শ্রীলঙ্কায় বিপাকে ভারতীয় দল
শ্রীলঙ্কায় বিপাকে ভারতীয় দল

শ্রীলঙ্কায় বিপাকে ভারতীয় দল

নয়া দিগন্ত অনলাইন

বৌদ্ধ-মুসলিমদের মধ্যে সংঘর্ষ, ক্যান্ডিতে ১০ দিনের জরুরি অবস্থা জারি করেছে শ্রীলঙ্কার সরকার। মঙ্গলবারের এই ঘোষণার পর ৪৮ ঘন্টাও কাটল না, এবার গোটা দেশেই সোশ্যাল মিডিয়ায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে শ্রীলঙ্কা। সরকারের পক্ষ থেকে সে দেশের সমস্ত টেলিকম নেটওয়ার্ক সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে, যাতে আগামী তিন দিন ফেসবুক কলিং বন্ধ করে দেয়া হয়।

দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, শ্রীলঙ্কা সরকারের এই নির্দেশিকার কারণেই বিপাকে পড়েছে ভারতীয় দল। 'টেকস্যাভি' মেন ইন ব্লুদের গোটা ভার্চুয়াল সোশ্যাল লাইফই না কি এখন থেমে গেছে। হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম কোনো মাধ্যমেই আর প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণ করতে পারছেন না রোহিত অ্যান্ড কোং।

শ্রীলঙ্কা সরকারের দাবি, ক্যান্ডিসহ গোটা দেশেই মুসলিমদের বিরুদ্ধে হিংসা ছড়াতে ব্যবহার করা হচ্ছে ফেসবুক কলিং। এই জরুরি অবস্থায় সহিংসতাকে প্রতিহত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

একেই নিদহাস ট্রফির শুরটা ভালো হয়নি শাস্ত্রী শিবিরের। এরই মধ্যে নেট দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আরো 'হতাশ' দলের নবাগতরা। দলের এক সদস্য দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-কে জানিয়েছেন, হোয়াটসঅ্যাপ-এ টেক্সট এলেও 'রিপ্লাই' করা যাচ্ছে না। পরে পরিস্থিতি কিছুটা ভালো হলেও তা একেবারে স্বাভাবিক হয়নি।

শ্রীলঙ্কার টেলিকম মন্ত্রী দেশবাসীর কাছে আবেদন করেছেন, "নিজেদের স্মার্টফোনকে দূরে সরিয়ে রাখুন। ঘৃণা বর্জন করে নতুন শ্রীলঙ্কা গড়তে সাহায্য করুন। এতেই সকলের মঙ্গল।"

জয়টাই চায় বাংলাদেশ
ক্রীড়া প্রতিবেদক

আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। শ্রীলঙ্কায় প্রস্তুতি ম্যাচে জয়ের পর ভারতকে যেভাবে হারিয়েছে শ্রীলঙ্কা, তাতে জয়ের স্বপ্নটা দেখছে এখন বাংলাদেশও। শ্রীলঙ্কাকে জিততে খুব বেশি কষ্ট করতে হয়নি। সাধারণ মানের খেলাটা খেলেই জিতেছে। এতটা সহজে জিতে যাবে তারা সেটা শ্রীলঙ্কা বোধ হয় কল্পনাও করেনি। আসলে ওটা নিছক শ্রীলঙ্কার ব্যাপার। তবে বাংলাদেশ দেখেছে ওই ফলাফল। ভারতকেও এতটা সহজে হারিয়ে দেয়া যায়- সেটা দেখেই আত্মবিশ্বাস এখন টিম বাংলাদেশের। পরাজয়ের যে বৃত্তে বাংলাদেশ, সেখান থেকে উত্তরণের পথ একটিই- জয়। একটা জয়ই বদলে দিতে পারে সব চিত্র। তামিম ইকবাল, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, দলের বাইরে থাকা মাশরাফি বিন মর্তুজা- সবাই এ কথা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন। সাকিব দলের সঙ্গে না থাকলেও এখন শ্রীলঙ্কায়। অস্ট্রেলিয়ায় চিকিৎসা করাতে যাওয়ার আগে দলের সঙ্গে থেকে আত্মবিশ্বাসটা বাড়ানোর কাজে অংশ নেবেন টিমমেটদের সঙ্গে।

