সু চির পদক প্রত্যাহার হলোকাস্ট মিউজিয়ামের

রয়টার্স

রোহিঙ্গাদের ওপর সেনাবাহিনীর আক্রমণ বন্ধ, এমনকি তাদের ওপর জাতিগত নিধনযঞ্জের কথা স্বীকার না করায় মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চিকে দেয়া পদক প্রত্যাহার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের হলোকাস্ট মেমোরিয়াল মিউজিয়াম।
তারা পুরস্কারটি প্রত্যাহার করে নেয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেছে সু চিকে লেখা এক চিঠিতে। ওয়াশিংটনে মিয়ানমার দূতাবাসে চিঠিটি পৌঁছে দেয়া হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসিদের নৃশংসতার শিকারদের স্মরণে প্রতিষ্ঠিত ওয়াশিংটনের এই জাদুঘর কর্তৃপ বুধবার সুচিকে উদ্দেশ করে লেখা এক চিঠিতে বলেছে, এটা খুবই অনুতাপের যে, আমরা এখন এই পদক প্রত্যাহার করছি। এই সিদ্ধান্ত নেয়া আমাদের জন্য ছিল কঠিন। চিঠিতে বলা হয়, হলোকাস্ট মিউজিয়াম আশা করেছিল মিয়ানমারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর সেনাবাহিনী যে বর্বরতা চালাচ্ছে, তার বিরুদ্ধে সু চি অন্তত নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাবেন, এসব বন্ধ করার বিষয়ে পদপে নেবেন এবং বিপন্ন রোহিঙ্গাদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করবেন। কেননা সার্বজনীন মানবাধিকার ও মানুষের মানবিক মর্যাদার প্রতি শ্রদ্ধাশীল নেত্রী হিসেবে বিশ্বব্যাপী তার পরিচিতি রয়েছে।
কিন্তু সু চ এসবের কিছুই না করে চুপ থেকেছেন। এসবকে আড়াল করার অপচেষ্টা চালিয়েছেন। এজন্যই হলোকাস্ট মিউজিয়ামের মানবাধিকার পদকটির যোগ্য তিনি আর নেই।
মিয়ানমারে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে দেড় দশক গৃহবন্দিত্বে কাটানো সু চিকে ২০১২ সালে দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসেবে সম্মানজনক এলি উইসেল পদক দেয়া হয়েছিল। নোবেলজয়ী উইসেল ছিলেন এই জাদুঘর প্রতিষ্ঠাতাদের একজন। নাৎসিদের নির্যাতন থেকে বেঁচে যাওয়া উইসেলকেই প্রথম এই পদক দেয়া হয়েছিল।
২০১৭ সালে নভেম্বর মাসে হলোকাস্ট মিউজিয়াম এক রিপোর্টে, ‘রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে মিয়ানমার গণহত্যা চালাচ্ছে’ বলে উল্লেখ করে। তারা মিয়ানমারের মানবতাবিরোধী নৃশংস কার্যক্রমের ওপর সতর্ক নজর রাখছে। সু চির নেতিবাচক ভূমিকা ও কর্মকাণ্ড তাদের নজর এড়ায়নি।
গত ২৫ আগস্ট থেকে মিয়ানমারের রাখাইনে সেনাবাহিনীর দমন অভিযানের মুখে লাখ লাখ রোহিঙ্গার পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়ার প্রোপটে বিশ্বজুড়ে সমালোচনার মুখে পড়েন দেশটির স্টেট কাউন্সিলর পদ নিয়ে কার্যত সরকারপ্রধান অং সান সু চি।
রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞের কথা প্রকাশ হওয়ার পর শান্তিতে নোবেলজয়ী সু চির পদক প্রত্যাহার হয়েছে বেশ কয়েকটি। তাকে দেয়া ‘ফ্রিডম অব দ্য সিটি অব অক্সফোর্ড অ্যাওয়ার্ড’, ‘ফ্রিডম অব দ্য সিটি অব ডাবলিন’ প্রত্যাহার করে নেয় ব্রিটেনের এই দুই শহর কর্তৃপ। এক যুগ আগে সু চিকে দেয়া সম্মাননা স্থগিত করে ব্রিটেনের দ্বিতীয় বৃহত্তম ট্রেড ইউনিয়ন। জাদুঘর কর্তৃপরে এই পদেেপর বিষয়ে মিয়ানমারের যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.