গৃহবধূকে শিকলে বেঁধে নির্যাতন
গৃহবধূকে শিকলে বেঁধে নির্যাতন
জমি নিয়ে বিরোধ

গৃহবধূকে শিকলে বেঁধে নির্যাতন

সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা

নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁওয়ের জামপুর ইউনিয়নের নাগেরকান্দি নয়ামাটি গ্রামে জমি লিখে না দেওয়ায় সখিনা বেগম নামের এক গৃহবধূকে শিকলে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। গৃহবধূর মা-বোন ও তাদের দুই সহযোগী মিলে এই নির্যাতন চালায়।

গত সোমবার দুপুরে ওই গৃহবধূকে শিকলে বেঁধে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে আহত করে। দুদিন আটক থাকার পর বৃহস্পতিবার দুপুরে তাকে সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ ভর্তি করা হয়েছে। এই ঘটনায় সোনারগাঁও থানায় গৃহবধূ নিজেই বাদী হয়ে অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন গৃহবধূ সখিনা বেগম জানান, উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের নাগেরকান্দি নয়ামাটি গ্রামের আব্দুল কুদ্দুসের মেয়ে সখিনা বেগমকে তার বাবা মারা যাওয়ার আগে সম্পত্তি লিখে দিয়ে যান। এ সম্পত্তি তার মা ও বোনকে লিখে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন সময়ে মারধর করে চাপ প্রয়োগ করে।
গত সোমবার দুপুরে এ সম্পত্তি লিখে দেওয়ার জন্য তার মা আসুদা বেগম, বোন শাহিদা বেগম, তার বাড়ির ভাড়াটিয়া ভাদরিকান্দা গ্রামের আল আমিন ও তার স্ত্রী মিলে শিকলে বেঁধে রড দিয়ে পিটিয়ে আহত করে ঘরে আটক করে রাখে। দুদিন আটক থাকার পর বৃহস্পতিবার দুপুরে সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ ভর্তি করা হয়েছে।

গৃহবধূ আরো অভিযোগ করেন, আমার মা ও বোন আমার সম্পত্তি আত্মসাত করার জন্য ষড়যন্ত্র করে আসছে। আমাকে বিভিন্ন সময়ে পাগল বলে মারধর করে। সম্পত্তি লিখে দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করে। আমার বোনের বাড়ির ভাড়াটিয়া আল আমিন আমাকে বিয়ে করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে ব্যর্থ চেষ্টা চালিয়ে আসছে। আমি বিয়েতে রাজি না হওয়ায় আমার বোনের সাথে মিলে শিকলে বেঁধে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে আহত করে।
গৃহবধূর সখিনার মামাতো ভাই জাহিদুল ইসলাম জানান, ঘটনার খবর শুনে বৃহস্পতিবার সকালে তাদের বাড়ি থেকে সখিনাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করি। তার সম্পত্তি আত্মসাত করার জন্য বিভিন্ন সময়ে তাকে পিটিয়ে আহত করে। সোনারগাঁও থানার ওসি মোরশেদ আলম পিপিএম বলেন, ঘটনার কথা শুনেছি। এখনও কেউ অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.