সিংড়ায় যত্রতত্র ক্লিনিক : ভুল চিকিৎসায় প্রসুতির মৃত্যু

সিংড়া (নাটোর) সংবাদদাতা

নাটোরের সিংড়ায় ভুল চিকিৎসায় পুবালী বেগম (২৬) নামে এক প্রসুতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। সিংড়া উপজেলার আলহেরা ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ তোলা হয়েছে। নিহত পুবালী বেগম উপজেলার বড়চৌগ্রামের অটোচালক আরিফুল ইসলামের স্ত্রী। এদিকে উপজেলায় যত্রতত্র ভাবে একের পর এক গড়ে ওঠছে ক্লিনিক। আর একের পর এক রোগী মারার অভিযোগও রয়েছে। সেবার পরিবর্তে ক্লিনিকগুলোতে অর্থলোভীরা করছে বাণিজ্য। অদক্ষ ডাক্তার, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও স্যাতসেতে জায়গায় অপারেশন, অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি ছাড়াই অপারেশনের অভিযোগও রয়েছে। মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়াই প্যাথলজিসহ অন্যান্য কার্যক্রম ও চালিয়ে যাচ্ছে দেদারচ্ছে । চুক্তির মাধ্যমে গ্রামের হাতুরী ডাক্তার ও দালালদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলায় গ্রাম্য নিরীহ এসব প্রসূতির মৃত্যু হচ্ছে বলে অনেকে অভিযোগ করেছেন।
এলাকাবাসী ও নিহতের পারিবারিক সুত্রে জানা যায়, অটোরিক্সা চালক আরিফুল ইসলামের অন্তসত্বা স্ত্রী পুবালী বেগমের প্রসব বেদনা উঠলে মঙ্গলবার সিংড়া শহরের আলহেরা ক্লিনিকে নেওয়া হয়। এসময় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ প্রসুতিকে দ্রুত অস্ত্রপ্রচার করার তাগিদ দেন। উপায়ন্তর না দেখে কর্তৃপক্ষের চাহিদা অনুযায়ী অর্থ প্রদান করে পুবালীর অস্ত্রোপ্রচারের সিদ্ধান্ত দেয়। হাসপাতালের স্বত্বাধিকারী ডাঃ আব্দুল আহাদ অস্ত্রোপাচার করেন। অস্ত্রোপচারের পর পুবালী কন্যা সন্তানের জন্ম দেয়। নবজাতক সুস্থ থাকলেও প্রসুতি পুবালীর প্রচুর রক্তক্ষরণ হতে থাকে। হাসাপাতালের ডাক্তার তার ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননা। রাত সাড়ে ৮ টার দিকে হঠাৎ জানানো হয় প্রসুতিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিতে হবে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পক্ষ থেকে ঠিক করে দেয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের অ্যাম্বুলেন্সে প্রসুতিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে নেওয়ার আগেই প্রসুতির মৃত্যু হলেও অ্যাম্বুলেন্স চালক কৌশলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরী বিভাগে প্রসুতির নিথর দেহ নামিয়ে দিয়ে চলে আসে। এসময় হাসাপাতালের জরুরী বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক প্রসুতির আগেই মৃত্যু হয়েছে বলে জানালে নিহতের পরিবার লাশ নিয়ে বাড়ি ফিরে আসে। বুধবার সকাল ১১টার দিকে নিজ গ্রাম বড়চৌগ্রামে জানাজা নামাজ শেষে দাফন করা হয়েছে।
নিহতের স্বামী আরিফুল ইসলাম জানান, ক্লিনিকের ডাক্তার তার স্ত্রীর জন্য চার ব্যাগ রক্ত নিয়েছে। রাত সাড়ে ৮ টার দিকে হঠাৎ করে তারা তার স্ত্রীকে রাজশাহী নিতে বলে। এসময় কি হয়েছে জানতে চাইলে ওই ক্লিনিক থেকে বলা হয়। রক্ত বন্ধ করার জন্য রাজশাহী যেতে হবে। ক্লিনিকের লোকজন নিজেরাই অ্যাম্বুলেন্স ঠিক করে দেয়। আর শতভাগ ভুল চিকিৎসায় তার স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
অ্রাম্বুলেন্স চালক ফোরম্যান জানায়, রোগীকে রাজশাহী মেডিকেলে নামিয়ে র্নাসদের বুঝিয়ে দিয়ে এসেছেন। সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল এসিসটেন্ট খলিল উদ্দিন জানান,হাসপাতাণেলর নিয়ম মেনেই অ্যাম্বুলেন্স দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ আমিনুল ইসলাম জানান, একজন মুমুর্ষ রোগীর কথা ভেবে নিয়ম মেনে রোগীর অভিভাবকদের অ্যাম্বুলেন্স দেওয়া হয়।
এদিকে নাম প্রকাশে একাধিক এলাকাবাসী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধির সাথে কথা বলে জানা যায়, ইতিপূর্বেও ওই ক্লিনিকে একাধিক প্রসূতির ভূল চিকিৎসায় মৃত্যু হলেও কর্তৃপক্ষ প্রভাবশালী হওযায় ওই ক্লিনিকের বিরুদ্ধে কোন আইগত ব্যবস্থা নেয়া যায়নি।
আলহেলা ক্লিনিকের সত্বাধিকারী ডাঃ আব্দুল আহাদ ভুল চিকিৎসার অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও মিথ্যা বলে দাবী করে জানান, রোগীনিকে ভর্তি করার সময় প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। এছাড়া প্রসুতি প্রসবের পর তা কিছুটা বেড়ে যায়। কোন ভুল চিকিৎসার জন্য নয় প্রকৃতির নিয়মেই প্রসুতির রক্তক্ষন হচ্ছিল। অ্যাম্বুলেন্স ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের ঠিক করে দেওয়ার অভিযোগও বানোয়াট। রোগীর লোকজন যখন কোন অ্যাম্বুলেন্স পাচ্ছিলনা তখন তাদের অ্যাম্বুলেন্স পাইয়ে দিতে সহায়তা করা হয়েছে।
সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি লোকমুখে মৌখিকভাবে শুনেছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.