‌‘‌লাভ জিহাদ’ খারিজ, স্বামীর সঙ্গেই থাকবেন নওমুসলিম হাদিয়া
‌‘‌লাভ জিহাদ’ খারিজ, স্বামীর সঙ্গেই থাকবেন নওমুসলিম হাদিয়া

‌‘‌লাভ জিহাদ’ খারিজ, স্বামীর সঙ্গেই থাকবেন নওমুসলিম হাদিয়া

নয়া দিগন্ত অনলাইন

অবশেষে জয় হলো প্রেমের। শীর্ষ আদালতের ডিভিশন বেঞ্চে স্বীকৃতি পেল হাদিয়ার বিয়ে। সাফিনকে ভালোবেসেই মুসলিম ধর্ম গ্রহণ করে বিয়ে করেছিলেন হাদিয়া। সেকথা একাধিকবার বলেও কোনো লাভ হয়নি। মেয়ে লাভ জিহাদের শিকার দাবি করে কেরল হাইকোর্টে মামলা করেছিলেন হাদিয়ার বাবা। উগ্রবাদী হিন্দুরা তাকে এ মামলা করতে উৎসাহিত করেছিল।

কেরল হাইকোর্টের রায়ে সাফিনের সঙ্গে সংসার করার স্বপ্ন প্রায় ভেঙে যেতে বসেছিল হাদিয়ার। হোমিপ্যাথি কলেজের হোস্টেলে একাই থাকতে হচ্ছিল তাকে। স্বামীর সঙ্গে কথা বলার অনুমতি পর্যন্ত ছিল না। কেরল হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিমকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন হাদিয়া। নিজে গিয়ে বিচারকদের সামনে জবানবন্দিও দিয়েছিলেন তিনি। সেই মামলায় বৃহস্পতিবার হাদিয়ার পক্ষেই রায় দিলো শীর্ষ আদালত। কেরল হাইকোর্টের রায়কে সম্পূর্ণ খারিজ করে দিয়ে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে। কোনো প্রাপ্তবয়স্কের বিয়ের সিদ্ধান্ত হস্তক্ষেপ করতে পারে না আদালত। হাদিয়া এবং সাফিন নিজেদের ইচ্ছেয় এক হয়েছেন। হাদিয়াও স্বেচ্ছায় ধর্মান্তরিত হয়েছে। এটা খারিজ করার ক্ষমতা আদালতের নেই।

প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্র, বিচারপতি খানইউলকর ও বিচারপতি চন্দ্রচূড়ের বেঞ্চ হাদিয়ার বিয়ের স্বীকৃতি দিয়ে জানিয়েছে কোনো এজেন্সি বিয়ের তদন্ত করতে পারে না।

সুপ্রিমকোর্ট পর্যবেক্ষণ করে আগেই জানিয়েছিল এনআইএ কখনো দুই প্রাপ্ত বয়স্কের স্বেচ্ছায় বিয়ে নিয়ে তদন্ত করতে পারে না।
যদিও হাদিয়ার বিয়েকে 'লাভ জিহাদ' তকমা দিয়ে সন্ত্রাস যোগের অভিযোগ জানিয়েছেন তার বাবা। তারই প্রেক্ষাপটেই তিনি এনআইএ তদন্ত দাবি করেছিলেন।

ভারতে উগ্রবাদীরা অভিযোগ করছে, মুসলিম তরুণরা বিয়ের ফাঁদ পেতে হিন্দু তরুণীদের ধর্মান্তিত করছে। তারা একে 'লাভ জিহাদ' হিসেবে অভিহিত করার চেষ্টা করছে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.