দুই কোরিয়ার মধ্যে চলমান শান্তি প্রক্রিয়ায় জাপান উদ্বিগ্ন কেন?
দুই কোরিয়ার মধ্যে চলমান শান্তি প্রক্রিয়ায় জাপান উদ্বিগ্ন কেন?

দুই কোরিয়ার মধ্যে চলমান শান্তি প্রক্রিয়ায় জাপান উদ্বিগ্ন কেন?

নয়া দিগন্ত অনলাইন

দুই কোরিয়ার শীর্ষ নেতারা আগামী মাসের শেষদিকে ঐতিহাসিক বৈঠকে মিলিত হবেন বলে পিয়ংইয়ং ও সিউল ঘোষণা করেছে। চিরশত্রুভাবাপন্ন দুই দেশের সীমান্তবর্তী বেসামরিক এলাকা পানমুনজমে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

এদিকে দুই কোরিয়ার দু’টি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন প্রতিনিধিদলের পারস্পরিক সফর বিনিময়ের পর দু’দেশের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনের যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে তাতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাপান।

গতমাসে দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত শীতকালীন অলিম্পিক উপলক্ষে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উনের বোন সিউল সফরে যান। ওই সফরের মাধ্যমে দু’দেশের সম্পর্কে বরফ গলতে শুরু করে। ওই সফরের প্রতিক্রিয়ায় সোমবার দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা উত্তর কোরিয়া সফরে যান এবং কিম জং-উনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ওই সাক্ষাত শেষে ঘোষণা করা হয় আগামী মাসে কিম জং-উন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে-ইনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।

পিয়ংইয়ং ও সিউলের মধ্যকার এই শান্তি প্রক্রিয়া প্রমাণ করে, দু’দেশের মধ্যে শত্রুতা ও উত্তেজনায় যে এই দুই দেশের কারো লাভ নেই তা সঠিকভাবে উপলব্ধি করেছে দুই কোরিয়া।

দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে উত্তেজনা প্রশমনের এই প্রক্রিয়া দু’টি কারণে গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে-ইন তার দেশের জনগণকে এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, তিনি উত্তরের সঙ্গে বিদ্যমান সংকট সমাধানের চেষ্টা করবেন।

দ্বিতীয়ত, সিউল আশা করছে দুই কোরিয়ার মধ্যে উত্তেজনা প্রশমিত হলে উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে পিয়ংইয়ংয়ের সম্পর্কে বিরাজমান অচলাবস্থারও অবসান ঘটানো সম্ভব হবে। দক্ষিণ কোরিয়া মনে করছে, আমেরিকা ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যকার সংকট একমাত্র সংলাপের মাধ্যমে নিরসন করা সম্ভব এবং সে সংলাপে সিউল মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করতে পারে।

পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, একমাত্র আলোচনা ও দু’পক্ষের ছাড় দেয়ার মাধ্যমেই উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যকার গত সাত দশকেরও বেশি সময়কার উত্তেজনাকর সম্পর্কের অবসান ঘটানো সম্ভব।

প্রতিবেশী দেশ চীনও মনে করে, আমেরিকার সঙ্গে তাল মিলিয়ে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে শত্রুতা বজায় রাখলে দক্ষিণ কোরিয়ার কোনো লাভ হবে না বরং কোরীয় উপদ্বীপে সামরিক সংঘাত বেধে গেলে দক্ষিণ কোরিয়াই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

এদিকে, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাতে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন এই ঘোষণা দিয়েছেন যে, তার দেশের ক্ষেপণাস্ত্র বা পরমাণু অস্ত্র কখনো দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হবে না। তার এ বক্তব্য সিউলে স্বস্তির পরিবেশ ফিরিয়ে এনেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.