রংপুরে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ

রংপুর অফিস

রংপুর মহানগরীর চব্বিশহাজারী আদর্শপাড়ায় স্ত্রীকে হত্যার পর লাশ ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, চব্বিশহাজারী এলাকার জসিম উদ্দিনের ছেলে নলকূপ শ্রমিক আলেফ উদ্দিন (৪০) কাজের সন্ধানে টাঙ্গাইলে গেলে সেখানে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জের খারিজা বাজনী এলাকার মোছা: জান্নাতুল (৩৫)-এর সাথে দ্বিতীয় বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে জান্নাতুল পিতার বাড়িতে বসবাস করতেন। হঠাৎ করে আলেফ উদ্দিন তার দ্বিতীয় স্ত্রী জান্নাতুলের সাথে যোগাযোগ ও ভরণপোষণ বন্ধ করে দেন। এতে সাত দিন আগে জান্নাতুল আলেফ উদ্দিনের রংপুর মহানগরীর চব্বিশহাজারী আদর্শপাড়ার বাড়িতে এলে প্রথম স্ত্রী ইসমোতারা ও ছেলে ইয়াছিন আলীর সাথে ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে দ্বিতীয় স্ত্রী জান্নাতুল আলেফ উদ্দিনের বাবা জসিম উদ্দিনের ঘরে আশ্রয় নেন।
আলেফ উদ্দিনের বাড়ির পাশের ভাড়াটিয়া কল্পনা আখতার জানান, ‘বুধবার টাঙ্গাইল থেকে আলেফ উদ্দিন বাড়িতে আসেন। এ সময় প্রথম স্ত্রী ইসমোতারা, ছেলে ইয়াছিন ও আলেফ উদ্দিনের সাথে রাতভর জান্নাতুলের ঝগড়া হয়। বৃহস্পতিবার সকালে আমি বাচ্চা নিয়ে উঠানের দিকে গেলে আলেফ উদ্দিন আমার পথ আটকিয়ে বলেন, ভাবী এই ঘরে কেউ ঢুকবেন না। তখন আমি বলি কেন এই ঘরে ঢুকবো না। জোর করে ঘরে ঢুকে দেখি জান্নাতুলের লাশ ওড়না দিয়ে লটকানো। পা মাটির সাথে লাগানো। এ সময় আলেফের প্রথম স্ত্রীর বড় ছেলে ইয়াছিন ঘরে ছিল। তিনি জানান, ঝগড়ার একপর্যায়ে রাতেই তাকে হত্যা করে লাশ ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রেখেছে। পরে আমরা পুলিশকে খবর দিই।’
পুলিশের উপপরিদর্শক এসআই সুদীপ্ত শাহীন জানান, আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছি। মূলত স্বামী, সতীন ও সতীনের ঘরের পক্ষের সন্তানদের সাথে পারিবারিক কলহের জের ধরে এই ঘটনা ঘটেছে। নিহতের গলায় ও পিঠে ক্ষতচিহ্ন রয়েছে। তবে তাকে হত্যা করে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে কি না বিষয়টি ময়নাতদন্তের রিপোর্টের পরই বলা যাবে।
স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর মনোয়ারুল ইসলাম লেবু জানান, গত তিন দিন আগে ভরণপোষণের টাকা দেয়া বন্ধ করার বিষয়ে জান্নাতুল আমার বরাবর অভিযোগ দিয়েছিল। আমি তখন আলেফ উদ্দিনকে কল করি। সে বুধবার টাঙ্গাইল থেকে বাড়িতে আসে। বিষয়টি নিয়ে বসার আগেই এসব ঘটনা ঘটল।
রংপুর কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ বাবুল মিঞা জানান, হত্যা না আত্মহত্যা সে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার পর আলেফ উদ্দিন ও তার পরিবারের সদস্যরা পলাতক রয়েছে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.