বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে নারী দিবসে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নগরভিত্তিক প্রান্তিক মহিলা প্রকল্পের স্টল পরিদর্শনকালে নকশিকাঁথা দেখছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা : পিআইডি
বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে নারী দিবসে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নগরভিত্তিক প্রান্তিক মহিলা প্রকল্পের স্টল পরিদর্শনকালে নকশিকাঁথা দেখছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা : পিআইডি

নারীর অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অতীব জরুরি : প্রধানমন্ত্রী

বাসস

অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অর্জন নারীর জন্য অত্যন্ত জরুরি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারীদের আত্মবিশ্বাস ও মর্যাদা নিয়ে চলে নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, মেয়েদের বসে থাকলে চলবে না, তাদের কাজ করতে হবে, লেখাপড়া শিখতে হবে এবং নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী গতকাল রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন।
মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন ইউএন রেসিডেন্ট কো-অর্ডিনেটর এবং ইউএন রিপ্রেজেন্টিটিভ ইন বাংলাদেশ মিয়া সেপো। মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসিমা বেগম অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা দেন।
অনুষ্ঠানে নারীর উন্নয়ন-অগ্রযাত্রায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ প্রধানমন্ত্রী পাঁচজনের হাতে সম্মাননা পদক তুলে দেন।
পদক প্রাপ্তরা হচ্ছেন- অর্থনৈতিক সাফল্য অর্জনে ঢাকা বিভাগের দৃষ্টি, শিক্ষা ও চাকরির ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করায় খুলনা বিভাগের মোসাম্মাৎ নাছিমা খাতুন, সফল জননী ক্যাটাগরিতে চট্টগ্রাম বিভাগের পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির হলা ক্রা প্রু মারমা, নির্যাতনের বিভীষিকা পেছনে ফেলে নতুনভাবে জীবন শুরু করায় ঢাকা বিভাগের ফিরোজা খাতুন ও সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখায় রাজশাহী বিভাগের আমেনা বেগম।
মেয়েদের যে মেধা আছে সেটি আমাদের কাজে লাগাতে হবে এবং একটি সমাজকে যদি গড়তে হয় যে সমাজে প্রায় অর্ধেকই নারী সেই অর্ধেককে বাদ রেখে একটা সমাজ উন্নত হতে পারে না। সমাজকে উন্নয়ন করতে হলে নারী-পুরুষ সবাইকেই সমানভাবে সুযোগ করে দিতে হবে। নারীদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করতে হবে এবং কর্মক্ষেত্রেই তাদের যে শক্তি ও মেধা সেটি যেন কাজে লাগে তার ব্যবস্থাও করতে হবে।
শেখ হাসিনা বলেন, ’৯৬ সালে তার দল সরকার গঠনের পর ইউনিয়ন পরিষদে নারীদের জন্য ৩০ শতাংশ কোটা বরাদ্দ করেন, যাতে তৃণমূল থেকে নেতৃত্ব উঠে আসে। তিনি বলেন এ সমাজে নারী-পুরুষ সবাই মিলে কাজ করতে পারলেই দেশ এগিয়ে যাবে।
তিনি বলেন, নারীদের অধিকার সুরক্ষিত করে তাদের সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়া, কর্মক্ষেত্রসহ সর্বক্ষেত্রেই তাদের বিচরণ যাতে নিশ্চিত হয় সে লক্ষ্য অর্জন করে আমরা অনেক দূর এগিয়ে গেছি।
প্রধানমন্ত্রী মেয়ের বিয়ের জন্য বাবা-মাকে তাড়াহুড়ো না করে তাদের নিজের পায়ে দাঁড়ানোর মতো শিক্ষা প্রদানে মনোনিবেশ করার আহ্বান জানান।
তার সরকার দেশে বাল্যবিয়ে বন্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাল্যবিয়ের বিরুদ্ধে একটি সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি করা একান্তভাবে প্রয়োজন, যেটি তার সরকার করে যাচ্ছে।
বাংলাদেশের নারীরা এখন পিছিয়ে নেই উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে বাধা আমাদের নারীদের ছিল সে বাধা অতিক্রম করে তারা এখন এগিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, এয়ারফোর্সে মেয়েরা যুদ্ধবিমান চালনা শুরু করে দিয়েছে, বিমানেতো মহিলা পাইলট আছে, রেলে নারী ড্রাইভার রয়েছে, গাড়িচালক রয়েছে, অন্যান্য বাহিনী এবং বিজিবিতেও তারা রয়েছে, জাতীয় সংসদে ৫০টি সংরক্ষিত আসন ছাড়াও ২২ জন সরাসরি নির্বাচিত নারী সদস্য রয়েছেন এবং সংসদ নেতা, উপনেতা, বিরোধীদলীয় নেতা ও স্পিকার একজন নারী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিচার বিভাগে নারী বিচারপতি, প্রশাসনের শীর্ষ পদে ১০ জন নারী সচিব, পুলিশ বাহিনী, র‌্যাব, জাতিসঙ্ঘ শান্তিরক্ষা বাহিনীতে অনেক নারী কর্মকর্তা রয়েছেন। এমনকি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদেও নারীরা দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি বলেন, আমাদের মেয়েরা এএফসি অনূর্ধ্ব-১৪ ফুটবলে আঞ্চলিক চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম আসরে ভারতের বিপে বিজয়ী হয় বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৫ মহিলা ফুটবল দল। জাতীয় নারী ক্রিকেট দল ২০২০ সালে অনুষ্ঠেয় টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ ক্রিকেট খেলবে। আমাদের নারীরা এভারেষ্ট শৃঙ্গও জয় করেছে।
তিনি বলেন, সব জায়গায় মেয়েরা তাদের স্থান করে নিয়েছে এবং একটু সাহসের সাথে এগিয়ে গেলেই এই স্থানটা করে নেয়া যায়।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.