সেকেন্ড হোমে ছুটছে বাংলাদেশিরা, বাড়ছে টাকা পাচার
সেকেন্ড হোমে ছুটছে বাংলাদেশিরা, বাড়ছে টাকা পাচার

সেকেন্ড হোমে ছুটছে বাংলাদেশিরা, বাড়ছে টাকা পাচার

নয়া দিগন্ত অনলাইন

দেশ থেকে টাকা পাচার করে বিভিন্ন দেশের ‘সেকেন্ড হোম’ প্রকল্পে বিনিয়োগ করা হচ্ছে। ২০১৭ সাল পর্যন্ত কেবল মালয়েশিয়ার ‘সেকেন্ড হোমে’ বাংলাদেশি বিনিয়োগকারীদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে তিন হাজার ৬৫৬ জনে, যা বিশ্বে তৃতীয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দোষীদের শাস্তি না হওয়ায় টাকা পাচার বন্ধ হচ্ছে না। অন্যদিকে অবৈধ উপায়ে উপার্জিত টাকা এদেশে খরচ করতে না পারা এবং বিনিয়োগ পরিবেশ না থাকায় এর প্রবণতা বাড়ছে।

২০০২ সাল থেকে বিদেশি নাগরিকদের স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য মালয়েশিয়া অফার করছে ‘মাই সেকেন্ড হোম প্রোজেক্ট’। এতে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বিনিয়োগের প্রবণতা বাড়ছে বাংলাদেশিদেরও।

‘সেকেন্ড হোম প্রকল্পে’র তথ্য বলছে, ২০০৩ সালে ৩২ জন বাংলাদেশি এতে বিনিয়োগ করেছিলেন, ২০১৭ সাল পর্যন্ত যা দাঁড়িয়েছে তিন হাজার ৬৫৬ জনে। প্রকল্পে আবেদনকারী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয়। একইভাবে বিশ্বের অন্যান্য দেশের ‘সেকেন্ড হোমে’ও ছুটছেন বাংলাদেশিরা।

সমালোচকদের মতে, কানাডায় বাংলাদেশিদের সেকেন্ড হোমের নাম ‘বেগম পাড়া’। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ‘সচিব পাড়া’। এছাড়া থাইল্যান্ড, হংকং, সিঙ্গাপুরের সেকেন্ড হোমে বাংলাদেশি বিনিয়োগকারীর সংখ্যাও কম নয়।

অথচ, বাংলাদেশের আইনে, ‘সেকেন্ড হোম প্রকল্পে’ বৈধভাবে বিনিয়োগের সুযোগ নেই। ফলে যারা এতে বিনিয়োগ করছেন, তারা মূলত: টাকা পাচার করছেন।

সম্প্রতি সুইস ব্যাংকের এক প্রতিবেদন বলছে, ২০১৬ সালে বাংলাদেশ থেকে ব্যাংকটিতে জমা হয়েছে পাঁচ হাজার ৬৮৫ কোটি টাকা। আর ১১ বছরে এর পরিমাণ দাঁড়িয়েছে সাড়ে ২৫ হাজার কোটি টাকার বেশি।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, পাচাররোধে আইন থাকলেও, তা প্রয়োগ না হওয়ায় দিন দিন এর প্রবণতা বাড়ছে।

বিশ্বব্যাংক ঢাকা কার্যালয়ের মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, টাকা পাচার ঠেকাতে আইনের পাশাপাশি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলাও জরুরি।

সূত্র : আরটিভি

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.