নড়াইলে ইউপি চেয়ারম্যান হত্যা: পুলিশের ভূমিকায় প্রশ্ন

ফরহাদ খান, নড়াইল

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার দিঘলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান লতিফুর রহমান পলাশ (৪৮) হত্যাকান্ডের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বাদীপক্ষের লোকজন। পুলিশ প্রশাসন আসামিদের গ্রেফতার না করে চুপ থাকায় হত্যাকারীরা নতুন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। ইউপি চেয়ারম্যান পলাশ হত্যা পরবর্তী পুলিশের ভূমিকা এবং আসামিপক্ষের বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সমাবেশও অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার বিকেলে লোহাগড়ার পশ্চিম কুমড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এ প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে ইউপি চেয়ারম্যান লতিফুর রহমান পলাশ হত্যার বিচার চেয়ে বক্তব্য রাখেন বড় ভাই জেলা পরিষদের সদস্য মুক্তিযোদ্ধা সাইফুর রহমান হিলু। তিনি অভিযোগ করে বলেন, পলাশ হত্যার ২০ দিন অতিবাহিত হলে পুলিশ আসামিদের গ্রেফতার করছে না। এক্ষেত্রে পুলিশের ভূমিকা রহস্যজনক। এতে করে খুনিরা নতুন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকায় বাদীপক্ষের পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কে আছেন।
এ অভিযোগ অস্বীকার করে সমাবেশে উপস্থিত লোহাগড়া থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, পুলিশ আসামিদের গ্রেফতারে আন্তরিক। ১৫ আসামির মধ্যে ইতোমধ্যে দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ওসি আরো বলেন, আমার ভাইকে হত্যা করলে যতটুকু গুরুত্ব দিয়ে মামলাটি দেখা হতো, চেয়ারম্যান পলাশ ভাই হত্যা মামলাটিও তেমনি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। ওসির এ বক্তব্য শুনে সমাবেশে উপস্থিত এক নারী ওসিকে প্রশ্ন করেন, তাহলে এতোদিনেও সব আসামিদের গ্রেফতার করা হচ্ছে না কেন? ওসি ধৈর্য ধরতে বলেন।
এদিকে, গত ৫ মার্চ রাত ৯টার দিকে দিঘলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান পলাশ হত্যা মামলার আসামিপক্ষের ১০টি বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের বিষয়টি অস্বীকার করেন বাদিপক্ষের লোকজন। এ মামলার বাদী নিহত পলাশের বড় ভাই সাইফুর রহমান হিলু দাবি করে বলেন, কুমড়ি গ্রামের একটি বাড়িও ভাঙচুর এবং লুটপাটের ঘটনা ঘটেনি। হত্যা মামলাকে বিভ্রান্ত করতে আসামিরা এবং তাদের আত্মীয়-স্বজনেরা নিজেদের বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্থ করে বাদীপক্ষের ওপর এ দায় চাপানোর অপচেষ্টা করছে। পুলিশ প্রশাসন আসামিদের গ্রেফতার না করে চুপ থাকায় হত্যাকারীরা নতুন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। আর আসামিপক্ষের লোকজন নিজেদের ঘের থেকে চিংড়ি ও সাদা মাছ জেলেদের কাছে বিক্রি করে দিয়ে বাদীপক্ষের লোকজনের ওপর দোষ চাপাচ্ছে।
জানা যায়, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি দুপুর পৌনে ১২টার দিকে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলা পরিষদ চত্বরে দিঘলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান এবং লোহাগড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক কুমড়ি গ্রামের লতিফুর রহমান পলাশকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। তার শরীরে একাধিক গুলি ও কোপের চিহৃ রয়েছে। ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে লতিফুর রহমান পলাশ আ’লীগের মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করে বিজয়ী হন।
এদিকে, পলাশ হত্যাকান্ডের ঘটনায় গত ১৭ ফেব্রুয়ারি রাতে নিহত পলাশের বড় ভাই জেলা পরিষদের সদস্য মুক্তিযোদ্ধা সাইফুর রহমান হিলু বাদী হয়ে জেলা আ’লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শরীফ মনিরুজ্জামান মনিসহ ১৫ জনের নামে লোহাগড়া থানায় মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় প্রধান আসামি মনিরুজ্জামান মনিকে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মনিরুজ্জামান মনিকে গ্রেফতারের আগেই তার ভাই শরীফ বাকি বিল্লাহকে সন্দেহজনক ভাবে আটকের পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়। ১৫ আসামির মধ্যে দুই ভাইকে গ্রেফতার করা সম্ভব হলেও অন্যরা ধরা-ছোঁয়ার বাইরে রয়েছে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.