তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান

পূর্ব গৌতায় যা চলছে তা সহ্য করা কঠিন : এরদোগান

আনাদোলু

সিরিয়ায় জাতিসঙ্ঘের প্রবর্তিত যুদ্ধবিরতিকে অর্থহীন বলে মন্তব্য করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান। পূর্ব গৌতাসহ সিরিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে বাশার সরকারের অব্যাহত বোমা হামলার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তুর্কি পার্লামেন্টে এরদোগান গতকাল বলেন, ‘পূর্ব গৌতায় যা চলছে তা সহ্য করা কঠিন, তারা মানবিকতার ধার ধারে না।'

তিনি আরো বলেণ, ‘যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়নি, মানুষের কাছে তার কোনো মূল্য নেই।’

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি পূর্ব গৌতায় যে ৩০ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিল জাতিসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদ সেটিকে উদ্দেশ করে এসব কথা বলেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট। আর এটি কার্যকর না হওয়ার জন্যও তিনি জাতিসঙ্ঘকে দোষী সাব্যস্ত করেন। এ জন্য নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ সদস্যের কাঠামোকেও দায়ী করেন তিনি।

প্রসঙ্গত ওই যুদ্ধবিরতি ঘোষণা সত্ত্বেও বাশার বাহিনী ও তাদের মিত্র রাশিয়ার হামলায় গৌতায় ৭৫৬ জন নিহত হয়েছেন গত দুই সপ্তাহে।

রাজধানী দামেস্কের নিকটবর্তী পূর্ব গৌতা এলাকাটিতে প্রায় চার লাখ লোকের বাস। ২০১৩ সাল থেকে বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এটি। সরকার পাঁচ বছর ধরে অবরোধ করে রাখার পর গত ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝিতে সেখানে বিমান হামলা শুরু করেছে।

 

গৌতায় ঢুকেও সরকারি বাহিনীর হামলার মুখে ফিরে এসেছে ত্রাণবহর

ভয়েস অব আমেরিকা

সিরিয়ার অবরুদ্ধ গৌতার পূর্বাঞ্চলে আন্তর্জাতিক ত্রাণবাহী গাড়িগুলো ঢুকতে পারলেও নির্ধারিত কাজ শেষ না করেই তাদেরকে ফিরতে হয়েছে। বিদ্রোহীদের ল্য করে সিরিয়ার সরকারি বাহিনীর চলমান বোমা হামলা ও গোলাগুলির তীব্রতার কারণে ফিরতে হয়েছে ত্রাণবাহী গাড়িগুলোকে।

যুদ্ধের তীব্রতার মুখে ত্রাণতৎপরতা শেষ না করেই সোমবার সন্ধ্যায় দৌমা থেকে দামাস্কাসে ফেরা শুরু করে ত্রাণবাহী ৪৬টি ট্রাক। ইউএনএইচসিআরের সিরিয়া প্রতিনিধি সাজ্জাদ মালিক টুইট করেছেন, গোলাগুলির মধ্যেও আমরা যতটা পেরেছি ত্রাণ দিয়েছি। ওখানকার নাগরিকেরা ভয়াবহ অবস্থার মধ্যে রয়েছেন। জাতিসঙ্ঘের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন ত্রাণ বিতরণ কাজে যাদের নিয়োগ করা হয়েছিল তারা সবাই ভালো আছেন। এ ছাড়া কিছু ওষুধ পরিবহনে রুশ বাহিনীর কাছ থেকে বাধা পাওয়ার কথাও জানিয়েছে জাতিসঙ্ঘ ও রেড ক্রস।

সিরিয়ার বিদ্রোহীদের লক্ষ্য করে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে রুশ সমর্থিত হামলা শুরুর পর এটিই ছিল এ ধরনের সাহায্য পৌঁছানোর প্রথম দফা। ব্রিটেনভিত্তিক সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস বলছে, সোমবার যখন ত্রাণ পৌঁছাচ্ছিল তখনো যে হামলা চালানো হয়েছে তাতে ৬৮ জন মারা গেছেন। গেল তিন সপ্তাহে এ নিয়ে সেখানে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৭৬০-এ।

সংস্থাটির মতে, পূর্ব গৌতার এক-তৃতীয়াংশের নিয়ন্ত্রণ এখন সিরীয় সেনাদের হাতে রয়েছে। বিদ্রোহীদের শক্ত অবস্থানকে দু’টি অংশে বিভক্ত করে ফেলতে তারা আরো অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ট্রাক থেকে ত্রাণ নামানো হচ্ছিল এমন একটি স্থানের এক কিলোমিটারের মধ্যেও বিমান হামলা চালানো হয়েছে বলেও জানিয়েছে অবজারভেটরি। জাতিসঙ্ঘ বলছে, গৌতার পূর্বাঞ্চলে প্রায় চার লাখ মানুষ আটকা পড়েছেন। বিমান হামলা শুরুর দুই সপ্তাহ আগে থেকেই তারা খাদ্য ও ওষুধ সঙ্কটে রয়েছেন বলেও জানিয়েছে জাতিসঙ্ঘ।

এ দিকে রোববারও বাশার আল আসাদ জোর গলায় সাংবাদিকদের বলেছেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে অভিযান চলবে। গৌতায় মানবিক সঙ্কটের যে অভিযোগ পশ্চিমারা তুলেছেন সেটি উড়িয়ে দিয়ে এ ধরনের অভিযোগকে হাস্যকর মিথ্যা বলে দাবি করেছেন তিনি।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.