আসলে টি-২০ ম্যাচটা খুবই ক্যালকুলেটিভ। বল ও রানে চোখ রেখে এগোতে না পারলে বিপদ। পাওয়ার প্লেতে কত রান করতে হবে। এরপর প্রতি ধাপে কিভাবে রান উঠে আসবে এমন ছক একেই খেলা জরুরি। বাংলাদেশ ওই প্ল্যানেই পিছিয়ে। যদিও এখন এগোচ্ছে। হিসাব কষছে। বিশেষ করে জয়ের যে আকুতি এখন দলের, সেটাই এগিয়ে নিয়ে যাবে তাদের প্রতিনিয়ত। আগেও দেখা গেছে যে ম্যাচটা টার্গেট করে বাংলাদেশ, সেটা জিতেই ছাড়ে। ভারতের বিপক্ষে এ ম্যাচটা জয়ের টার্গেট বাংলাদেশের। জয় চাই। কারণ হারের বৃত্ত থেকে আর ভালো খেলার অর্থ হয় না। সব ভালো খেলাই বৃথা, যদি জয় না আসে। বাংলাদেশের অপেক্ষা সেই জয়ে। শুধু সেখানেই নয়, দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে টেস্ট, ওয়ানডে, টি-২০ তে ছিল জয়শূন্য। হোমে ওয়ানডেতে জয় দিয়ে সূচনা করে তিন জাতি ক্রিকেটের ফাইনালে ওঠার পর গ্রুপ পর্বের রিল্যাক্স ম্যাচে হেরে শুরু।

এরপর আর জয়ের মুখ দেখেনি,ওয়ানডে, টি-২০ ও টেস্ট ম্যাচেও। এভাবে জয়শূন্য থেকে কান্ত টিম বাংলাদেশ। যদিও নিদাহাস ট্রফি একটা ভিন্ন টুর্নামেন্ট। টি-২০ ভার্সন। তবুও এতেই এখন সাফল্যপ্রত্যাশী। ভারতকে নিয়ে যতটা না দুশ্চিন্তা, তার চেয়ে বেশি অশান্তি নিজেদের পারফরম্যান্স নিয়েই। তামিমের সঙ্গে সৌম্য কতটা ভালো করবেন তার ওপর নির্ভর করছে অনেক কিছু। প্র্যাকটিস ম্যাচে লিটন দাসের ঝড়ো ব্যাটিং ও নতুন করে দলে তার উপস্থিতি জরুরি করে তুলেছে। এ ছাড়া মুশফিক তো ফর্মেই।

মাহমুদুল্লাহও গত বিপিএল থেকে ভালো খেলছেন। লোয়ার মিডল অর্ডারসহ বোলিংটা যথার্থ হলেই চিন্তার আর কারন নেই। তাসকিন ও রুবেলের প্র্যাকটিস ম্যাচে ভালো করার আশা জাগিয়েছেন। শ্রীলঙ্কার উইকেট মিরপুর শেরেবাংলার মতো নয়। এখন লঙ্কানরা স্পিনসহায়ক উইকেট ছেড়ে বেড়িয়ে আসতে শুরু করেছে। চেষ্টা করছে তারা ফাস্ট উইকেট করতে। যেমনটা করছে পাকিস্তান।

এটা পজেটিভ। সবসময় স্পিন সফল হবে এমনটা নয়। বিশেষ করে বাংলাদেশের স্পিন যেখানে নিজের মাটিতেই বেশি কার্যকর। সে তুলনায় পেস অ্যাটাক যথেষ্ট সমৃদ্ধ। দলে হেড কোচ কোর্টনি ওয়ালশও পেসার নিয়েই কাজ করেছেন বেশি। ফলে উইকেট থেকে যদি পেসারেরা সহায়তা পান সেটা আশার কথা। যদিও ভারতের ব্যাটসম্যানদের আটকানো একটা বিশাল চ্যালেঞ্জও। দলে নিয়মিত একাদশের অনেকেই নেই বটে, কিন্তু যারা রয়েছেন তারাও ঘুরেফিরে তো জাতীয় দলেই খেলেন।

তা ছাড়া দলটি নিজেদের মাটিতে যেমন দুর্দান্ত তেমনি দক্ষিণ আফ্রিকা সফরেও খেলে এসেছে চমৎকার এক সিরিজ। সব মিলিয়ে তারাও প্রথম পরাজয়টা সামলে ওঠার আপ্রাণ চেষ্টা চালাবে। বড় কথা বাংলাদেশ এখনো জিতেনি। শেষ ম্যাচটা হয়েছিল ওয়ার্ল্ড টি-২০ তে। যেখানে নিশ্চিত জয়ের ম্যাচটা জিতে নিয়েছিল ভারত ১ রানে। ফলে এ ম্যাচে পুরনো চিত্রটা বদলে দেয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করবে বাংলাদেশ, সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.