নিজের অফিসে টেলিফোন রাখতেন না এর আবিষ্কর্তা!
নিজের অফিসে টেলিফোন রাখতেন না এর আবিষ্কর্তা!

নিজের অফিসে টেলিফোন রাখতেন না এর আবিষ্কর্তা!

নয়া দিগন্ত অনলাইন

আবিষ্কারের পরেই বুঝেছিলেন, এ জিনিস যতটা কাজের, ততটাই বিরক্তির কারণ। তাই নিজের অফিসে কখনোই টেলিফোন রাখতেন না টেলিফোনের আবিষ্কর্তা অ্যালেক্সান্ডার গ্রাহাম বেল।

১৮৭৬ সালের মার্চে তথ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন অ্যালেক্সান্ডার গ্রাহাম বেল। সেই টেলিফোন আজ হাতের মুঠোয়। এমন একটি যন্ত্র, যা মাথাব্যথার কারণ, আবার উপশমও। বেল দারুণ বিজ্ঞানীর সঙ্গে বেশ দূরদর্শীও ছিলেন। তাই নিজের অফিসে কখনোই টেলিফোন রাখেননি।

স্কটিশ বিজ্ঞানীর বক্তব্য ছিল, টেলিফোন অফিসে থাকলে তার গবেষণার কাজে ব্যাঘাত ঘটে। তাই আর যেখানেই থাকুক, অফিসে টেলিফোন তিনি ঢোকাতে দেননি।

আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেল সম্পর্কে মুক্ত বিশ্ব জ্ঞানকোষ উইকিপিডিয়ায় লেখা রয়েছে, প্রখ্যাত বিজ্ঞানী ও উদ্ভাবক গ্রাহাম বেল টেলিফোনের অন্যতম আবিষ্কারক হিসেবে সবচেয়ে পরিচিত। তাকে বোবাদের পিতা তথা দ্য ফাদার অফ দ্য ডিফ নামে ডাকা হতো। তার বাবা, দাদা এবং ভাই সবাই একক অভিনয় ও বক্তৃতার কাজে জড়িত ছিলেন এবং তার মা ও স্ত্রী উভয়েই ছিলেন বোবা। এ কারণেই বোবাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে তিনি অনেক গবেষণা করেছেন। টেলিফোন উদ্ভাবনের আগে থেকেই তিনি শ্রবণ ও কথন সংশ্লিষ্ট গবেষণা নিয়োজিত ছিলেন। ১৮৭৬ সালে তাকেই টেলিফোনের প্রথম মার্কিন পেটেন্টের সম্মানে ভূষিত করা হয়।

পরবর্তী জীবনে বেল আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা করেন যার মধ্যে রয়েছে উড়ো নৌকা এবং বিমানচালনবিদ্যা। ১৮৮৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক সোসাইটির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন বেল। তার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য উদ্ভাবন যে টেলিফোন, সেটিকেই তিনি এক উটকো ঝামেলা জ্ঞান করতেন। এজন্যেই নিজের গবেষণা ও অধ্যয়ন কক্ষে কোনো টেলিফোন রাখতেন না।

বেল মারা যাওয়ার পর আমেরিকার সকল টেলিফোনে এক মিনিটের জন্য অবিরাম রিং বাজানো হয়। মার্কিন প্রশাসনের ভাষ্য মতে, যে মহান ব্যক্তি মানুষে-মানুষে যোগাযোগের এ পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন তাকে উপযুক্ত সম্মান দেখানোর জন্যই এমনটি করা হয়েছে।

আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেল ১৮৪৭ সালের তেশরা মার্চ স্কটল্যান্ডের এডিনবার্গে জন্মগ্রহন করেন। এডিনবার্গের ১৬ চারলোটি স্ট্রিটের একটি বাড়িতে একটি পাথরের খোদাই থেকে জানা যায় যে, এটিই তার পরিবারের আবাসস্থল এবং তার জন্মস্থান ছিল। গ্রাহাম বেলের দুইজন ভাই ছিলেন মেলভিল জেমস বেল এবং এডওয়ার্ড চার্লস বেল যাদের দুজনই পরবর্তীতে যক্ষ্মায় মারা যান।

জন্মের সময় তার নাম ছিল আলেকজান্ডার বেল, তবে তার বয়স যখন দশ বছর তখন তিনি তার বাবার কাছে তার বড় দুই ভাইয়ের মধ্যনামের মতো একটি মধ্যনামের জন্য আবদার করেন। তার এগারো তম জন্মদিনে তার বাবা আলেকজান্ডার মেলভিল বেল তারই এক কানাডিয়ান বন্ধুর নাম অনুসারে তার ছোট ছেলের মধ্য নাম রাখেন গ্রাহাম। এর পর থেকেই তার নাম হয় আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেল। তবে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তার পরিবারের সদস্য এবং বন্ধুরা এলেক নামেই ডাকত।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.