ফিলিস্তিনিদের তাড়াতে ইসরাইলের নতুন আইন

পিএলওর নিন্দা
আলজাজিরা

জেরুসালেমে ফিলিস্তিনিদের বসবাসের অধিকার কেড়ে নিতে একটি নতুন আইন প্রণয়ন করেছে ইসরাইল। কোনো ফিলিস্তিনি ইসরাইলকে রাষ্ট্র হিসেবে অস্বীকার করলেই তার জেরুসালেমে বসবাস নিষিদ্ধ করতে পারবে কর্তৃপ। একই সাথে মিথ্যা তথ্য প্রদান ও অপরাধকর্মে জড়িত থাকার বিবেচনাতেও ফিলিস্তিনিদের বসবাসের অধিকার কেড়ে নেয়া যাবে প্রণীত আইনের মধ্য দিয়ে।
বুধবার পাসকৃত আইনটিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্বিচারে মতা প্রয়োগের সুযোগ দেয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, তথ্যের সত্যমিথ্যা কিংবা অপরাধ-নিরপরাধ চিহ্নিত করার েেত্র তাদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বিবেচিত হবে। আইনটিকে ‘চরম বর্ণবাদী’ আখ্যা দিয়েছে প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশন (পিএলও)।
ইসরাইল অধিকৃত পূর্ব জেরুসালেমে চার লাখ ২০ হাজার ফিলিস্তিনির বসবাস। পূর্ব জেরুসালেমকে নিজেদের অবিভাজ্য রাজধানী হিসেবে ইসরাইল দাবি করে এলেও সেখানে জন্ম নেয়া এবং বসবাসরত ফিলিস্তিনিদের ইসরাইলি নাগরিকত্ব নেই। শহরটিতে বসবাসরত ফিলিস্তিনিদের ‘পারমানেন্ট রেসিডেন্সি’ আইডি কার্ড এবং অস্থায়ীভাবে জর্দানের পাসপোর্ট দেয়া আছে। তাদের সাথে বিদেশী অভিবাসীদের মতো আচরণ করা হয়ে থাকে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পূর্ব জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি না দিলেও গত ৬ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডেনাল্ড ট্রাম্প জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেকে স্বীকৃতি দেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস তেলআবিব থেকে জেরুসালেমে সরানোর নির্দেশ দেন। এ নিয়ে এখনো বিশ্বজুড়ে সমালোচনা চলছে। আর তার মধ্যেই এবার জেরুসালেমে ফিলিস্তিনিদের বসবাসের অধিকার কেড়ে নেয়ার সুযোগ রেখে নতুন আইন পাস করেছে ইসরাইলি পার্লামেন্ট।
নতুন আইনের আওতায় ইসরাইল রাষ্ট্রকে স্বীকার না করলে যেকোনো ফিলিস্তিনির জেরুসালেমে বসবাসের অধিকার কেড়ে নিতে পারবে ইসরাইলি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পাশপাশি মন্ত্রণালয় কর্তৃপ কাউকে মিথ্যা তথ্যদাতা কিংবা অপরাধকর্মে জড়িত মনে করলেই পাসকৃত আইন অনুযায়ী তার বসবাসের অধিকার কেড়ে নিতে পারবে। মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তই এ েেত্র চূড়ান্ত বিবেচিত হবে। ইসরাইলি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরিয়ে দেরি টুইটারে দেয়া এক বিবৃতিতে বলেন, এ আইনের আওতায় ইসরাইলিদের ‘নিরাপত্তার সুরা’ দিতে পারবেন তিনি।
প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের (পিএলও) ঊর্ধ্বতন সদস্য হানান আশরাবি নতুন আইনটি নিয়ে ােভ জানিয়ে একে ‘আইনের চরম বর্ণবাদী নজির’ বলে উল্লেখ করেছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘জেরুসালেম থেকে ফিলিস্তিনিদের বসবাসের অধিকার অনৈতিকভাবে কেড়ে নেয়া এবং নিজেদের শহরে বসবাসরত ফিলিস্তিনিদের অধিকার-বঞ্চিত করার মধ্য দিয়ে ইসরাইল সরকার আন্তর্জাতিক আইনকে উপো করছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও মানবিকতাবিষয়ক আইনের লঙ্ঘন করছে তারা।’ সম্প্রতি এক রিপোর্টে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানায়, জেরুসালেমে ফিলিস্তিনিদের বসবাসের অধিকার বাতিল করা ‘যুদ্ধাপরাধের শামিল’ হতে পারে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের চুক্তির আওতায় তা ‘যুদ্ধাপরাধের শামিল হতে পারে’ বলে উল্লেখ করা হয়।
উল্লেখ্য, ১৯৯০-এর দশকের শুরু থেকে ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে বেশ কয়েক দফায় শান্তি আলোচনা হয়েছে। ফিলিস্তিনিরা চায় পশ্চিম তীরে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে এবং পূর্ব জেরুসালেমকে এর রাজধানী বানাতে। ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পর থেকে ইসরাইল পূর্ব জেরুসালেম দখল করে রেখেছে। পূর্ব জেরুসালেমকে নিজেদের অবিভাজ্য রাজধানী বলে দাবি করে থাকে ইসরাইল। অবশ্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পূর্ব জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। ১৯৬৭ সালের পর পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুসালেমে এক শ’রও বেশি বসতি স্থাপন করেছে ইসরাইল।
আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় এ বসতি স্থাপনকে অবৈধ বলে বিবেচনা করা হলেও ইসরাইল তা মানতে চায় না।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.