এভাবেও কেউ নির্যাতন করে!
এভাবেও কেউ নির্যাতন করে!

এভাবেও কেউ নির্যাতন করে!

বরিশাল ব্যুরো

দেড় বছর ধরে বাসায় আটকে শিকল দিয়ে বেঁধে দুই গৃহকর্মীকে অমানুষিক নির্যাতন করা হতো। এমনকি তাদের হাতের আঙুলে সুঁই ফুটানো হতো। নির্যাতন সইতে না পেরে কৌশলে অসুস্থ এক গৃহকর্মী পালিয়ে গিয়ে কয়েক ব্যক্তির কাছে বিষয়টি অবহিত করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ওই গৃহকর্মীকে নিয়ে সোমবার রাতে অভিযান চালিয়ে নির্যাতনকারী দম্পত্তিকে আটক ও অন্য গৃহকর্মীকে উদ্ধার করেছে। ঘটনাটি বরিশাল নগরীর বাজার রোড এলাকার।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার এস এম রুহুল আমিন জানান, গৃহকর্তা বাজার রোডের এ অ্যান্ড জে এন্টারপ্রাইজের মালিক জুয়েল আহমেদ ও তার স্ত্রী ইসরাত জাহান দিনা দীর্ঘ দিন থেকে দুই গৃহকর্মীকে কারণে-অকারণে অমানুষিক নির্যাতনের পর বাসায় শিকল দিয়ে বেঁধে রাখতেন। দুই গৃহকর্মীকে অমানুষিক নির্যাতনের প্রমাণ মিলেছে তাদের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গে ক্ষতের চিহ্ন থাকায়।

পুলিশ কমিশনার আরো জানান, নির্যাতন সইতে না পেরে আশফিয়া (১৩) নামে এক গৃহকর্মী সোমবার সন্ধ্যায় বাসা থেকে পালিয়ে নগরীর দক্ষিণ বাঘিয়া এলাকায় আশ্রয় নেয়। স্থানীয়দের কাছে খবর পেয়ে পুলিশ আশফিয়াকে উদ্ধারের পর পুলিশের কাছে সে নির্যাতনের বর্ণনা করে। পরে তাকে (আশফিয়া) সাথে নিয়ে রাতেই জুয়েল আহমেদের নগরীর বাজার রোডের বাসায় অভিযান চালিয়ে অন্য নির্যাতিত গৃহকর্মী আয়েশাকে (১২) উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় ওই বাসায় নির্যাতনের কাজে ব্যবহৃত শিকল উদ্ধারসহ গৃহকর্মীদের অভিযোগের সত্যতা পেয়ে গৃহকর্তা জুয়েল ও তার স্ত্রী দিনাকে আটক করে পুলিশ।

নির্যাতনের শিকার আশফিয়া জানায়, জুয়েল আহমেদের বাড়িতে দেড় বছর ধরে গৃহকর্মী হিসেবে সে কাজ করত। প্রায়ই গৃহকর্ত্রী ইশরাত জাহান দিনা ও গৃহকর্তা জুয়েল আহমেদ তাকে নির্যাতন করতেন। এমনকি তার পায়ে শিকলে বেঁেধ আঙুলে সুঁই ফুটো করে নির্যাতন করত। নির্যাতন সইতে না পেরে সে পালিয়ে যায়। ওই দম্পত্তি আয়েশা নামে আরেক গৃকর্মীকেও নির্যাতন করতেন বলে জানায় আশফিয়া।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র সহকারী কমিশনার মো: শাখাওয়াত হোসেন বলেন, নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্ত দুইজনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। অন্য দিকে নির্যাতনের শিকার দুই গৃহকর্মীকে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রাখা হয়েছে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.