বিরাট কোহলি ও শিখর ধাওয়ান
বিরাট কোহলি ও শিখর ধাওয়ান

বিরাটের চেয়েও কয়েকগুণ বেতন বাড়ল শিখরের

নয়া দিগন্ত অনলাইন

ভারতীয় অধিনায়ক বিরাট কোহলির চেয়ে কয়েকগুণ বেতন বেড়েছে শিখর ধাওয়ানের। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) নতুন চুক্তিতে টিম ইন্ডিয়ার বাঁ-হাতি ওপেনারে বেতন বাড়াল ১৪০০ শতাংশ, যা বিরাটের চেয়ে অনেক বেশি। এক লাফে ৫০ লাখ থেকে সাত কোটিতে পৌঁছেন ধাওয়ান। আর বিরাট পৌঁছেছেন দুই কোটি থেকে সাত কোটিতে।

গতকাল বুধবার নতুন কমপেনসেশন স্ট্রাকচার প্রকাশ করেছ বিসিসিআই। সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত বোর্ডের কমিটি অফ অ্যাডমিনিস্ট্রেটর্সের সাথে বৈঠকে শাস্ত্রী-কোহলিরা সর্বোচ্চ গ্রেডের ক্রিকেটারদের বার্ষিক চুক্তির টাকা ১২ কোটি করার দাবি জানিয়েছিলেন। সেই দাবি পুরোপুরি মেনে না নিলেও অর্থের পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে তিনগুনেরও বেশি। পাশাপাশি গ্রেডেশন সিস্টেমেও রদবদল হয়েছে। এ-র বদলে সর্বোচ্চ গ্রেড করা হয়েছে ‘এ প্লাস’। চার স্তরীয় গ্রেডেশনে বাকি তিনটি ধাপ আগের মতোই ‘এ’, ‘বি’ ও ‘সি’। গত বছর অক্টোবর থেকে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়সীমায় চুক্তির এই বর্ধিত অর্থ পাবেন ক্রিকেটাররা।

‘এ প্লাস’ গ্রেডের ক্রিকেটাররা পাবেন বছরে সাত কোটি রুপি। এই তালিকায় রয়েছেন অধিনায়ক বিরাট কোহলি, স্টপ-গ্যাপ অধিনায়ক রোহিত শর্মা, শিখর ধাওয়ান ও দুই পেসার ভুবনেশ্বর কুমার এবং জসপ্রীত বুমরাহ। এই পাঁচজন ক্রিকেটারই তিন ফরম্যাটে জাতীয় দলের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেন। অর্থাৎ ৫০ লাখের ‘সি’ গ্রেড থেকে এক ধাক্কায় সাত কোটি সর্বোচ্চ গ্রেডে উত্তীর্ণ হলেন ধাওয়ান। সুতরাং তার বাৎসরিক বেতন বেড়ে ১৪০০ শতাংশ হয়েছে, যা ক্যাপ্টেন কোহলির থেকে চার গুণ বেশি। বিরাটের বেতন বেড়ে হয়েছে ৩৫০ শতাংশ। কারণ দুই কোটি থেকে সাত কোটি পাবেন তিনি।

‘এ’ গ্রেডের ক্রিকেটাররা পাবেন বছরে পাঁচ কোটি রুপি। এই তালিকায় রয়েছেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন, রবীন্দ্র জাদেজা, মুরালি বিজয়, চেতেশ্বর পূজারা, অজিঙ্কা রাহানে, এমএস ধোনি ও ঋদ্ধিমান সাহা।

‘বি’ গ্রেডের ক্রিকেটারদের বার্ষিক পারিশ্রমিক নির্ধারণ করা হয়েছে তিন কোটি। লোকেশ রাহুল, উমেশ যাদব, কুলদীপ যাদব, যুবেন্দ্র চাহাল, হার্দিক পান্ডিয়া, ইশান্ত শর্মা ও দীনেশ কার্তিক ‘বি’ গ্রেডে জায়গা পেয়েছেন।

‘সি’ গ্রেডের বার্ষিক এক কোটির চুক্তিতে রয়েছেন কেদার যাদব, মনিশ পান্ডে, অক্ষর প্যাটেল, করুণ নায়ার, সুরেশ রায়না, পার্থিব প্যাটেল ও জয়ন্ত যাদব।

স্ত্রীর গুরুতর অভিযোগের কারণে বোর্ডের বাৎসরিক চুক্তি হারালেন টিম ইন্ডিয়ার ডানহাতি পেসার মোহাম্মদ সামি। তার বিরুদ্ধে অন্য নারীদের সাথে সম্পর্ক এবং তাকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ এনেছেন স্ত্রী হাসিন জাহান।

 

এমন কাজও করেন বিরাট কোহলি!

