স্ম র ণ : আবদুস সাত্তার চৌধুরী

আজ পুঁথি-পাণ্ডুলিপিবিশারদ আবদুস সাত্তার চৌধুরীর মৃত্যুবার্ষিকী। গ্রামের বাড়িতে নিজের সংগ্রহশালায় একটি প্রাচীন পাণ্ডুলিপির পাঠোদ্ধারে নিবিষ্ট থাকাকালে তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হন ১৯৮২ সালের ৮ মার্চ। চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার দক্ষিণ হুলাইন গ্রামে তার জন্ম ১৯১৯ সালের ৩ মার্চ। তার বাবা আবদুল মজিদ চৌধুরী পারিবারিক সূত্রে মনীষী আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের মামাতো ভাই।
গ্রাম থেকে গ্রামে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে তিনি লাঞ্ছনা ও কষ্ট স্বীকার করে পুঁথি ও পাণ্ডুলিপি সংগ্রহ করেছিলেন। উর্দু, আরবি, ফারসি, হিন্দি, সংস্কৃত, পালি ও বর্মি ভাষায় লেখা পাণ্ডুলিপি তিনি পড়তে জানতেন। বাংলা একাডেমি, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় জাদুঘর, চবি জাদুঘর এবং (অধুনালুপ্ত) বাংলা উন্নয়ন বোর্ড তার দুষ্পাপ্য সংগ্রহ দ্বারা হয়েছে সমৃদ্ধ।
তিনি বাংলা একাডেমিকে ৮০টি, জাতীয় জাদুঘরে ২০০ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এক হাজারেরও বেশি নানা ধরনের পাণ্ডুলিপি প্রদান করেছিলেন। ৬৩ বছরের জীবনে ৫০ বছরই তিনি নিয়োজিত ছিলেন পুঁথি, পাণ্ডুলিপি ও লোকসাহিত্য সংগ্রহের শ্রমসাধ্য ও গুরুত্বপূর্ণ কাজে।
তার সংগৃহীত উপকরণ গবেষণার কাজে ব্যবহার করেছেন সৈয়দ আলী আহসান, আহমদ শরীফ, আবদুল করিম, মঈনুদ্দীন আহমদ খান, আবদুল গফুর, আলী আহমদ, রাজিয়া সুলতানা, গোলাম সামদানী কোরায়শী প্রমুখ গবেষক, লেখক ও ইতিহাসবিদ।
১৯৬১ থেকে ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত সাড়ে ছয় বছর বাংলা একাডেমির সংগ্রাহক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। তখন তিনি লোকসাহিত্য বিষয়ে ৬৬টি পাণ্ডুলিপি ছাড়াও বেশ কয়েক শ’ দুর্লভ পুঁথি, সাময়িকী ও পুস্তক বাংলা একাডেমিতে জমা দিয়েছিলেন। এর আগে ২৫ বছর ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষক। প্রফেসর সৈয়দ আলী আহসান ১৯৬৬ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগের প্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার আহ্বানে আবদুস সাত্তার বাংলা বিভাগে পুঁথি সংগ্রাহক হিসেবে যোগ দেন। বিভিন্ন ভাষার বহু পাণ্ডুলিপি, অনেক পুঁথি, দুষ্পাপ্য পুস্তক ও সাময়িকী তিনি সংগ্রহ করেছিলেন এ সময়ে। এগুলো দিয়ে ১৯৭২ সালে গড়ে ওঠে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরির ‘পাণ্ডুলিপি ও দু®প্রাপ্য’ শাখা। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত আবদুস সাত্তার চৌধুরী পাণ্ডুলিপি বিশেষজ্ঞ হিসেবে সেখানে কর্মরত ছিলেন। তার মৃত্যুর পর তার ছেলে মুহম্মদ ইসহাক চৌধুরী দীর্ঘ তিন দশক সেই দু®প্রাপ্য শাখার দায়িত্বে ছিলেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আবদুস সাত্তারের চাকরির মেয়াদ ১৯৭৯ সালে শেষ হলেও তার অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা বিবেচনায় তিন বছর চাকরির মেয়াদ বাড়ানো হয়।
বিশিষ্ট লেখক-গবেষক ড. মাহবুবুল হক জানান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে পাণ্ডুলিপি পাঠদান কার্যক্রম শিক্ষাদানের লক্ষ্যে আবদুস সাত্তার চৌধুরীকে এ বিভাগে খণ্ডকালীন শিক্ষক পদে নিয়োগের প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল বাংলা বিভাগের পক্ষ থেকেই। যদিও তা সম্ভব হয়নি, বাস্তবে এ ক্ষেত্রে তিনি শিক্ষকের ভূমিকাই পালন করে গেছেন। বাংলা বিভাগের অনেক ছাত্রছাত্রী এমনকি কোনো কোনো শিক্ষক পাণ্ডুলিপি পাঠের শিক্ষা নিয়েছিলেন তারই কাছে। তা ছাড়া তিনি নিজ উদ্যোগে পাণ্ডুলিপি পাঠ সহায়ক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু করেছিলেন।
আহমদ মমতাজ

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.