অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য জেলা-উপজেলায় আবাসন নীতিমালা

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক

স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে যারা অসচ্ছল তাদের জন্য প্রত্যেক জেলা-উপজেলায় তৈরি হবে বহুতল আবাসিক ভবন। এর জন্য নীতিমালাও করা হবে। ২০২০ সালের জুনের মধ্যে এটি বাস্তবায়নের কাজ করবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি)। গতকাল জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় (একনেক) প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গতকাল এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের ফ্যাট প্রকল্পটিসহ মোট ছয়টি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়। সভা শেষে আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি জানান, ৬ প্রকল্পের সাথে আর্থিক সংশ্লিষ্টতা ৭ হাজার ৪৬৬ কোটি ৭৩ লাখ টাকা, এর মধ্যে জিওবি সাত হাজার ২৬ কোটি ৭৩ লাখ টাকা এবং প্রকল্প সাহায্য ৪৪০ কোটি টাকা।
একনেকের তথ্যানুযায়ী, প্রতি জেলা-উপজেলায় অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বহুতল ভবন নির্মাণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে দুই হাজার ২৭৩ কোটি ২১ লাখ টাকা। নির্মাণ করা হবে ৮ হাজারটি ফ্যাট। দুই ইউনিট বিশিষ্ট ২৬৪টি এবং চার ইউনিট বিশিষ্ট ২৬৮টি ভবন নির্মাণ করা হবে। প্রতিটি ইউনিট বা ফ্যাটের আয়তন হবে ৯৮২ বর্গফুট। খাস জমির ওপর ভবনগুলো নির্মাণ করা হবে। তবে কোনো উপজেলায় খাস জমি পাওয়া না গেলে সেখানে জমি অধিগ্রহণ করা হবে বলে পরিকল্পনামন্ত্রী জানান। একনেকের প্রস্তাবনা থেকে জানা গেছে, বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতিসহ ৯৩ জন বিচারপতি রয়েছেন। বিচারপতিদের বেশির ভাগেরই নিজস্ব চেম্বার নেই। কোনো কোনো েেত্র একটি চেম্বারে দু’জন বিচারপতি শেয়ার করছেন। বর্তমানে বিচারকার্য সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য ৯৩টি এজলাসের বিপরীতে ৬২টি এজলাস থাকায় বিচার কার্য পরিচালনা ব্যাহত হচ্ছে। মামলাজট নিষ্পত্তির ল্েয হাইকোর্ট ডিভিশনে অতিরিক্ত বিচারপতি নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। অদূর ভবিষ্যতে আরো অধিক বিচারপতি নিয়োগ দেয়া হবে। ফলে বর্তমান চেম্বার ও এজলাস স্বল্পতাজনিত সঙ্কট আরো চরম আকার ধারণ করবে। এ সঙ্কট মোকাবেলায় সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রসারণের ল্েয ১২ তলা ভবন নির্মাণ করার নিমিত্ত এ প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় ভবনটি নির্মাণ করা হলে অতিরিক্ত ৪০টি এজলাসের সংস্থান হবে। এ প্রকল্পের জন্য খরচ ধরা হয়েছে ১৩৮ কোটি চার লাখ টাকা।
অনুমোদিত অন্য প্রকল্পগুলো হলোÑ জলবায়ু সহিষ্ণু অবকাঠামো প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৬৬২ কোটি টাকা, সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন কর্মসূচি (সিভিসি) প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৩০১ কোটি টাকা, গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন (দ্বিতীয় পর্যায়) প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে তিন হাজার ৪৬৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং বিমানবন্দর বাইপাস ইন্টারসেকশন-লালবাগ-সালুটিকর-কোম্পানীগঞ্জ- ভোলাগঞ্জ সড়ককে জাতীয় মহাসড়কে উন্নীতকরণ (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৬২৬ কোটি ৯৩ লাখ টাকা।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.