ঢাকা, সোমবার,২৫ মার্চ ২০১৯

বিনোদন

চার তারকার চোখে নারী দিবস

আলমগীর কবির

০৭ মার্চ ২০১৮,বুধবার, ২১:০৯ | আপডেট: ০৮ মার্চ ২০১৮,বৃহস্পতিবার, ১৫:২৪


প্রিন্ট
বাঁ থেকে-তিশা, তারিন, রুনা খান ও বিপাশা

বাঁ থেকে-তিশা, তারিন, রুনা খান ও বিপাশা

মানুষ হিসেবে একজন নারী পরিপূর্ণ অধিকারের দাবিতে সুদীর্ঘকাল যে আন্দোলন চালিয়ে আসছে, তারই সম্মানস্বরূপ ৮ মার্চ পালিত হয় নারী দিবস। এই দিবসটি নিয়ে আমাদের এই আয়োজন সাজানো হয়েছে শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় চার মুখ, বিপাশা হায়াত, তারিন জাহান, রুনা খান এবং নুসরাত ইমরোজ তিশা'র ভাবনা দিয়ে।

বিপাশা হায়াত
অন্তত একটা দিন গোটা বিশ্ব আলাদা করে মনে করে নারীরাই এই জগতের শক্তির উৎস আর প্রেরণা। কিন্তু কাক্সিক্ষত দাবি নারী সমাজ অর্জন করতে পারেনি। সমাজে সম অধিকার প্রতিষ্ঠায় যুগের পর যুগ ধরে নারীরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এই দিনটি আসলে নারীদের অধিকার এবং সম্মান সম্পর্কে আমাদের মনে করিয়ে দেয়। সমাজের প্রতিটি স্তরে নারীদের অবদান অনস্বীকার্য। আসলে বছরের প্রত্যেকটি দিনই নারীর জন্য। একদিন নারী দিবস উদযাপন করে পার করলাম, বিষয়টা তা না। যারা নারীদের নিয়ে কাজ করছেন, তারা যেন সারা বছর তাদের কাজটা অব্যাহত রাখেন। প্রত্যেকেই নিজের অবস্থান থেকে যদি সচেষ্ট থাকেন এবং নিজের কাজ দিয়ে নারীর ক্ষমতায়নটা কতটুকু বুঝিয়ে দেন, তাহলেই নারী দিবসের সার্থকতা। নারীরা এখন পুরুষের সমানতালে এগিয়ে যাচ্ছেন, তারা কোনো অংশে কম নন। নারীরা এগিয়ে যাচ্ছেন আবার তারা বাধাগ্রস্ত হচ্ছেন কিংবা সহিংসতার শিকার হচ্ছেন। তাই নারীদের এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সচেতনতা বাড়ানো ছাড়া গতি নেই। শুধু দিবস নয়, প্রতিদিন, প্রতি মুহূর্তে নারীদের সচেতন হতে হবে। যেমন আমি সবসময়ই সচেতন থাকি, যেন আমার চোখের সামনে কোনো নারী অবমাননা না হন কিংবা আমার জন্য কোনো নারীর ক্ষতি না হয়।

তারিন জাহান

অনেকেই বলেন, নারী দিবস পালন করাটা ঠিক না বা এটা হওয়া উচিত নয়। কিন্তু আমার মনে হয়, প্রতিটি বিষয়ের একটা উদযাপন তো হওয়া দরকার। আমার তো মনে হয়, প্রতি বছর নারী দিবস পালন করা উচিত, আরো জাঁকজমকপূর্ণ হওয়া উচিত। আন্তর্জাতিক নারী দিবস আমাদের বারবার স্মরণ করিয়ে দেয় যে, কেন নারী দিবসের প্রয়োজন হয়েছিল। মানুষ কিন্তু একবারে সবকিছু বুঝতে পারে না বা একেবারই উদ্বুদ্ধ হয় না। কাজেই এ দিবসটি আমাদের এই দিবসের প্রয়োজনীয়তা বারবার মনে করিয়ে দেয়। শুধু গ্রাম নয়, আমাদের শহরেও অসংখ্য বঞ্চিত নারী আছেন। আসলে নারীদের উচিত, নিজেরাই নিজেদের উৎসাহিত করা। নারীদের এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা প্রধান শর্ত নয়। আমি মনে করি, একটি মেয়ে কিন্তু একজন মা। আমি সন্তান জন্ম দিতে পারি। আমার হাতে অনেক কিছুই আছে, বলতে গেলে আমার হাতে পুরো জাতি। এই বিশ্বাসটা যদি নিজেদের মধ্যে থাকে, তাহলে নারীরা অনেকখানি এগিয়ে যাবেন।

রুনা খান

দিবসটি উদযাপনের ফলে নারীদের অবস্থান একটা ভিন্ন জায়গায় এসেছে। নারীদের নিজেদেরই উদ্যোগী হয়ে ভাবনার জায়গাটায় নাড়া দিতে হবে। যে প্রয়োজনীয়তা থেকে নারী দিবসের উৎপত্তি, তার সাথে আজকের প্রেক্ষাপট মিলালে আমি এর পক্ষপাতী সেভাবে নই। তবে এটা যদি মানুষ দিবস হয়ে যায়, তাহলে আমি বেশি খুশি হব। কারণ এ পৃথিবীতে নর ও নারী দুজনকেই নির্যাতিত হতে হয়। আসলে নির্যাতনের ব্যাপারটা মিশ্র। বর্তমান যুগে কর্মক্ষেত্রে, বৈশ্বিক সবক্ষেত্রেই একটু খোলামেলাভাবে দেখতে হবে। তবে আমি বলব, নারীদের এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখতে পারে মিডিয়া।

নুসরাত ইমরোজ তিশা
নারীর অধিকার নিয়ে কি এই একটি দিনই চিন্তা করবো? বছরের এই একটি দিন শুধু নারীদের সম্মান জানানো হবে আর বাকি দিনগুলোতে তারা অবহেলিত থাকবে; এমন হলে এই দিবসের কোনো প্রয়োজন নেই। অনেক ক্ষেত্রেই নারী অধিকার এখন ইতিবাচক হয়ে এসেছে। এসব ভাবনা অনেকটা এগিয়ে গেলেও এখনও আমাদের সমাজে নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা হয়নি। এটা ঠিক যে অধিকার কেউ কাউকে দেয় না। তবে অধিকার আদায় করার জন্য সামাজিক ভাবে একটা সুস্থ চিত্র দাড় করানো দরকার। আমার মনে হয় এই কারনেই নারী দিবসব অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