পূর্ব গৌতার হামুরিয়া শহরে বিমান হামলায় গায়ে আগুন ধরে যাওয়া এক ব্যক্তিকে বাঁচানোর চেষ্টা দুই স্বেচ্ছাসেবীর : এএফপি
পূর্ব গৌতার হামুরিয়া শহরে বিমান হামলায় গায়ে আগুন ধরে যাওয়া এক ব্যক্তিকে বাঁচানোর চেষ্টা দুই স্বেচ্ছাসেবীর : এএফপি

পূর্ব গৌতায় রেড ক্রসের ত্রাণ বিতরণ আবারো বন্ধ

আল জাজিরা

সিরিয়ার পূর্ব গৌতায় সরকারি বাহিনীর হামলার মুখে আবারো ত্রাণ বিতরণ বন্ধ করে দিয়েছে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস। সংস্থাটি বলেছে, যুদ্ধবিরতির মধ্যে সরকারি বাহিনী তাদের হামলা অব্যাহত রেখেছে বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এলাকাটিতে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে জানা গেছে, গত বুধবারও বিমান হামলায় নিহত হয়েছে ২৮ জন।
গতকাল বৃহস্পতিবার রেড ক্রসের একটি ত্রাণবহর যাওয়ার কথা ছিল অবরুদ্ধ পূর্ব গৌতায়। জরুরি প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী বিতরণ করার কথা ছিল এই বহরটির। গত সপ্তাহেও তারা ত্রাণ বিতরণ করতে চেয়েও পারেনি। গত সোমবার প্রথমবারের মতো এলাকাটিতে ৪৬ ট্রাক ত্রাণ প্রবেশ করেছিল; কিন্তু সরকারি বাহিনী অন্তত ১৪টি ট্রাকের চিকিৎসাসামগ্রী বিতরণ করতে দেয়নি।
গত বুধবার জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদ ২৪ ফেব্রুয়ারি পাস করা যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবটির দ্রুত বাস্তবায়ন করার দাবি জানিয়েছে। ওই প্রস্তাবে পূর্ব গৌতাসহ সমগ্র সিরিয়ার ৩০ দিনের যুদ্ধবিরতি দেয়ার কথা ছিল। জাতিসঙ্ঘে নিয়োজিত নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত কারেন ভ্যান অস্টেরম এক বিবৃতিতে বলেছেন, পূর্ব গৌতার মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগে আছে নিরাপত্তা পরিষদ। রুদ্ধদ্বার বৈঠকে পাস করা প্রস্তাবটি দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিও জানিয়েছে পরিষদ।
এ দিকে জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান জাইদ রাদ আল হুসেইন বলেছেন, রাশিয়ার সহযোগিতায় পরিচালিত সরকারি অভিযান যেন প্রলয় ডেকে এনেছে অঞ্চলটিতে। প্রসঙ্গত, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পূর্ব গৌতায় সর্বাত্মক হামলা শুরু করেছে বাশার আল আসাদের সরকারি বাহিনী। পূর্ব গৌতা এলাকাটি রাজধানী দামেস্ক থেকে ১০ মাইলের মধ্যে। গৃহযুদ্ধের শুরু থেকেই এলাকাটি বিদ্রোহীদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। সর্বশেষ এই হামলায় যুদ্ধবিমান থেকে প্রতিদিন বেসামরিক এলাকার ওপর বোমা ফেলা হচ্ছে।
বেশ কয়েকটি দিক থেকে পূর্ব গৌতায় বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে সরকারি বাহিনী। গত মঙ্গলবার তারা এই অভিযানে আরো সৈন্য ও রসদ পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে। সরকারপন্থী একজন সিরীয় সামরিক কমান্ডার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ইতোমধ্যেই বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এলাকার অর্ধেক দখল করতে সক্ষম হয়েছে সেনারা। একই সাথে পূর্ব দিক থেকেও অগ্রসর হচ্ছে স্থলবাহিনী।
তবে সেখানে অবস্থানরত বিদ্রোহীদের একজন মুখপাত্র এই অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন। ফাউলিক আল রহমান নামে একটি সংগঠনের কর্মী ওয়ায়েল ওলওয়ান বুধবার আলজাজিরাকে বলেছেন, বাশার বাহিনী এখন পর্যন্ত ৩০ শতাংশ ভূখণ্ড দখল করেছে। তিনি বলেন, ‘বাশার বাহিনী বেইত সিওয়া শহরের কাছে পৌঁছেছে, অন্য দিকে বিদ্রোহীরা আল মুহাম্মাদিয়া শহরে বিদ্রোহীরা নতুন করে অবস্থান নিয়েছে। প্রায়ই মুখোমুখি লড়াই হচ্ছে।’
সিরিয়ার স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা হোয়াইট হেলমেটের মুখপাত্র মাহমুদ আদম জানিয়েছেন, গত বুধবারও ৫০ জন নিহত হয়েছে সরকারি বাহিনীর বোমা ও কামানের গোলায়। তিনি বলেন, তারা বেসামরিক মানুষের বিরুদ্ধে এমন কোনো অস্ত্র নেই যা ব্যবহার করেনি। ফসফরাস বোমা থেকে শুরু করে কামানÑ সব কিছুই ব্যবহার করেছে।’
এ দিকে বেসরকারি পর্যবেক্ষক সংস্থা সিরিয়ার অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত পূর্ব গৌতায় সরকারি হামলায় ৮০০ লোক নিহত হয়েছে।
২০১৩ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে রাজধানীর কাছে পূর্ব গৌতা এলাকটি বিদ্রোহীদের দখলে। তবে চার লাখ লোক অধ্যুষিত এলাকাটি সেই থেকেই অবরোধ করে রেখেছিল সরকারি বাহিনী। বাইরে থেকে চলা হামলার কারণে অনেক বাসিন্দাই তাদের বাড়িঘর ছেড়ে আরো ভেতরের দিকে গিয়ে আশ্রয় নিচ্ছে। হামলার কারণে এলাকাটি ছেড়ে চলে আসতে না পারার কারণেই তারা আরো বেশি বিদ্রোহীদের ঘাঁটির দিকে চলে যাচ্ছে। মঙ্গলবার ও বুধবার দুই দিনে দৌমা শহরে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে এক হাজার পরিবার। গত সপ্তাহে রাশিয়া প্রতিদিন পাঁচ ঘণ্টার মানবিক করিডোর ঘোষণা করলেও হামলা বন্ধ না হওয়ার কারণে তার ওপর ভরসা রাখতে পারছেন না নাগরিকেরা।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.