বিএনপির অবস্থানে পুলিশের লাঠিচার্জ

শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি বানচাল করা হচ্ছে : মির্জা ফখরুল
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে বিএনপির অবস্থান কর্মসূচি পুলিশের লাঠিপেটায় পণ্ড হয়ে গেছে। কর্মসূচিতে অংশ নেয়া ছাত্রদল ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি এস এম মিজানুর রহমান রাজকে পুলিশ আটক করতে গেলে ব্যাপক হইচই পড়ে যায়। এ সময় হঠাৎ করেই নেতাকর্মীদের ওপর লাঠি চার্জ করে পুলিশ। শুরু হয় ছোটাছুটি। একপর্যায়ে কর্মসূচি পণ্ড হয়ে যায়। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে ১২টায় জাতীয় প্রেস কাবের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনাকে ন্যক্কারজনক আখ্যা দিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ধিক্কার জানাই, ন্যক্কারজনক ঘটনার নিন্দা জানাই। একই সাথে সরকারের পদত্যাগ দাবি করছি। দায়ী ব্যক্তিদের অবিলম্বে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি। গণ্ডগোলের মধ্যে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটলে তিনি বিস্তারিত বক্তব্য দেয়ার সুযোগ পাননি। পরে দুপুরে নয়া পল্টনে এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, পুলিশ উসকানি দিয়ে বিএনপির শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি বানচাল করে দিচ্ছে।
বেআইনিভাবে নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করছে। সম্প্রতি কয়েকজনকে যে পদ্ধতিতে গ্রেফতার করা হয়েছে, কোনো স্বাধীন দেশে এভাবে গ্রেফতার করা হয় বলে আমরা কখনো শুনিনি, দেখিনি। এ ধরনের তৎপরতায় একমাত্র তুলনা হতে পারে সেই হিটলারের গেসটাপো বাহিনীর সাথে বা অন্য ডিকটেটরদের সাথে।
প্রত্যদর্শীরা জানান, খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে জাতীয় প্রেস কাবের সামনে বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বিএনপির পূর্বঘোষিত অবস্থান কর্মসূচি ছিল। ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে কেন্দ্রীয় নেতাদের সামনে অবস্থানরত ছাত্রদল ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি এস এম মিজানুর রহমান রাজকে ধরার চেষ্টা চালায় পুলিশ। সমাবেশে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা: এ জেড এম জাহিদ হোসেনের বক্তব্য শেষ হওয়ার পরপর মিজানুর রহমানকে প্রথম দফায় ধরার চেষ্টা করে পুলিশ। এ সময় তাকে ছাড়িয়ে নেয়ার চেষ্টা করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। পরে প্রেস কাবের সামনে অবস্থানরত আইনশৃঙ্খলা রাকারী বাহিনীর সব সদস্য একযোগে তাকে ধরে নিয়ে যান। একপর্যায়ে দলটির নেতাকর্মীরা ছোটাছুটি শুরু করেন। ধাক্কাধাক্কিতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ কয়েকজন পড়ে যান। এতে বিএনপির পুরো কর্মসূচি ভণ্ডুল হয়ে যায়।
দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন বানোয়াট মামলায় সাজা প্রদানের প্রতিবাদ এবং অবিলম্বে তার নিঃশর্ত মুক্তি দাবিতে ঢাকাসহ সারা দেশে অবস্থান কর্মসূচি দিয়েছিল বিএনপি। সে মোতাবেক গতকাল বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ঢাকাসহ সারা দেশে এই কর্মসূচি পালন করে দলটি। অবস্থান কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের ঢল নেমেছিল। প্রেস কাবের সামনের সড়কে সচিবালয়ের মোড় এবং কদম ফোয়ারা পর্যন্ত কয়েক লাইনে বিভক্ত হয়ে নেতাকর্মীরা অবস্থান নেন। নির্ধারিত সময়ের আগেই সকাল সাড়ে ১০টা থেকে মানববন্ধনে লোকজন অবস্থান নিতে শুরু করেন। নেতাকর্মীরা জড়ো হয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। অবস্থান চলাকালে প্রেস কাবের সামনের প্রবেশপথ এবং বেরুনোর পথে ছিল পুলিশ। ফলে খুব অল্প জায়গায় গাদাগাদি করে অবস্থান নেন নেতাকর্মীরা। কেন্দ্রীয় নেতারা রাস্তার মাঝে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেন। এ সময় পুলিশ তাদের ঘিরে রাখে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি রাখা ছিল জলকামান, এপিসি কার ও প্রিজন ভ্যান।
বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানীর পরিচালনায় অবস্থান কর্মসূচিতে অন্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ভাইস চেয়ারম্যান ডা: এ জেড এম জাহিদ হোসেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক, আবদুস সালাম, কেন্দ্রীয় নেতা রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, কামরুজ্জামান রতন, অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, শহীদুল ইসলাম বাবুল, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের কাজী আবুল বাশার, মহিলা দলের আফরোজা আব্বাস, স্বেচ্ছাসেবক দলের আবদুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল, যুবদলের মোরতাজুল করীম বাদরু ও মামুনুর রশীদ, ২০ দলীয় জোট নেতাদের মধ্যে এলডিপির শাহাদাত হোসেন সেলিম, জাগপার খন্দকার লুৎফর রহমান, সাম্যবাদী দলের সাঈদ আহমেদও বক্তব্য দেন।
অবস্থান কর্মসূচিতে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, কেন্দ্রীয় নেতা আমিনুল হক, শামীমুর রহমান শামীম, রিয়াজ উদ্দিন নসু, ভিপি হারুন, আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, রফিক সিকদার, নিপুণ রায়, যুবদলের নূরুল ইসলাম নয়ন, মাহবুবুল হাসান পিঙ্কু, আ ক ম মোজাম্মেল হক, ছাত্রদলের আসাদুজ্জামান আসাদ, আলমগীর হাসান সোহান, আবু আতিক আল হাসান মিন্টু, জহিরুল ইসলাম বিপ্লব, মফিজুর রহমান আশিক, রাজীব আহসান পাপ্পু, জিয়া পরিষদের অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন, আবদুল্লাহিল মাসুদ প্রমুখ নেতা উপস্থিত ছিলেন।
বেছে বেছে গ্রেফতার করছে সরকার : মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমাদের নেত্রী কারাগারে যাওয়ার পর থেকে আমরা একেবারেই শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি করছি, সেই কর্মসূচিতে তারা (পুলিশ) অনুপ্রবেশ করে পরিকল্পিতভাবে আমরা যেন ভবিষ্যতে আর কোনোভাবে কর্মসূচি করতে না পারি সেই পরিবেশ সৃষ্টি করছে। বিএনপি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি করায় সরকারের গাত্রদাহ হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, পুলিশ উসকানি দিয়ে বিএনপির শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি বানচাল করে দিচ্ছে। বেআইনিভাবে নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করছে। কয়েজনকে সম্প্রতি যে পদ্ধতিতে গ্রেফতার করা হয়েছে, কোনো স্বাধীন দেশে এভাবে গ্রেফতার করা হয় বলে আমরা কখনো শুনিনি, দেখিনি। এই ঘটনার একমাত্র তুলনা হতে পারে সেই হিটলারের গেসটাপো বাহিনীর সাথে বা অন্য ডিকটেটরদের সাথে।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি থেকে বেছে বেছে নেতাদের গ্রেফতার করছে পুলিশ। তারা কর্মসূচির ভেতরে ঢুকে থাকে, পাশাপাশি থাকে, স্লোগান দেয় আমাদের নেতাকর্মীদের সাথে মিলিয়ে। তারপর তারা আমাদের নেতাকর্মীদের অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করে। গত এক মাসে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, এ বি এম মোশাররফ হোসেন, খন্দকার মাশুকুর রহমান, শফিউল বারী বাবু, আনিসুর রহমান তালুকদার খোকনসহ সাড়ে পাঁচ হাজারের বেশি নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি গ্রেফতারকৃত নেতাকর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, যারা নেতৃস্থানীয়, যারা গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন, যারা নির্বাচনে নেতৃত্ব দেন, দল পরিচালনা করেন, তাদের বেছে বেছে সরকার গ্রেফতার করছে। নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবি জানিয়ে ফখরুল বলেন, তা না হলে যে পরিবেশ সৃষ্টি হবে, তার দায় সরকারকেই নিতে হবে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.