মনোহরগঞ্জে ১০ বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যা

দুই ঘাতকের স্বীকারোক্তি
কুমিল্লা সংবাদদাতা

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে পালাক্রমে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে ১০ বছর বয়সী সিমু আক্তারকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে গ্রেফতার হওয়া বাচ্চু মিয়া (৫০) ও আমির হামজা (৩৫)। সিমু হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মনোহরগঞ্জের নাথেরপেটুয়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক মো: জামির হোসেন জিয়া গতকাল দুপুরে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গত সোমবার দুপুরে উপজেলার উত্তর হাওলা ইউনিয়নের হাতিমারা গ্রামের কৃষক সাইদুল হকের ঘরের খাটের নিচ থেকে তার মেয়ে সিমু আক্তারের ক্ষতবিক্ষত-রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে মনোহরগঞ্জ থানা পুলিশ। শিশু সিমু স্থানীয় হাতিমারা মাদরাসায় প্রথম শ্রেণীর ছাত্রী ছিল।
এ ঘটনায় ওই দিন রাতে বাচ্চু মিয়াকে সন্দেহভাজন হিসেবে অভিযুক্ত করে থানায় একটি হত্যা মামলা করেন সিমুর বাবা সাইদুল হক। বাচ্চু মিয়া একই গ্রামের লাল মিয়ার ছেলে। ঘটনার পর পুলিশ বাচ্চু মিয়াকে আটক করে গত বুধবার সকালে তাকে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখায়। পরে তার দেয়া স্বীকারোক্তিতে গত বুধবার রাতে গ্রেফতার করা হয় একই গ্রামের মোস্তফা ভূঁইয়ার ছেলে আমির হামজাকে।
মনোহরগঞ্জ থানার ওসি ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, ঘটনার দিন বেলা ১১টায় বাচ্চু মিয়া ও আমির হামজা কৃষক সাইদুলের বাড়িতে যায়। ওই কৃষকের স্ত্রী সিলেটে থাকায় তাদের টার্গেট ছিল সাইদুলের সপ্তম শ্রেণীতে পড়–য়া মেজ মেয়েকে (১৭) ধর্ষণ করা। কিন্তু সে তখন স্কুলে ছিল। বাড়িতে সে সময় একাই ছিল সিমু। বাড়িতে প্রবেশ করে বড় মেয়েটিকে দেখতে না পেয়ে ওই শিশুর দিকেই চোখ পড়ে দু’জনের। পরে তারা মেয়েটিকে জোর করে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের পর শিশু মেয়েটি খুবই অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং সে বলে এই ঘটনা তার বাবাকে বলে দেবে। এ কথা বলার সাথে সাথেই ঘর থেকে বটি নিয়ে বাচ্চু শিশুটির মুখে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। পরে দা হাতে নিয়ে আমির হামজাও কুপিয়ে মেয়েটিকে ক্ষতবিক্ষত করে ফেলে। তারা শিশু মেয়েটির যৌনাঙ্গেও কুপিয়েছে।
গ্রেফতারকৃত বাচ্চু গত বুধবার বিকেলে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত বুধবার রাতে গ্রেফতার করা হয় এই ঘটনার অপর হোতা আমির হামজাকে। আমির হামজাও প্রাথমিকভাবে এসব ঘটনার কথা স্বীকার করেছে। গতকাল দুপুরে তাকে আদালতে নেয়া হয়েছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেয়ার জন্য।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.