স্বজনদের সাক্ষাত থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন খালেদা জিয়া
স্বজনদের সাক্ষাত থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন খালেদা জিয়া

স্বজনদের সাক্ষাত থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন খালেদা জিয়া

শফিকুল ইসলাম

বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কারাবন্দী জীবনের ৩০ দিন আজ বুধবার। এই সময়ে পরিবারের সদস্যরা তার সাথে কয়েক দফা দেখা করেছেন। দেখা করেছেন দলের কয়েকজন সিনিয়র নেতা ও আইনজীবী। তবে ফলমূলসহ বেগম খালেদা জিয়াকে দেখার জন্য কারাগারে যেতে চাইলে অনেককে ফেরতও পাঠানো হয়। ফেরত দেয়া হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষক, চিকিৎসক, পেশাজীবী ও বিভিন্ন প্রতিনিধি দলকে। এ দিকে বিএনপির পাঁচজন শীর্ষপর্যায়ের নেতা খালেদা জিয়ার সাথে কারাগারে সাক্ষাৎ করার জন্য গত রোববার কারা কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছেন। তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে কারা মহাপরিদর্শককে উদ্ধৃত করে এক চিঠিতে জানানো হয়েছে কারাবিধি অনুযায়ী এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আবেদনে পাঁচ নেতার নাম উল্লেখ করা হয়নি। কর্তৃপক্ষ অনুমতি দিলে নেতাদের নাম দেয়া হবে।
প্রসঙ্গত, গত ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিশেষ আদালত জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বেগম খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের সাজা দিলে সে দিনই তিনি কারবন্দী হন।

এর পর তার সাথে পরিবারের সদস্যরা কয়েক দফা সাক্ষাৎ করেছেন। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে দেখা করেন খালেদা জিয়ার বোনের ছেলে শাহরিয়ার আক্তার ডন, সাজিদ ইসলাম ও ভাই শামীম এস্কান্দারের স্ত্রী কানিজ ফাতেমা, মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর শাশুড়ি মুখলেমা রাজাসহ আরো একজন। ওই দিনই জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের বর্তমান ও সাবেক নেতৃবৃন্দ কিছু ফলমূল ও শুকনা খাবার নিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার সাথে দেখা করতে চাইলেও কর্তৃপক্ষের অনুমতি পাননি। কারাফটকের কিছু দূর আগেই পুলিশ তাদেরকে আটকে দেয়। এ সময় মহিলা দলের নেতাদের মধ্যে ছিলেন আফরোজা আব্বাস, নিলোফার চৌধুরী মনি, হেলেন জেরিন খান, রাশেদা বেগম হীরা, বীথিকা বিনতে হোসাইন প্রমুখ।

১৩ ফেব্রুয়ারি দুপুরে খালেদা জিয়াকে কারাগারে দেখা করতে যান ডা: ফরহাদ হালিম ডোনার, ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খানসহ কয়েকজন। কিন্তু অনুমতি না থাকায় তারাও খালেদা জিয়ার সাক্ষাৎ পাননি। এর আগে গত রোববার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী অধ্যাপকেরা খালেদা জিয়াকে দেখতে কারাগারে যান। কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেও তারা সাক্ষাতের অনুমতি পাননি।

তবে গত সোমবার বিকেলে বেগম খালেদা জিয়ার ভাই শামীম এস্কান্দার, স্ত্রী কানিজ ফাতেমা ও ছেলেসহ পরিবারের কয়েকজন সদস্য খালেদা জিয়ার সাথে সাক্ষাৎ করেছেন। একই দিন দুপুরে বেশ কয়েকজন চিকিৎসক খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে কারাগারে যেতে চাইলে কর্তৃপক্ষ তাদেরকে অনুমতি দেয়নি। এরপর সেখান থেকে ফিরে তারা সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার দাবি জানিয়েছেন। এ ছাড়া বিএনপি ও বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরাও খালেদা জিয়াকে দেখতে কারাগারে যেতে চাইলে অনুমতি দেয়া হয়নি।

এ দিকে খালেদা জিয়ার আইনজীবী ও বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া নয়া দিগন্তকে বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাথে আমরা সিনিয়র আইনজীবী ও নেতৃবৃন্দ দেখা করার জন্য গত রোববার কারা মহাপরিদর্শকের কাছে আবেদন করেছি। তারা আমাদের আবেদন গ্রহণ করেছেন, তবে দেখা করার বিষয়ে কিছুই বলেননি।

বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, প্রায় এক মাস ধরে কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। অন্যায়ভাবে তাকে বন্দী রাখা হয়েছে। আর তার সাথে সাক্ষাতের ব্যাপারে অহেতুক কড়াকড়ি আরোপ করা হচ্ছে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.