তারকা ব্যাটসম্যান কিংবা দলের অধিনায়ক হলেও সবার আগে তিনি যে কতবড় টিম ম্যান, আরো একবার তার প্রমাণ রাখলেন বিরাট কোহলি। তাই ড্রেসিং রুমে বসে সতীর্থের মাথা টিপে দিতেও কোনোরকম দ্বিধাবোধ করেন না তিনি। এই দৃশ্যই এখন ভাইরাল হয়ে গিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।

ঘটনা দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টি-২০ সিরিজের শেষ ম্যাচের। পিঠের চোটের জন্য শনিবারের সিরিজ নির্ণায়ক ম্যাচে খেলতে পারেননি কোহলি। তাই বলে সাথে থেকেও তিনি দলের কোনো রকম কাজে আসবেন না তা কী করে হয়!

কেপটাউনে ম্যাচ চলাকালীন দেখা গেল, ড্রেসিং রুমে বসে ওপেনার শিখর ধাওয়ানের মাথায় ও কপালে ম্যাসাজ করে দিচ্ছেন কোহলি। ব্যাটিং করতে নামার আগে ধাওয়ানকে চাঙ্গা করতেই এই সেবা। একেবারে পেশাদার ম্যাসিওরের মতো দু’হাতে বিবিধ কায়দায় ধাওয়ানের কপালে মালিশ করে দেন ভারত অধিনায়ক। সেই দৃশ্য রীতিমতো ভাইরাল হয়ে যায় সোশ্যাল মিডিয়ায়।

ভারতীয় অধিনায়কের এমন উদার মনোভাবের প্রশংসা করেছেন অনুরাগীরা। অনেকে লিখেছেন, ‘দলের ক্রিকেটারদের থেকে সেরাটা বের করে আনতে যেকোনো কিছুই করতে প্রস্তুত কোহলি। এটাই একজন সেরা অধিনায়কের আসল বৈশিষ্ট্য।’

অতীতে চোটের কারণে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ২০১৭ সালের ধরমশালা টেস্টে দলে না থাকলেও সতীর্থদের জন্য পানি নিয়ে মাঠে দৌঁড়ে যেতে দেখা গেঁছে কোহলিকে। সেই তুলনা টেনে অনেকে আবার লিখেছেন, ‘এমন ক্যাপ্টেনই তো চাই। যে কিনা প্রয়োজনে পানি বইতে পারেন, তেমনি আবার ম্যাসিওরের ভূমিকাও পালন করতে পারেন নির্দ্বিধিায়! সাব্বাস বিরাট!’

এমনিতে মাঠের মধ্যে কোহলি ও ধাওয়ানের সম্পর্কের রসায়ন বেশ মধুর। মাঠের বাইরেও তাই। মাঝেমধ্যেই দেখা যায়, একে অন্যের পরিবারের সাথে ছবি কিংবা সেলফি তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করতে। ম্যাচেও বহুবার এই বোঝাপড়ার পরিচয় দিয়েছেন তারা। এখনও পর্যন্ত আটবার দ্বিতীয় উইকেটে এক শ'র বেশি রানের পার্টনারশিপ গড়ে তুলেছেন কোহলি-ধাওয়ান জুটি। সেই সুবাদে তারা ইতোমধ্যে স্পর্শ করেছেন সৌরভ গাঙ্গুলি ও রাহুল দ্রাবিড়ের দ্বিতীয় উইকেটে মোট আটবার এক শ'র বেশি রানের জুটি গড়ার রেকর্ড। শনিবার কোহলি না খেললেও তাকে হতাশ করেননি ধাওয়ান। সিরিজ জয়ের ম্যাচে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪৭ রানের ইনিংসটি এসেছে তার ব্যাট থেকেই।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.