যক্রম তো আমাদের চোখে পড়ে নাÑ একজন সাংবাদিক এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে শেখ সালাহউদ্দিন বলেন, মশার লাস্ট স্টেজটা হচ্ছে উড়ন্ত মশা। এর আগে মশা তিনটি স্টেজ পানিতে অবস্থান করে। উড়ন্ত মশা হচ্ছে পূর্ণ বয়স্ক যুবক মশা। এটাকে এ পরিবেশে মারা একটু কঠিন। যেখানে মশার জন্ম হতে পারে সেই পানির ফো যদি আমরা অব্যাহত রাখতে পারি আমি মনে করি ৭০ শতাংশ মশা জন্মগ্রহণই করবে না। 
এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানতে চানÑ আপনাদের ওষুধটা কার্যকর কি না। জবাবে সালাহউদ্দিন বলেন, আমরা বলতে পারব না এ ওষুধটা কার্যকর কি না। এটা সরকার অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান থেকে পরীা করা হয়। আমরা তিন-চারটা জায়গা থেকে ওষুধটা পরীা করি।
খান মো: বেলাল বলেন, মশা মারার ক্রাশ প্রোগ্রাম আগামী ১১ মার্চ পর্যন্ত চলবে। বন্ধবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকী উপলে সপ্তাহব্যাপী পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পালিত হবে। আগামী ১৩ ও ১৪ মার্চ সব শিাপ্রতিষ্ঠান প্রধান, ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক সম্পৃক্ত করে সচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।সিটি করপোরেশনের একজন কর্মকর্তা জানান, এখন কিউলেক্স মশার হার বেশি। সবাই সমন্বিতভাবে কাজ না করলে এককভাবে সিটি করপোরেশনের পে মশা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব নয়।
সভায় জানানো হয়, ২০১৭ থেকে এ পর্যন্ত ঢাকা দণি ও সিটি করপোরেশন এলাকায় তিনটি জরিপ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। নির্দিষ্ট সময় পরপর এডিস মশার কীটতাত্ত্বিক জরিপকাজ পরিচালনা করা হবে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.