ফিরতি লিগেও রিয়ালের কাছে হারল পিএসজি

নয়া দিগন্ত অনলাইন

চ্যাম্পিয়ন্স লীগের শেষ ষোলর প্রথম লেগে রিয়াল সফরে স্বাগতিক দলের কাছে পরাজিত হবার পর নিজেদের মাঠে অনুষ্ঠিত ফিরতি লেগের ম্যাচেও তাদের কাছে হারল প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)।

বিপুল অর্থ ব্যয়ে গড়া ফরাসি ক্লাবটি মঙ্গলবার প্যারিসে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রিয়াল মাদ্রিদের কাছে হেরেছে ১-২ গোলে। ফলে প্রথম লেগের ৩-১ গোলে হারের পর এই পরাজয়ে ৫-২ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে ইউরো শীর্ষ টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে বাধ্য হয়েছে উনাই এমেরির শিষ্যরা। অপরদিকে জিনেদিন জিদানের শিষ্যরা পৌঁছে গেছে শেষ আটে।

রিয়ালের কাছে এই পরাজয় লজ্জার নয় বলে মন্তব্য করেছেন পিএসজির কোচ এমেরি। তিনি বলেন, ‘শেষ ষোলর বাঁধা পেরুতে না পারাটা হতাশার। তবে রিয়ালের মাদ্রিদের কাছে হারাটা নয়। এগিয়ে যাবার জন্য তারাই বেশী যোগ্য। এ বিষয়ে অন্য কোন বিশ্লেষনের সুযোগ নেই।’

বিশ্বের সবচেয়ে দামী খেলোয়াড় নেইমারের অনুপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে সফরকারী দলের হয়ে গোল দুটি করেছেন পুর্তগাল তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও কাসেমিরো। অপরদিকে স্বাগতিক দলের হয়ে একমাত্র গোলটি পরিশোধ করেছেন এডিনসন কাভানি।

ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয়েছে পিএসজির তারকা মার্কো ভেরাট্টির। যা রিয়ালের কাছে পিএসজির ৫-২ গোলের ব্যবধানে পিছিয়ে পড়তে বেশি ভূমিকা রেখেছে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে প্যারিস জায়ান্টরা। গত বছর এই শেষ ষোল থেকেই বার্সেলোনার কাছে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল ফরাসি দলকে।

এমেরি বলেন, ‘আমাদের প্রধান বিষয় ছিল চ্যাম্পিয়ন্স লীগ। এখন ভবিষ্যতের অন্য কোন বিষয় নিয়ে ভাবার সময় নয়।’ এই হারের ফলে ২০১১ সালে কাতারি বিনিয়োগ আসার পর চ্যাম্পিয়ন্স লীগের কোয়ার্টার ফাইনালে অংশগ্রহণের সুযোগ এখনো অধরাই থেকে গেল পিএসজির কাছে। কারণ ক্লাবটির জন্য বিশেষ করে খেলোয়াড় সংগ্রহের জন্য বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেছে মধ্যপ্রাচ্যের ধনী দেশের বিনিয়োগকারীরা।

গত বছর দল গঠনে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করে পিএসজিকে নতুন চেহারা এনে দেন তারা। বার্সেলোনা থেকে ২২২ মিলিয়ন ইউরোতে নেইমারকে দলে ভিড়িয়ে গড়েছে বিশ্ব রেকর্ড। মোনাকো থেকে কিলিয়ান এমবাপেকে দলে টানার কথাও চূড়ান্ত করেছে। তার জন্য ব্যয় করতে হবে ১৮০ মিলিয়ন ইউরো।

এখনো অবশ্য ইউরো শিরোপা জয়ের আশা ত্যাগ করেনি বিনিয়োগকারীরা। যে কোন মূল্যে ট্রফি জয়ের জন্য উদগ্রীব হয়ে রয়েছেন। এমেরি বলেন, আসলে আমরা খুব দ্রুতই সফলতা চাই। তবে আমি নিশ্চিত পিএসজি সফল হবেই।’

প্রাক ডেস প্রিন্সেসে অনুষ্ঠিত ম্যাচের শুরুর দিকে রিয়াল ছিল কিছুটা অগোছালো। সেই সুযোগে তাদের রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে বেশ কয়েকটি আক্রমণ রচনা করে পিএসজি। কিন্তু নেইমার বিহীন দলের ওই আক্রমণে কোন ধার ছিল না। যে কারণে প্রথমার্ধের খেলা শেষ হয়েছে গোল শূন্য।

তবে দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলই তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতায় লিপ্ত হয়েছে। ওই অর্ধেই হয়েছে ম্যাচের তিনটি গোল। দ্বিতীয়ার্ধের ষষ্ঠ মিনিটেই ম্যাচের প্রথম গোলটি করে রিয়ালকে এগিয়ে দেন ৫ বারের ব্যালন ডি’অঁর খেতাব জয়ী পর্তুগাল সুপার স্টার ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। বাঁ-দিক থেকে লুকাস ভাজকুয়েজের ক্রসে ছোট ডি বক্সে থাকা রোনালদো লাফিয়ে উঠে দর্শনীয় হেডের সাহায্যে লক্ষ্য ভেদ করেন (০-১)। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এটি পর্তুগাল তারকার ১১৭তম গোল।

তবে ৭১তম মিনিটে গোলটি পরিশোধ করে দেন পিএসজির উরুগুয়ে তারকা এডিনসন কাভানি। আর্জেন্টাইন উইঙ্গার ডি মারিয়ার ক্রসে ডাইভিং হেড করেন জেভিয়ের পাস্তোরে। বলটি রক্ষণভাগের খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে ডিবক্সে থাকা কাভানির কাছে গেলে তিনি টোকা মেরে জালে জড়ান (১-১)। এর আগে ৬৬তম মিনিটে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন মার্কো ভেরাট্টি।

৮০তম মিনিটে কাসেমিরোর গোলে সব অনিশ্চয়তার ইতি ঘটে। ডি-বক্সে জটলার মধ্য থেকে তার নেয়া শটের বল ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার মারকুইনহোসের পায়ে লেগে দিক পাল্টে জালে আশ্রয় নেয় (১-২)।

খেলা শেষে রিয়াল কোচ জিনেদিন জিদান বলেন, ‘শুরু থেকেই আমরা সঠিক ফর্ম ধরে রেখে খেলেছি। মাঠে সেরাটা দিয়েছি। এটি ছিল নিখাদ একটি ম্যাচ। এখানে ম্যাচ জয় করা খুব একটা সহজ ছিল না।

এটি ঠিক যে লীগ ও কাপে বর্তমান সময়টি আমাদের ভাল যাচ্ছেনা। তবে এটি ফুটবলেরই একটি অংশ। এই খেলোয়াড়রাই গত দুই বছরে বিপুলসংখ্যক ম্যাচে জয় ছিনিয়ে এনেছে। তবে একই ধারাবাহিকতা ধরে রাখা বেশ কঠিন।’

একই রাতে ইংল্যান্ডের লিভারপুলে অনুষ্ঠিত চ্যাম্পিয়ন্স লীগের আরেকটি ম্যাচে গোল শূন্য ড্র করেছে স্বাগতিক লিভারপুল ও এফসি পোর্তো। তবে হোমও এ্যাওয়ে ম্যাচ মিলিয়ে দুই ম্যাচে ৫-০ গোলে এগিয়ে থেকে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে লিভারপুল।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.