ফাইল ছবি
ফাইল ছবি

খালেদা জিয়ার জামিনের ব্যাপারে আদেশ রোববার

নিজস্ব প্রতিবেদক

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে থাকা বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের ব্যাপারে আগামী রোববার আদেশ দেয়া হবে।

আজ বৃহস্পতিবার খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা জামিন শুনানির বিষয়টি অবহিত করলে আদালত আদেশের জন্য এ তারিখের কথা জানান।

বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের দ্বৈত হাইকোর্ট বেঞ্চে এ মামলার আপিল গ্রহণ ও জামিন শুনানি হয়।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলী, সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি জয়নুল আবেদীন, সম্পাদক মাহবুব উদ্দিন খোকন, অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম ও বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল আজ আদালতকে অবহিত করেন যে, আদালতের আদেশ অনুযায়ী খালেদা জিয়ার রায়ের নিম্ন আদালতের কপি বুধবার হাইকোর্টে আসার কথা ছিল। সে মোতাবেক আজ এ বিষয়ে আদেশের বিষয়টি কার্যতালিকায় থাকার কথা ছিল। পরে আদালত তাদের আদেশের ব্যাপারে সময় নির্ধারণের বিষয়টি জানান।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে বেগম খালেদা জিয়ার আপিল আবেদন শুনানির জন্য গত ২২ ফেব্রুয়ারি গ্রহণ করেন হাইকোর্ট। এ বিষয়ে শুনানি হয় ২৫ ফেব্রুয়ারি। শুনানি শেষে আদালত বলেছিল নিম্ন আদালতের রায়ের কপি আসার পর এ বিষয়ে আদেশ দেয়া হবে।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় সাজা দিয়ে সরাসরি আদালত থেকে নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয় তাকে। তার পর থেকেই তিনবারের সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ওই কারাগারের একমাত্র বন্দী বাসিন্দা।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড. আখতারুজ্জামান। এই মামলায় অন্য আসামি খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমানসহ আরো চারজনকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

পাশাপাশি ছয় আসামির সবাইকে মোট ২ কোটি ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এই অর্থ সবাইকে সমানভাবে ভাগ করে পরিশোধ করতে বলা হয়।

প্রায় ১০ বছর আগে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্বে থাকার সময় এই মামলাটি করেছিল দুর্নীতি দমন কমিশন। মামলায় খালেদা জিয়াসহ মোট ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়।

সেখানে অভিযোগ করা হয়, এতিমদের জন্য বিদেশ থেকে পাওয়া ২ কোটি ১০ লাখ টাকা ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা প্রধানমন্ত্রী হিসাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের দেয়া হলেও, তা এতিম বা ট্রাস্টের কাজে ব্যয় করা হয়নি। বরং সেই টাকা নিজেদের হিসাবে জমা রাখার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে।

কিন্তু আসামিপক্ষ থেকে দেখানো হয়েছে বর্তমানে ওই অর্থ ব্যাংকে গচ্ছিত রয়েছে এবং তা সুদে-আসলে বেড়ে ছয় কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।

দুর্নীতি দমন কমিশনের তখনকার উপ সহকারী পরিচালক হারুন-অর রশিদ (বর্তমানে উপ-পরিচালক) এ মামলার এজাহারে খালেদা জিয়াসহ মোট সাতজনকে আসামি করেন।

বাকি ছয়জন হলেন- খালেদার বড় ছেলে তারেক রহমান, জিয়াউর রহমানের বোনের ছেলে মমিনুর রহমান, মাগুরার সাবেক সাংসদ কাজী সালিমুল হক (ইকোনো কামাল), সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, গিয়াস উদ্দিন আহমেদ ও সৈয়দ আহমেদ ওরফে সায়ীদ আহমেদ।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.