বাংলাদেশের পরাজয় যথারীতি

ক্রীড়া প্রতিবেদক

তারুণ্যনির্ভর ভারতকে শ্রীলঙ্কা নাজেহাল করলেও বাংলাদেশের অভিজ্ঞ স্কোয়াড সে দলের কাছে বিধ্বস্ত হয়েছে। আসলে টি-২০তে এটা নর্মাল চিত্র। প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই বাংলাদেশের পারফরম্যান্স একই রকম। সাদামাটা এক পারফরম্যান্স অর্থাৎ লড়াইয়ের আগেই হেরে যাওয়া। কালও অনভিজ্ঞ এক দলের মতো খেলে হেরেছে বাংলাদেশ ৬ উইকেটে। নিদাসাহ ট্রফির প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কার জয়ের পেছনে যে অ্যাডভান্টেজ ছিল তা পাওয়ারপ্লে (১-৬ ওভার)। ভারত যেখানে সংগ্রহ করেছিল ৪০/২, শ্রীলঙ্কা করে ৭৫/২। বাংলাদেশ ভারতের বিপক্ষে ৪৪/২ করেছে। কিন্তু পিছিয়ে পড়েছে তারা এরপরও। ভারত ওই ম্যাচে ১০০ করেছিল ১২ ওভারে। যেখানে জয় পাওয়া শ্রীলঙ্কার ছিল ৯.৪ ওভারে। বাংলাদেশ ১০০ রান করতে ওভার খেলেছে ১৪.৫। প্রথম ইনিংস শেষেই বলে দেয়া যায় বাংলাদেশ বেশ পিছিয়ে পড়েছে এ ম্যাচে। ভারতকে পেছনে ফেলতে শ্রীলঙ্কার মতোই যেখানে ব্যাটিং প্রয়োজন ছিল তাতে শতভাগ ব্যর্থ তামিম, মুশফিক, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদরা। প্রেমাদাসায় বাংলাদেশ যে প্রত্যাশায় নেমেছিল, তা পূরণ হবে বলে মনে হচ্ছে না। কারণ টি-২০তে যেসব স্থানে এগিয়ে থাকা প্রয়োজন, সেগুলো এখনো ওভারকাম করতে পারছে না টিম বাংলাদেশ। এভাবে খেলে সাফল্য আশা করা যায় না। কালকের ম্যাচে ব্যাটসম্যানরা দায়িত্বই নিয়ে খেলতে পারেনি। তারুণ্যনির্ভর ভারত কিছুটা বিব্রতকর অবস্থায় খেলা শুরু করে। ক্যাচ ড্রপ। লাইন নিশানাহীন বোলিং। বাংলাদেশ এগুলো ক্যাশ করতে পারলে প্রচণ্ড চাপ প্রয়োগ করে খেলে দারুণ একটা অবস্থানে চলে যেতে পারত। কিন্তু তা পারেনি। যে রান তারা করেছে এটা একেবারেই সাদামাটা। টি-২০ ক্রিকেটের উইকেট কখনই বোলিং-সহায়ক হয় না। প্রেমাদাসার উইকেটও তেমন ছিল না। কিন্তু এরপরও বাংলাদেশের সংগ্রহ ১৩৯। ৯ উইকেটে। এ রান নিয়ে লড়াই হয় না। কারণ টি-২০তে যেখানে ২০০ প্লাস রানও সেভ না। সেখানে দেড় শ’ও হয়নি বাংলাদেশের।
তামিম ও সৌম্য সরকারের সূচনা হলেও দু’জনই সাবলীল ছিলেন না। সৌম্য সবে অ্যাটাক শুরু করেছিলেন। কিন্তু অবস্থা বুঝে ব্যাটসম্যানদের কন্ট্রোল করে ফেলে ভারতীয় নতুন বোলাররা। সৌম্যকে ১৪ রানে ফিরিয়ে দেয়ার পর তামিমকেও আউট করেন ১৫ রানে। দলের রান তখন ৩৫। এরপর লিটন কুমার চেষ্টা করে যান। কিন্তু তার সাথে খেলতে নামা মুশফিক, মাহমুদুল্লাহ পারেনি পরিস্থিতি অনুসারে ব্যাটিং করতে। কারণ আর কিছু না, পাওয়ারপ্লেতে সেভাবে রান তুলতে না পারার দরুন একটা চাপ তৈরি হয়ে যায় মিডল অর্ডারে। তা কাভার করতে যেয়ে অ্যাটাকিং খেলতে যান তারা। এতেই দ্রুত আউট ওই দুই ব্যাটসম্যান। ৩৪ করে লিটন আউট হওয়ার পর সাব্বির (৩০) যা লড়েছে। তাতেই স্কোর ওই পর্যায়ে ওঠে। ৬ জেনুইন ব্যাটসম্যান ও এক অলরাউন্ডার নিয়ে এ অবস্থা ব্যাটিংয়ে। জয়ের জন্য খেলতে নেমে ওই রান তাড়া করেছে ভারত অনেকটাই হেসেখেলে। ১৮.৪ ওভারে চার উইকেট হারিয়ে পৌঁছায় লক্ষ্যে। ২৮ রানে রুহিত শর্মাকে মুস্তাফিজ বোল্ডআউট করলেও শেখর ধাওয়ান এ ম্যাচেও দায়িত্বপূর্র্ণ ৫৫ রানের এক ইনিংস খেলে দলকে পৌঁছে দেন সহজ জয়ে। ধাওয়ান ছাড়া রায়নার ২৮ ও পান্ডের ১৯ বলে করা অপরাজিত ২৭ রান ভারতকে নিয়ে যায় জয়ের লক্ষ্যে। দ্বিতীয় ম্যাচে এটা ভারতের প্রথম জয়। রুবেল নেন দুই উইকেট। উল্লেখ্য, দক্ষিণ আফ্রিকায় দুই ম্যাচের সিরিজে হারের পর ঘরের মাটিতেও টানা দুই ম্যাচে হেরেছিল শ্রীলঙ্কার কাছে। সে পরাজয় অব্যাহত এখনো।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.