প্রবাসী বাংলাদেশীদের উন্নয়ন ধারায় সম্পৃক্ত করতে টাস্কফোর্স গঠন

সৈয়দ সামসুজ্জামান নীপু

প্রবাসী বাংলাদেশীদের আরো বেশি করে দেশের উন্নয়ন ধারায় সম্পৃক্ত করতে চায় সরকার। এ লক্ষ্যে একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে টাস্কফোর্সের সদস্য সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে ১১। তাদের মূল কাজ হবে একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো প্রণয়ন এবং পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে সরকারের কাছে সুপারিশ করা।
জানা গেছে, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিবকে (জাতিসঙ্ঘ) টাস্কফোর্সের আহ্বায়ক এবং একই বিভাগের একজন উপসচিবকে সদস্য সচিবের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। টাস্কফোর্সের অন্য সদস্যরা হচ্ছেন জাতিসঙ্ঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ড.এ কে আবদুল মোমেন এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, অর্থবিভাগ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের একজন করে প্রতিনিধি। এ ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘এটুআই’ কর্মসূচি, জাতিসঙ্ঘ উন্নয়ন সংস্থা বাংলাদেশ ও এফবিসিসিআইয়ের একজন করে প্রতিনিধি টাস্কফোর্সে রাখা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, মুখ্য সমন্বয়ক (এসডিজি বিষয়ক) এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব টাস্কফোর্সের উপদেষ্টা হিসেবে থাকবেন।
সূত্র জানায়, উপকারভোগী সংস্থা হিসেবে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিভাগ, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ, প্রাথমিক ও গণ শিক্ষা মন্ত্রণালয়, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিআইডিএ), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বিইজেডএ), বাংলাদেশ রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (বেপজা) প্রভৃতি সংস্থার প্রতিনিধিরা অনিবাসী বাংলাদেশীদের সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রে টাস্কফোর্সের সহযোগী সদস্য হিসেবে সম্পৃক্ত থাকবেন।
টাস্কফোর্সের কার্যপরিধি সম্পর্কে বলা হয়েছে টাস্কফোর্স বিদেশী অবস্থানরত বাংলাদেশীদের সম্পৃক্ততা সংক্রান্ত নীতিনির্ধারণ ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো প্রণয়নের বিষয়ে সরকারের কাছে সুপারিশ করবে। টাস্কফোর্স জাতীয় উন্নয়নে অনিবাসী বাংলাদেশীদের সম্পৃক্তকরণের বিষয়ে কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করবে। টাস্কফোর্স প্রয়োজনে সদস্য কো-অপট করতে পারবে কিংবা কার্য-সংশ্লিষ্ট যেকোনো মন্ত্রণালয়/বিভাগ/সংস্থার প্রতিনিধিকে আমন্ত্রণ জানাতে পারবে।
টাস্কফোর্স প্রয়োজন অনুসারে বৈঠকে মিলিত হবে এবং গৃহীত সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রমের প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাবে। সরকারের অনুমোদনক্রমে অনিবাসী বাংলাদেশীদের সম্পৃক্তকরণের লক্ষ্যে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো প্রতিষ্ঠার পর এ টাস্কফোর্স বিলুপ্ত হবে।
জানা গেছে, প্রবাসী বাংলাদেশীদের মধ্যে সৌদি আরবে রয়েছে সবচেয়ে বেশি। তাদের সংখ্যা প্রায় ১২ লাখ। সৌদি আরব ছাড়াও আরব বিশ্বের আরো কয়েকটি দেশ যেমন : সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, ওমান, কাতার ও বাহরাইনে প্রচুরসংখ্যক বাংলাদেশী প্রবাসীরা বসবাস করেন। সেখানে বাংলাদেশীদের বিদেশী কর্মী হিসেবে ধরা হয়।
যুক্তরাজ্যে পাঁচ লক্ষাধিক প্রবাসী বাংলাদেশীদের বসবাস। এ সব প্রবাসী পূর্ব লন্ডনে (টাওয়ার হ্যামলেট ও নিউহ্যাম) বসবাস করে। যাদের বেশির ভাগই সিলেট বিভাগের অধিবাসী। তথ্য মতে ব্রিটিশ বাংলাদেশীদের মধ্যে ৯০ শতাংশ সিলেটের অধিবাসী।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে বিশেষ করে নিউ ইয়র্ক সিটি, নিউজার্সি ও অন্যান্য প্রভিন্সে বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশী বসবাস করেন। আর মালয়েশিয়ায় চার লাখেরও বেশি বাংলাদেশী রয়েছেন। দণি কোরিয়া ও জাপান এবং পশ্চিমা দেশগুলো যেমনÑ ইতালি, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ায়ও অনেক প্রবাসী বাংলাদেশী বসবাস করে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.