ট্রাম্পের বাণিজ্য যুদ্ধের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি চীনের

রয়টার্স

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্য যুদ্ধের পাল্টা জবাব দেয়ার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে চীন। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বলেছেন, ট্রাম্পের বাণিজ্য যুদ্ধের ন্যায়সঙ্গত পাল্টা জবাব দেবে চীন। তবে এ ধরনের একটি যুদ্ধে সব পই তিগ্রস্ত হবে।
৮ মার্চ বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এমন মন্তব্য করেন।
চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়। ইতিহাস স্যা দেয় যে, বাণিজ্যযুদ্ধ সমস্যা সমাধানের কোনো সঠিক পথ নয়। বিশেষ করে আজকের এই বিশ্বায়নের যুগে বাণিজ্যযুদ্ধ বেছে নেয়া একটি ভুল পদপে। এটি শুধু তিই বয়ে আনবে। ওয়াং ই বলেন, আধুনিকায়নের পথযাত্রায় চীনকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। তবে এ জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে স্থানচ্যুত করতে হবে না। এর আগে চীনা পার্লামেন্টের মুখপাত্র ঝাং ইয়েসুই বলেন, তার দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কোনো বাণিজ্যযুদ্ধ চায় না।
সম্প্রতি টুইটারে দেয়া এক পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রে ইস্পাত আমদানির ওপর ২৫ শতাংশ ও অ্যালুমিনিয়াম আমদানির ওপর ১০ শতাংশ কর আরোপের পরিকল্পনার কথা জানান ট্রাম্প। এর প্রেেিতই চীনের প থেকে এমন বক্তব্য এলো। বেইজিং বলছে, নিজেদের স্বার্থ সুরায় তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য প্রতিবিধান ও তদন্ত ব্যুরোর প্রধান ওয়াং হেজুন এক বিবৃতিতে বলেছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের ওই সিদ্ধান্ত বহুপাকি বাণিজ্য প্রক্রিয়াকরণ ব্যবস্থাকে তিগ্রস্ত করবে। স্বাভাবিক আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর এর প্রভাব পড়বে।
তিনি বলেন, শেষ পর্যন্ত যদি যুক্তরাষ্ট্রের পদপে চীনের স্বার্থের ওপর আঘাত হানে তাহলে নিজ অধিকার ও স্বার্থ রায় তিগ্রস্ত অন্যান্য দেশের সাথে মিলে উদ্যোগ নেবে বেইজিং। চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলেন, যদি সব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে তাহলে বিশ্ববাণিজ্যের শৃঙ্খলায় নিঃসন্দেহে মারাত্মক প্রভাব পড়বে।
এ দিকে ট্রাম্পের ওই টুইটের পর যুক্তরাষ্ট্রের ইস্পাত, কৃষিসহ অন্যান্য পণ্যের ওপর কর বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান জিন কাউডি জানকার এর কঠোর জবাব দেয়ার সংকল্প ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, ‘কোনো অন্যায্য ব্যবস্থার কারণে আমাদের শিল্প তিগ্রস্ত হলে আমরাও চুপ করে বসে থাকব না। এমন হলে হাজার হাজার ইউরোপিয়ানের চাকরি ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। আমরা হার্লি-ডেভিসন, লেভিস-এর বোরবোন ও নীল জিনসের ওপর কর আরোপ করব।’
ফ্রান্সের অর্থমন্ত্রী ব্রুনো লি মাইরে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইইউ বাণিজ্য যুদ্ধে সবাই তিগ্রস্ত হবে। তিনি বিষয়টি নিয়ে ‘ইউরোপীয় ইউনিয়নের শক্তিশালী, সহযোগিতামূলক ও সমন্বিত প্রতিক্রিয়ার’ ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়টি বিবেচনা করছে কানাডা, মেক্সিকো, চীন ও ব্রাজিলও। কানাডা যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি ইস্পাত রফতানি করে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুুডো এই কর আরোপকে ‘পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, তারা কানাডার শিল্পকে রা করতে সমর্থ হবেন বলে তিনি আত্মবিশ্বাসী। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বলেছে, ট্রাম্পের এই বিধিনিষেধ শুধু যুক্তরাষ্ট্রের বাইরেই প্রভাব ফেলবে না, বরং এটি যুক্তরাষ্ট্রের নিজের অর্থনীতিরও তি করবে।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.