বদদোয়া নয় হেদায়াত চাইতে হবে

জাব্বার করিম


কোনো ব্যক্তির অমঙ্গল কিংবা অনিষ্ট চেয়ে প্রার্থনা করাই হলোÑ বদদোয়া। একে অপরের সাথে সামান্য বিষয়ে মনোমালিন্য হলে বা আচরণ দ্বারা মনে কষ্ট পেলে অনেকে অভিসম্পাত বা বদদোয়া করে থাকেন। হজরত সামুরা ইবনে জুনদুব রা: হতে বর্ণিত হয়েছেÑ হজরত রাসূল সা: এরশাদ করেছেন, তোমরা একে অপরকে এভাবে অভিসম্পাত করবে না যে, তোমার ওপর আল্লাহর অভিসম্পাত, আল্লাহর গজব পতিত হোক এবং তুমি জাহান্নামি হও। এবং তোমাকে অগ্নিকুণ্ডে নিপে করা হোক বলে বদদোয়াও করবে না। (তিরমিজি ও আবু দাউদ)।
আমাদের মহানবী সা: কাফের মোনাফিক দ্বারা অনেক দুঃখ-কষ্ট লাঞ্ছনা পেয়েছেন। এরপরও হজরত রাসূল সা: কাফেদের ওপর অভিসম্পাত করেননি। হজরত রাসূল সা: দুঃখ-যাতনার বিষয়ে যদি উহ পরিমাণ শব্দ করতেন, তাহলে কাফেরের বংশ বলে কিছুই থাকত না। মন্দ আচরণকারী ব্যক্তির হেদায়াত লাভের জন্যে আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করাই হলো মোমিনের কাজ। অহেতুক কারো ওপর অভিসম্পাত করলে তা নিজের ওপর এসে পড়ে। হজরত আবু দারদা রা: হতে বর্ণিত হয়েছেÑ হযরত রাসূল সা: এরশাদ করেছেন, যখন বান্দা কোনো কিছুর ওপর অভিসম্পাত করে তখন সে অভিসম্পাত বাক্যটি আসমানের দিকে উড়ে যায়; কিন্তু এর জন্য আসমানের দরজাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়। তারপর তা জমিনের দিকে ফিরে আসে এবং জমিনের দরজাগুলোও বন্ধ করে দেয়া হয়। অতঃপর তা ডান দিকে যায় এবং পুনরায় বাম দিকে ফিরে আসে। আর যখন এভাবে কোনো দিকেই স্থান না পায় তখন অভিসম্পাত দানকারীর দিকে ফিরে আসে। যার ওপর অভিসম্পাত করা হয়েছে যদি সে অভিসম্পাতের উপযোগী না হয়। অভিসম্পাত তার দিকেই প্রত্যাবর্তন করে। (আবু দাউদ)।
হজরত রাসূল সা:-এর চলাফেরার পথে আরবের এক বুড়ি কাটা পুঁতে রাখত। হঠাৎ একদিন রাসূল সা: রাস্তায় কাটা দেখতে না পেয়ে বুড়ি অসুস্থ ভেবে বুড়িকে দেখতে তার বাড়িতে চলে গিয়েছিলেন। আবু জাহেল হজরত রাসূল সা:-এর ওপর সীমাহীন বর্বরোচিত নির্যাতন করেছেন। এত কিছুর পরও রাসূল সা: আবু জাহেলকে চাচা হিসেবে সম্বোধন করতেন। আবু জাহেলকে একবারের জন্যও গালমন্দ করেননি। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা: হতে বর্ণিত হয়েছে, একদিন বাতাসে এক ব্যক্তির চাদর উড়িয়ে নিলো। তখন সে ব্যক্তি বাতাসকে অভিসম্পাত করল। এটা শুনে হজরত রাসূল সা: বললেন, ‘বায়ুকে অভিসম্পাত করো না, কেননা বায়ু আল্লাহ কর্তৃক প্রেরিত। বস্তুত, যে ব্যক্তি এরূপ কোনো কিছুকে অভিসম্পাত করল যা অভিসম্পাতের উপযোগী নয়, তবে ওই অভিসম্পাত তার নিজের ওপরই ফিরে আসবে। (তিরমিজি, আবু দাউদ)।
বিপদে আপদে অভিসম্পাত না করে আল্লাহর নিকট ধৈর্যধারণ করার শক্তি চাইতে হবে। কারণ, যে ব্যক্তিকে উদ্দেশে করে বদদোয়া করা হচ্ছে, তারও একজন মালিক রয়েছেন। হজরত আইয়ুব আ: অসুস্থায় কষ্ট পাচ্ছিলেন। এরপরও তিনি প্রার্থনা করেছিলেন, ‘(হে আল্লাহ!) আমার কষ্ট হচ্ছে, আর আপনি সবার চেয়ে অধিক দয়ালু।’ (সূরা আম্বিয়া : ৮৩)। হজরত ইয়াকুব আ: প্রার্থনা করেছিলেন, ‘আমি আমার শোক ও দুঃখের অভিযোগ কেবল আপনার সমীপেই পেশ করছি।’ (সূরা ইউসূফ : ৮৬)। অভিসম্পাত দানের ন্যায় মন্দ কাজ বেঁচে থাকার জন্য আল্লাহ সবাইকে তৌফিক দান করুক। আমিন।
লেখক : প্রবন্ধকার

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.