বরগুনায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২২১টি শিক্ষক পদ শূন্য

পাঠদান ব্যাহত
গোলাম কিবরিয়া বরগুনা

বরগুনায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১১৮টি প্রধান ও ১০৩টি সহকারী শিকের পদ শূন্য রয়েছে। এতে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম ও পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।
প্রাথমিক শিা অফিস সূত্রে জানা গেছে, বরগুনার আমতলী ও তালতলী এ দুই উপজেলায় ২০০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে আমতলীতে ৭৯টি প্রধান, ৪২টি সহকারী ও তালতলীতে ৩৯টি প্রধান, ৬১টি সহকারী শিকের পদ শূন্য।
দীর্ঘ দিন প্রধান ও সহকারী শিকের পদ শূন্য থাকায় বিদ্যালয়ের কার্যক্রম ও পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।
তালতলীর মৌরুবী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিকসহ পাঁচটি পদ থাকলেও কোনো শিক্ষক নেই। ওই বিদ্যালয়ে তাতিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে একজন শিক্ষক মৌখিক আদেশে এসে কাস করছেন। শিক্ষক না থাকায় দফতরি দিয়ে পাঠদান করাতে হয়।
আমতলীর গেরাবুনিয়া, উত্তর গেরাবুনিয়া ও পূর্ব তক্তাবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দু’জন করে শিক্ষক রয়েছেন। এ ছাড়া আমতলীর দক্ষিণ খাকদান, গুলিশাখালী, ডালাচারা, আঙ্গুলকাটা, বালিয়াতলী, ছোটনীলগঞ্জ, উত্তর টিয়াখালী ও টেপুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ৭৯টি এবং তালতলীর গাবতলী, জেবি মনশাতলী, কলারং, কচুপাত্রা ও নলবুনিয়াসহ ৩৯টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই।
এসব বিদ্যালয় চলছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে।
তালতলীর মৌরুবী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মৌখিক দায়িত্বে¡ আসা শিক্ষক শাহ আলম জানান, এ বিদ্যালয়ে নিয়মিত কোনো শিক্ষক নেই। একজন শিক্ষক ছিলেন তিনি মে মাসে অবসরে গেছেন। এর পর থেকে আমি মৌখিক আদেশে এখানে পাঠদান করছি। কিন্তু আমার একার পক্ষে এত শিক্ষার্থীর পাঠদান সম্ভব নয়, তাই দফতরি কবির হোসেনকে দিয়ে পাঠদান করাতে হয়।
উত্তর গেরাবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আসাদুল হক বশির বলেন, দু’জন শিক্ষক দিয়ে পাঠদান করাতে পারছি না। প্রধান শিক্ষক না থাকায় আমাকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে হয়। এতে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।
তালতলী উপজেলা প্রাথমিক শিা অফিসার মনিরুল ইসলাম বলেন, মৌরুবী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোনো শিক্ষক নেই। মৌখিক আদেশে একজন শিক্ষক দিয়ে কাস করাচ্ছি। এ ছাড়া কলারং, কচুপাত্রা ও নলবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একজন করে শিক্ষক রয়েছেন।
আমতলী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মজিবুর রহমান বলেন, ডেপুটেশনে শিক্ষক দেয়ার কোনো ক্ষমতা আমার নেই। এ জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের আদেশ লাগে। তাই কিছু বিদ্যালয়ের শিক্ষক সঙ্কট থাকলেও সমাধান করতে পারছি না। এ ছাড়া প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দিবে মন্ত্রণালয় তাই প্রধান শিক্ষক সঙ্কটের সমাধান এ মুহূর্তে করা যাচ্ছে না।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.