মালয়েশিয়ায় স্বর্ণ মজুদের নামে ইউনিপে টু ইউর ভয়াবহ প্রতারণা

৪ জন গ্রেফতার
নিজস্ব প্রতিবেদক

মাল্টি লেভেল মার্কেটিং কোম্পানি ইউনিপে টু ইউর নাম করে মালয়ে গোল্ড রাখার কথা বলে দ্বিগুণ মুনাফার লোভ দিয়ে এখনো মানুষের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে নিষিদ্ধ এই প্রতিষ্ঠান। অস্বাভাবিক লেনদেনের বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সম্প্রতি তদন্ত শুরু করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। প্রাথমিক অনুসন্ধানে ইউনিপে টু ইউর দুই কর্মকর্তা এবং দুই এজেন্টের বিরুদ্ধে ৪৪ কোটি চার লাখ ৮৫ হাজার ৯৫১ টাকা আত্মসাতের সত্যতা পায় সিআইডি। এই অভিযোগের ভিত্তিতে গত বুধবার রাতে শাহবাগ থানায় দায়ের করা এক মামলায় (মামলা নং-১৬) চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেনÑ ইকবাল আলী, দেওয়ান মো: মঞ্জুর কবীর, এ এস এম জিয়াউল হক ও মিলন হাসান।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বিশেষ পুলিশ সুপার (এসএস) মোল্যা নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ইকবালের অ্যাকাউন্টে ৮৮ লাখ এবং প্রেস্টিজ নামের আরেক অ্যাকাউন্টে ২২ লাখ টাকা পাওয়া গেছে। বাকি টাকা কোথায় কিভাবে সরানো হয়েছে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অন্যান্য জড়িতের প্রমাণ পেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী আমরা জানতে পেরেছি ইউনিপে টু ইউর মালিক বিদেশে পলাতক রয়েছেন। এর আগে এই প্রতারণার বিষয়টি দুদক তদন্ত করছিল। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিলেজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) থেকে একটি অনুসন্ধান প্রতিবেদন পাঠায় সিআইডির ক্রাইম ইউনিটের কাছে। এরপর সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম দল তদন্ত শুরু করে। তারা গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে বলতÑ সেই টাকা দিয়ে সমপরিমাণ মূল্যের স্বর্ণ কেনা হচ্ছে মালয়েশিয়ায়। টাকা জমা দেয়ার সাথে সাথে অনলাইনে গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে স্বর্ণের পরিমাণও দেখাত। ১০ মাস পর সেই স্বর্ণ বিক্রি করলে গ্রাহকের টাকা দ্বিগুণ হয়ে যাবে বলে প্রলোভন দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় কোম্পানিটি।
তিনি আরো বলেন, গ্রেফতার চারজন ঢাকা, ঝিনাইদহ, যশোর এলাকার প্রায় এক হাজার গ্রাহকের কাছ থেকে ৪৪ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। তারা সেসব অর্থ ইউনিপে টু ইউর প্রধান কার্যালয়ে জমা দিয়েছে বলে জানিয়েছে। বিষয়টি আমরা তদন্ত করে দেখব।
মোল্লা নজরুল ইসলাম বলেন, মাল্টি লেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) কোম্পানি ইউনিপে টু ইউ বাংলাদেশ লিমিটেড নামের একটি কোম্পানির মাধ্যমে ২০০৯-১২ পর্যন্ত বহু স্তরবিশিষ্ট বিপণন পদ্ধতির মাধ্যমে দেশব্যাপী সাধারণ গ্রাহকদের কাছ থেকে বিপুল টাকা হাতিয়ে নেয় প্রষ্ঠানটি। এরা সাধারণত জনসাধারণকে বিভিন্নভাবে ধোঁকা দিয়ে প্রতারণা করে টাকা সংগ্রহ করত। গ্রাহকদের টাকা জমা হওয়ার সাথে সাথে ইউনিপে টু ইউর নিজস্ব পদ্ধতির মাধ্যমে গ্রাহকদের অ্যাকাউন্টে ভুয়া ভার্চুয়াল ডলার জমা দেখানো হতো। প্রকৃতপে কোনো ভার্চুয়াল ডলার জমা হতো না।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.