ময়মনসিংহে গুলিবিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা শাওনের মৃত্যু

ময়মনসিংহ অফিস

ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি আশফাক আল রাফী শাওন গুলিবিদ্ধ হওয়ার এগারো দিন পর গতকাল দুপুরে ঢাকায় ইবনে সিনা হাসপাতালের আইসিইউতে তার মৃত্যু হয়েছে। শাওন গত ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে ময়মনসিংহ শহরের জেলা পরিষদের সামনে গুলিবিদ্ধ হন। সে ময়মনসিংহ জেলা যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম এ কদ্দুসের ছেলে। শাওনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ হাসপাতালে ছুটে যান। সন্ধ্যায় শাওনের লাশ ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ শহরের আকুয়া চৌরঙ্গীর মোড়স্থ বাসভবনে আনা হলে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। এ সময় শাওনের সহপাঠী, বন্ধু, আত্মীয়স্বজন ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ আগতরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। বাদ এশা শহরের আঞ্জুমান ঈদগাহ মাঠে শাওনের প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। আজ বাদ জুমা গ্রামের বাড়ি ফুলবাড়িয়া উপজেলার লক্ষ্মীপুর ঈদগাহ মাঠে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।
পুলিশ জানায়, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি রাত ২টার দিকে শহরের জেলা পরিষদ এলাকায় কয়েকজন বন্ধুর সাথে দাঁড়িয়ে ছিলেন শাওন। এ সময় পেটে গুলিবিদ্ধ হলে তাকে গুরুতর অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তার অবস্থার অবনতি ঘটলে সঙ্কটাপন্ন অবস্থায় ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) রাখা হয়। আইসিইউ ইনচার্জ অধ্যাপক ডা: রফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, শাওনের পেট থেকে একটি গুলি বের করা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য শাওনকে ঢাকায় পাঠানো হয়।
কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মাহমুদুল ইসলাম জানান, শাওন গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তার তিন বন্ধু আরিফ, হিমেল ও সঞ্জয়কে আটক করে জেলহাজতে পাঠানো হয়। কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি (তদন্ত) শাকের আহমেদ জানান, শাওন কিভাবে গুলিবিদ্ধ হন তা এখনো জানা যায়নি। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো মামলা না করায় পুলিশ বাদি হয়ে ঘটনার পরদিন একটি সাধারণ ডায়েরি করেছে।
শাওনের মৃত্যুতে ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান, মোসলেম উদ্দিন এমপি, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট জহিরুল হক খোকা ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এহতেশামুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক মোহিত উর রহমান শান্ত, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইউসুফ খান পাঠান, মেয়র ইকরামুল হক টিটু, ময়মনসিংহ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আমিনুল হক শামীমসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ পৃথক পৃথক বিবৃতিতে শোক ও পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.