পরিবেশের ক্ষতি করছে স্মার্টফোন
পরিবেশের ক্ষতি করছে স্মার্টফোন

যেভাবে পরিবেশের ক্ষতি করছে স্মার্টফোন

আহমেদ ইফতেখার

বর্তমানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে স্মার্টফোন। আগামী ২০৪০ সাল নাগাদ পরিবেশের জন্য আইসিটি খাতের সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর উপাদান হতে চলছে স্মার্টফোন। কানাডার ম্যাকমাস্টার ইউনিভার্সিটির এক গবেষণায় এমন তথ্যই উঠে এসেছে। ম্যাকমাস্টার ইউনিভার্সিটির ডব্লিউ বুথ স্কুল অব ইঞ্জিনিয়ারিং প্র্যাকটিস অ্যান্ড টেকনোলজির সহযোগী অধ্যাপক লোতফি বেলখি জানিয়েছেন, বর্তমানে আইসিটি খাত থেকে কার্বন নিঃসরণের হার দেড় শতাংশ। এমন ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৪০ সাল নাগাদ বিশ্বব্যাপী মোট কার্বন নিঃসরণের ১৪ শতাংশের জন্য দায়ী থাকবে এ খাতটি, যা বৈশ্বিক পরিবহন খাতের প্রায় অর্ধেক। 

প্রতিটি টেক্সট মেসেজ, ফোনকল, ভিডিও আপলোড কিংবা ডাউনলোড প্রক্রিয়া সম্পন্নের জন্য তথ্যকেন্দ্রের প্রয়োজন পড়ে। গ্রাহকসেবা দিতে টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক ও তথ্যকেন্দ্রগুলোকে প্রচুর শক্তি খরচ করতে হয়। বেশির ভাগ তথ্যকেন্দ্রেই জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে উৎপন্ন বিদ্যুতের ব্যবহার হচ্ছে।

জার্নাল অব ক্লিনার প্রডাকশনে গবেষণা প্রবন্ধটিতে গবেষকেরা বলেছেন, কার্বন নিঃসরণে আইসিটি খাত আগের চেয়ে বেশি ভূমিকা রাখছে। সবচেয়ে বেশি কার্বন নির্গমন হয় উৎপাদন ও পরিচালন থেকে। গবেষকেরা ২০০৫ সাল থেকে বিভিন্ন ডিভাইস যেমন স্মার্টফোন, ল্যাপটপ, ট্যাবলেট, ডেস্কটপ, তথ্যকেন্দ্র ও যোগাযোগ নেটওয়ার্ক পণ্যের কার্বন ফুটপ্রিন্ট নিয়ে গবেষণা করেছেন। এই গবেষণার তথ্যমতে, ২০২০ সাল নাগাদ পরিবেশের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর ডিভাইস হবে স্মার্টফোন। স্মার্টফোন চালাতে খুব কম শক্তি ব্যয় হয়। তবে এর কার্বন নিঃসরণের ৮৫ শতাংশই ঘটে ডিভাইস উৎপাদনের সময়। স্মার্টফোন দীর্ঘমেয়াদে ব্যবহার করা সম্ভব হয় না। এর ফলে নতুন ফোন তৈরির প্রয়োজন পড়ে। এ কারণে পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব বাড়ছে।

বিশ্বব্যাপী তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার ও সেবার পরিসর বাড়ছে দ্রুত। এ খাতের কারণে কার্বন নিঃসরণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতাদের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ কমানো নিয়ে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ দেখা যায় না। নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও পরিবেশবান্ধব পদক্ষেপের মাধ্যমে সহজে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের কার্বন নিঃসরণ কমানো যেতে পারে। এজন্য বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সদিচ্ছাই যথেষ্ট।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.