শঙ্কায় আফগানদের বিশ্বকাপ আশা
শঙ্কায় আফগানদের বিশ্বকাপ আশা

শঙ্কায় আফগানদের বিশ্বকাপ আশা

নয়া দিগন্ত অনলাইন

যে আফগানিস্তান একের পর এক চমক দিয়ে যাচ্ছিল, নিজেদের পরিচয়ে যোগ করেছিল ক্রিকেটের নতুন সম্ভাবনাময়ী হিসাবে। তারাই টানা দুই ম্যাচ হেরে বিশ্বকাপ ভাগ্য নিয়ে শঙ্কার মধ্যে পড়েছে। ৫৪ বলে ২০ রান নিতে পারেনি এই দলটি।

আফগানদের এই চাপটাই পাহাড়সম করে তুলেছিলেন মুজিব উর রহমান ৪২তম ওভারের প্রথম বলে আউট হয়ে। কিন্তু নাটকের শেষ অঙ্ক তখনো বাকি ছিল।
৫৩ বলে ২০ রানের দূরত্বে থেকে শেষ উইকেটের লড়াই শুরু করেন দুই ‘জাদরান’—শাপুর ও দৌলত। এক অভাবনীয় ধৈর্যের পরিচয় দিয়ে এ দুই টেল–এন্ডার আফগানদের ম্যাচটা জয়ের খুব কাছে নিয়ে তরি ডুবিয়েছেন! বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে স্কটল্যান্ডের পর জিম্বাবুয়ের কাছে এ হার নিঃসন্দেহে শঙ্কা বাড়াল আফগানদের।

ব্রেন্ডন টেলরের ৮৯ এবং সিকান্দার রাজার ৬০ রানের সুবাদে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ১৯৬ রানে অলআউট হয় জিম্বাবুয়ে। এ দুই ব্যাটসম্যান দাঁড়াতে না পারলে জিম্বাবুয়ের স্কোর এক শ হতো কিনা সন্দেহ! কারণ টেলর–সিকান্দার ছাড়া দুই অঙ্কে পৌঁছাতে পেরেছেন শুধু দুজন—গ্রায়েম ক্রেমার (১৯*) ও শন আরভিন (১৩)।

সাদামাটা এ লক্ষ্যই তাড়া করতে নেমে মাঝপথে সমর্থকদের ভয় পাইয়ে দিয়েছিলেন রশিদ খানের দল। ৩৬তম ওভার শেষে ৪ উইকেটে ১৬৩ রান ছিল আফগানিস্তানের। কিন্তু পরের ওভারেই নেই ৩ উইকেট! মোহাম্মদ নবী, শরাফুদ্দিন আশরাফ ও রশিদকে তুলে নেন জিম্বাবুয়ের সিকান্দার। ৩৭তম ওভার শেষে আফগানদের স্কোর দাঁড়ায় ৭ উইকেটে ১৬৯। হাতে ৩ উইকেট রেখে ১৩ ওভার দরকার ২৮ রান।

আফগানদের সামনে বলের হিসাব নয়, উইকেট ধরে রাখাই ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ৪০ ও ৪২তম ওভারে আরও ২ উইকেট হারিয়ে জয়ের রাস্তা থেকে প্রায় ছিটকে পড়ার পথেই ছিল দলটি। কিন্তু শেষ উইকেটের দৃঢ়তায় দলটি আবারও ঘুরে দাঁড়ায়।

শাপুর–দৌলত জুটি বাঁধার সময় ৫৩ বলে দরকার ছিল ২০ রান। এখান থেকে দুজন ম্যাচটা টেনে নেন শেষ ওভার পর্যন্ত। শেষ ওভারে জয়ের জন্য ৪ রান দরকার ছিল আফগানদের। প্রথম দুই বলে ১ রান দিলেও তৃতীয় বলে শাপুরকে তুলে নিয়ে জিম্বাবুয়ের ২ রানের নাটকীয় জয় নিশ্চিত করেন রায়ান ভিটোরি। টানা দুই জয়ে গ্রুপ পর্বেই সুবিধাজনক অবস্থানে পৌঁছে গেল জিম্বাবুয়ে।

জিম্বাবুয়ে এ ম্যাচটি জিতলেও শেষ উইকেটে দৌলত ও শাপুরের চোয়ালবদ্ধ লড়াই অনেকের মনে থাকবে। ৭ রান করতে শাপুর খেলেছেন ২৬ বল। অন্যদিকে দৌলত ৩৭ বলে অপরাজিত ছিলেন ১০ রান নিয়ে। তাঁদের আক্ষেপ শুধু দলের তরিটা তীরে ভেড়ানো গেল না!

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.